সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
মূল্যস্ফীতি থেকে জ্বালানি সংকট—অর্থনীতিতে বাড়ছে উদ্বেগ

মূল্যস্ফীতি থেকে জ্বালানি সংকট—অর্থনীতিতে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রথম ছয় মাসে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি দেখছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রধান ৩১টি সূচকের মধ্যে ১৯টিতেই অবনতি হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, মাথাপিছু ঋণ, রাজস্ব আদায়, শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে সূচকের বাকি ১২টিতে। তবে এসব সূচকের অগ্রগতিও টেকসই নয়। অবশ্য, পরিস্থিতি অস্বস্থিকর বললেও হতাশ হওয়ার মতো নয় বলে মনে করে সিপিডি।  অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে সিপিডি। এক মিডিয়া সংলাপে  সোমবার এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। সরকারের প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপ সংক্রান্ত ৯টি খাতের ৩৬২ পর্যবেক্ষণে সিপিডির মূল্যায়নে স্বস্তি ও অস্বস্তির দিকগুলো তুলে ধরা হয়। খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে, শাসন ও প্রশাসন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য, ব্যাংক ও আর্থিক খাত, জ্বালানি ও পরিবহন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা। শুধু ঘোষণার পরিবর্তে বাস্তবে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকেই  সিপিডির মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ‘সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপটি রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিপিডির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সংস্থার সম্মাননীয়  ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অন্যদের মধ্যে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান সংলাপে অংশ নেন।  বেতন বাড়ানো সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো করতে সরকার রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না। বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না, বরং যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে।  তিনি বলেন, এত দেরি না করে শুরুতেই যদি ২০-২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে নুতন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সময় চাইতেন সেটা ভালো হতো। বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না, বরং যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে। এতে সরকারের অন্যান্য কাজও বিঘ্নিত হবে। মূল উপস্থাপনায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত ছয় মাসের মূল্যায়নে এ দুই ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যায়নি; বরং দুই ক্ষেত্রেই এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।  তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। টাকা সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা, অনাদায়ী ঋণ, অর্থপাচার ও রাজস্ব ঘাটতির মতো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে এসব মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গতি দেখা যায়নি।   সিপিডির মূল্যায়নে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমে ৩ শতাংশের নিচে নেমেছে। রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প খাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় মূল্যস্ফীতি, তারল্য সংকট ও বাজারের অস্থিতিশীলতার যে চ্যালেঞ্জ ছিল, ছয় মাস পরও তা পুরোপুরি কাটেনি। সুশাসন প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট ও ‘মব কালচার’ বন্ধের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে পদায়নের বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পরও মব সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream