ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মস্কোয় মার্কিন প্রতিনিধি
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে মস্কোয় পৌঁছেছেন। তাঁদের বহনকারী বিমান শনিবার (৫ আগস্ট) মস্কোয় অবতরণ করে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এ সফর সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র।
সূত্রগুলোর মতে, বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। পরে উইটকফ, কুশনার ও দিমিত্রিয়েভকে বহনকারী গাড়িবহর সরকারি বিমানবন্দর থেকে মস্কোর উদ্দেশে রওনা হয়।
দিমিত্রিয়েভ এর আগেও পুতিন ও মার্কিন প্রতিনিধিদের সব বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি চলতি বছর রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনাতেও ভূমিকা রেখেছেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি নতুন ও নির্দিষ্ট শান্তি প্রস্তাব রয়েছে। তবে তিনি প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও শুক্রবার বলেন, মস্কো সফর শেষে রোববার উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেন সফর করবেন।
তবে সাড়ে চার বছরের এই যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। শুক্রবার ক্রেমলিন পুনর্ব্যক্ত করে, ২০২৪ সালে পুতিন যে শর্ত দিয়েছিলেন তা এখনো বহাল আছে। ক্রেমলিনের দাবি, ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চল সম্পূর্ণ ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে।
অন্যদিকে ইউক্রেন এসব শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ শান্তি আলোচনার পর উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। সমুদ্রপথেও সংঘাত বেড়েছে।
স্থলযুদ্ধে ফ্রন্টলাইন তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও রাশিয়া ধীরে ধীরে দনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোতে প্রায় ৩০টি হামলা ভোক্তা অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে।
এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার একটি রুশ ড্রোন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরেও আঘাত হানে। এটি টানা দশম দিনের মতো রাজধানীতে ভারী হামলার ঘটনা। জেলেনস্কি এ হামলার জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।