ভারতে বিষাক্ত মদ পানে মৃত্যু, অসুস্থ আরও ১০ জন
বিষাক্ত মদ পানে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের সাগর জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও দশজনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাজ্য প্রশাসন ঘটনার পর দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গ্রামে জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে এবং আগাম সতর্কতা হিসেবে স্থানীয় ছয়টি মদের দোকান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, নিহতদের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে চিকিৎসকেরা ধারণা করছেন, এটি মিথাইল অ্যালকোহলের বিষক্রিয়া হতে পারে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণমাধ্যমকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের অবিলম্বে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করব এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব। আমাদের সরকার এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।’
ইতিমধ্যে প্রশাসনিক দল ও চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে।
অসুস্থদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগীদের শরীরে কিছু বিশেষ উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সায়ানোসিস বা ত্বক নীল হয়ে যাওয়া এবং মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া। এ ছাড়া বমি, তীব্র মাথাব্যথা ও জ্বরের মতো লক্ষণও দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক দল ও চিকিৎসকেরা সাগর জেলার নৌরা ও ঘুগরুসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালাচ্ছেন। সাগরের মুখ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সিএমএইচও) ডা. দেবেশ পাতেরিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের একাধিক দল উপদ্রুত গ্রামগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। রোগীদের যেসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তা মিথাইল অ্যালকোহলের বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’
ডা. দেবেশ আরও জানান, আশঙ্কাজনক রোগীদের প্রাথমিক স্থিতিশীল করে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে, গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যারা মদ পান করেছেন বা যাদের মধ্যে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিয়েছে, তাঁরা যেন অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করেন।
এ ট্র্যাজেডির পর এলাকায় অবৈধ ও ভেজাল মদ বিক্রি বন্ধে স্থানীয় আবগারি বিভাগের নজরদারি ও ভূমিকা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগেই একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদ ব্যবসায়ী ‘বোম্বে হুইস্কি’ নামে একটি কৃত্রিম ও ভেজাল মদের ব্র্যান্ড বিক্রির বিষয়ে আবগারি বিভাগে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া মাত্র চার দিন আগে লাইসেন্সধারীদের সঙ্গে আবগারি কর্মকর্তাদের এক বৈঠকেও অবৈধ মদ বিক্রির বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হয়েছিল।
অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মদের উৎস, সরবরাহকারী এবং পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল খতিয়ে দেখতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।