রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
শিক্ষার্থী থেকে প্রভোস্ট, শামসুল হক হলে আবুল মঞ্জুরের নতুন অধ্যায়

শিক্ষার্থী থেকে প্রভোস্ট, শামসুল হক হলে আবুল মঞ্জুরের নতুন অধ্যায়

মোঃ আবু হানিফ, বাকৃবি প্রতিনিধি:বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শহীদ শামসুল হক হলের নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর খান। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে হলটির প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়াল।শুক্রবার (২১ আগস্ট) দায়িত্ব হস্তান্তর ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নতুন প্রভোস্টকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন অধ্যাপক আব্দুল আওয়াল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, বাকৃবি সোনালী দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ কে এম আদহাম, এবং বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমানসহ হলের শিক্ষার্থীরা।দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর খান বলেন, ছাত্রাবস্থায় এই হলে আমি ছয় বছর ছিলাম। এই হলের প্রতিটি ইট, প্রতিটি করিডোর, প্রতিটি কোণ আমার খুব পরিচিত। তাই প্রভোস্ট হিসেবে এই হলের দায়িত্ব নেওয়া আমার কাছে একই সঙ্গে গর্বের ও আবেগের।হলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হলের উন্নয়নে যে সাজেশনগুলো আসছে, সেগুলো বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। হলকে আরও ছাত্রবান্ধব, সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে যা যা করা দরকার, তা করার চেষ্টা থাকবে। তবে এ কাজ একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, এর আগে আমি ফজলুল হক হল ও শহীদ নাজমুল আহসান হলে হাউজ টিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বিভিন্ন সময়ে হল প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে আজ হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ ৩১ বছরের পথচলা আমার জীবনের একটি গৌরবময় অধ্যায়। আমি বিশ্বাস করি, পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমে আমরা হলকে আরও সুন্দর ও ছাত্রবান্ধব করে গড়ে তুলতে পারব।বিদায়ী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলের যে দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করেছিল, আমি আমার সাধ্যমতো তা পরিচালনা করার চেষ্টা করেছি। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসন থেকে একজন সুযোগ্য উত্তরসূরি নির্ধারণ করা হয়েছে। আমি মনে করি, প্রশাসন একদম সঠিক ব্যক্তিকেই বেছে নিয়েছে।নতুন প্রভোস্টের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা, সততা ও প্রজ্ঞা দিয়ে এই হলকে আগামী দুই বছরে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমার যেসব অসমাপ্ত কাজ রয়েছে, তিনি সেগুলো সম্পন্ন করবেনই। পাশাপাশি হলকে আরও অনেক নতুন কিছু উপহার দেবেন বলে আমি আশাবাদী।

প্রাণিসম্পদ খাতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।‘ট্রান্সলেটিং ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনটু সাসটেইনেবল লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ’ প্রতিপাদ্যে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও ভেটেরিনারিয়ান অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের মূল দুই দিনে মোট ৩১৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ১১৬টি মৌখিক ও ২০২টি পোস্টার উপস্থাপনা। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রবিন এল্ডার্স সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এবারের সম্মেলনে প্রাণীর সংক্রামক রোগ, ভ্যাকসিন উন্নয়ন, মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস, খাদ্য নিরাপত্তা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স, প্রাণিসম্পদ উৎপাদন, জনস্বাস্থ্য, বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণির স্বাস্থ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং ওয়ান হেলথভিত্তিক বিভিন্ন গবেষণা এতে স্থান পেয়েছে।বিএসভিইআরের সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে তা কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা জোরদারে দেশি গরুর দৈনিক গড় দুধ উৎপাদন চার লিটার, ছাগলের এক লিটার এবং বছরে অন্তত ১৫০টি ডিম দেওয়া মুরগির জাত উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে স্থানীয় জীবাণু ব্যবহার করে দেশে প্রাণিসম্পদের টিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।বাকৃবি উপাচার্য আরও বলেন, গত ৬৫ বছরে দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞানের একটি ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে কাজ করছে। কৃষি, ভেটেরিনারি ও মৎস্য খাতের জাতীয় নীতি প্রণয়নে বাকৃবির বিশেষজ্ঞদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্ঞানকেন্দ্রের গবেষকদের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা উচিত নয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদের রোগমুক্ত ও নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি। এ খাতে যত বেশি গবেষণা হবে, ততই এর উন্নয়ন হবে। ভেটেরিনারি খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি বিভাগে একটি করে বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল করার পরিকল্পনা রয়েছে।ভেটেরিনারিয়ানদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁদের চাকরির সুযোগ তৈরির বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অর্থমন্ত্রী ও অর্থসচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিশারিজ খাতেও প্রায় ৫০০টি পদের অনুমোদন হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রাণিসম্পদ খাতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream