নরসিংদীতে ১০৯-এ ফোনে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বন্ধ হলো বিবাহ
নরসিংদী সদর উপজেলার নুরালাপুর ইউনিয়নের আলগী এলাকায় সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক চতুর্দশী কিশোরীর বাল্যবিবাহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর সচেতনতা ও জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯-এ ফোন করার মাধ্যমে এ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে।জানা যায়, কোনো ধরনের বৈধ নিবন্ধন ছাড়াই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কিশোরীকে পাত্রপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা ১০৯ নম্বরে কল করে প্রশাসনকে অবহিত করেন।নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকারের নির্দেশনায় ঘটনাস্থলে যান মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, নরসিংদীর প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সরকার। তিনি উপস্থিত সবাইকে বাল্যবিবাহের আইনি ও সামাজিক ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করেন।পরে কিশোরীর অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করা হয় যে, মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে তার বিয়ে দেওয়া হবে না। ফলে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই বাল্যবিবাহটি বন্ধ করা হয়।কিশোরীর বাবা-মা বলেন, আত্মীয়-স্বজনের পরামর্শে তারা ভুল সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিলেন। প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগে তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং মেয়ের বৈধ বয়স পূর্ণ হলে একই পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এদিকে এলাকাবাসীও ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সচেতন থাকার অঙ্গীকার করেন। তারা জানান, কোনো লোভ বা সামাজিক চাপে নিজেদের সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেবেন না।শেষ পর্যন্ত বরপক্ষকে হাসিমুখেই বিদায় জানিয়ে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা বাতিল করা হয়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ অভিযানে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ফিল্ড সুপারভাইজার সুমন পাইক এবং মাধবদী থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।