বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
নিজেকেই বলিউডের এক নম্বর অভিনেত্রী বললেন কারিনা কাপুর

নিজেকেই বলিউডের এক নম্বর অভিনেত্রী বললেন কারিনা কাপুর

বলিউডে নিজের অবস্থান নিয়ে বরাবরই আত্মবিশ্বাসী অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। এবার জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ হাজির হয়ে নিজেকেই বর্তমান প্রজন্মের বলিউডের এক নম্বর অভিনেত্রী বলে দাবি করেছেন তিনি। স্বামী সাইফ আলি খানের সামনেই এমন মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।সম্প্রতি ‘কফি উইথ করণ ৯’-এর চতুর্থ পর্বের টিজার প্রকাশ করেছেন অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক করণ জোহর। সেখানে অতিথি হিসেবে দেখা যাবে কারিনা কাপুর ও তাঁর স্বামী সাইফ আলি খানকে।এর আগে ২০১০ সালে ‘কফি উইথ করণ’-এর তৃতীয় সিজনে একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন এই তারকা দম্পতি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও একই মঞ্চে তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। তবে টিজারে কারিনার আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রকাশিত টিজারে কারিনার সঙ্গে করণ জোহরের খুনসুটি বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানটির শেষ সিজন নিয়ে নিজের স্বস্তির কথা জানিয়ে কারিনা বলেন, বারবার এই অনুষ্ঠানে আসার প্রয়োজন নেই। তাঁর এমন মন্তব্যের জবাবে করণও রসিকতা করতে ছাড়েননি। এদিকে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কথোপকথনের মধ্যে সাইফ মজা করে বলেন, এই অনুষ্ঠানে তাঁকে কিছুটা বেমানান অতিথি হিসেবে মনে হচ্ছে। তবে টিজারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি আসে যখন করণ জোহর কারিনাকে প্রশ্ন করেন, বর্তমান প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে কে এক নম্বরে? উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করেই যেন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দেন কারিনা। তার আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের পর সাইফ মজা করে বলেন, অন্য অভিনেত্রীদের প্রশংসা করতেও কারিনার আপত্তি থাকা উচিত নয়। অনুষ্ঠানের খেলাধুলার পর্বেও দেখা যায় দম্পতির মজার কথোপকথন। ‘কে’ অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া অভিনেতাদের নাম বলতে বলা হলে সাইফ হঠাৎ ‘কবিতা’ নামটি বলেন। পরে রসিকতা করে যোগ করেন, কবিতার মতো কেউ তো থাকবেই! উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর আবেগঘন একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে ‘কফি উইথ করণ’-এর শেষ সিজনের ঘোষণা দেন করণ জোহর। এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ২২ বছরের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। করণ জানান, ২০০৪ সালে অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা বাবার কাছে তুলে ধরলে প্রযোজক যশ জোহর এর সাফল্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে কথোপকথন দেখার জন্য দর্শক কেন অর্থ ব্যয় করবেন, এমন প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানটি ভারতীয় বিনোদনজগতের অন্যতম আলোচিত আয়োজনে পরিণত হয়। আবেগাপ্লুত করণ আরও বলেন, এই অনুষ্ঠান তাঁর জীবনে অনেক কিছু দিয়েছে। তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রেম, বন্ধুত্ব, বিয়ে ও নানা বিতর্ক নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে ‘কফি উইথ করণ’ একসময় দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। এবারের সিজনে ইতোমধ্যে সালমান খান, রশ্মিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরকোন্ডা এবং জাহ্নবী কাপুর ও বরুণ ধাওয়ানের মতো তারকারা অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি

মুক্তির আগেই বড় চুক্তি, আলোচনায় শাহরুখের ‘কিং’

মুক্তির আগেই বড় অঙ্কের ব্যবসা করে আলোচনায় এসেছে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের নতুন সিনেমা ‘কিং’। সিনেমাটির বিদেশি পরিবেশনা স্বত্ব ১৭৫ কোটি রুপিতে কিনে নিয়েছে ফারস ফিল্মস। ভারতীয় সিনেমার বিদেশি স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে এটিকে নতুন রেকর্ড বলে জানিয়েছে বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পিঙ্কভিলা।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘কিং’ সিনেমার জন্য ১৭৫ কোটি রুপির ন্যূনতম গ্যারান্টি বা এমজি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে কোনো ভারতীয় সিনেমার বিদেশি পরিবেশনা স্বত্বের জন্য ১০০ কোটি রুপিও দেওয়া হয়নি।ফলে মুক্তির আগেই এমন বড় চুক্তি সিনেমাটি ঘিরে দর্শক ও পরিবেশকদের প্রত্যাশা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার মুক্তির পর বক্স অফিসে শাহরুখের ‘কিং’ কতটা সাফল্য পায়, সেটিই দেখার বিষয়। এর আগে শাহরুখ খানের সিনেমাগুলোর বিদেশি পরিবেশনার দায়িত্ব সাধারণত থাকত যশরাজ ফিল্মসের (ওয়াইআরএফ) হাতে। ‘কিং’-এর ক্ষেত্রেও শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির কথা ছিল। তবে সেই চুক্তি ছিল কমিশনভিত্তিক। অর্থাৎ, পরিবেশক হিসেবে নির্দিষ্ট ফি নেওয়ার কথা ছিল তাদের; কোনো ন্যূনতম আয়ের নিশ্চয়তা দিতে হতো না। পিঙ্কভিলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে পরিবেশনা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ, এসব অঞ্চলে সাধারণত নিজেদের কার্যালয়ের মাধ্যমে সিনেমা পরিবেশনা করে থাকে ওয়াইআরএফ। বিদেশি বাজারের কিছু অঞ্চলে চড়া দামে স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা থাকায় বিনিয়োগের অর্থ তুলে আনতে ‘কিং’-কে বড় অঙ্কের আয় করতে হবে। পিঙ্কভিলার দাবি, শুধু বিদেশের বাজার থেকেই সিনেমাটি প্রায় ৫ কোটি ডলার, অর্থাৎ ৪৭৫ কোটি রুপি আয় করতে হতে পারে। তুলনায় শাহরুখের ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’—দুটি সিনেমাই বিদেশে প্রায় ৪০০ কোটি রুপি আয় করেছিল। এদিকে হলিউডের দুটি বড় সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ও ‘ডিউন: পার্ট থ্রি’র সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়তে পারে ‘কিং’। ফলে মুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাজারে সিনেমাটির ব্যবসা কেমন হয়, সেদিকে নজর থাকবে। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সুহানা খান, দীপিকা পাড়ুকোন, অভিষেক বচ্চন, রানি মুখার্জি, আরশাদ ওয়ারসি, অনিল কাপুর, জয়দীপ আহলাওয়াত ও রাঘব জুয়েল। ‘পাঠান’-এর পর এই সিনেমার মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো সিদ্ধার্থ আনন্দের পরিচালনায় কাজ করছেন শাহরুখ। আগামী ২৪ ডিসেম্বর ‘কিং’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: এনডিটভি

মুক্তির আগেই বড় চুক্তি, আলোচনায় শাহরুখের ‘কিং’

সন্তান জন্মের পরই আগের চেহারায় ফেরার চাপ দেওয়া উচিত নয়: ক্যাটরিনা কাইফ

একজন নারীর শরীরে সন্তান জন্মের পর কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সে বিষয়ে মানুষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। তিনি বলেন, কোনো নারীর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ করা কিংবা তাকে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য মাতৃত্বের পর চাপ দেওয়া মোটেও উচিত নয়।  নারীদের সন্তান জন্মের পর দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে আসার যে সামাজিক প্রত্যাশা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে ‘বাউন্স ব্যাক’ শব্দবন্ধটির ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি।   সন্তান জন্মের পর কেন একজন নারীকে আবার আগের চেহারায় ফিরে যেতে হবে?—এমন প্রশ্নে ক্যাটরিনা বলেন, মাতৃত্ব জীবনের একটি নতুন অধ্যায়। যে অভিজ্ঞতা একজন নারীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হতে পারে। সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর কেন তাকে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার তাড়া দেওয়া হবে? বরং এ নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং নিজের শরীরের পরিবর্তনগুলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে নারীদের সময় দেওয়া উচিত। মা হওয়ার পর নিজের শরীর ও ফিটনেস নিয়েও সচেতন তিনি। ক্যাটরিনা বলেন,  নিজের শরীর কখন সবচেয়ে বেশি কর্মক্ষম ও সতেজ থাকে, সে বিষয়ে তার ধারণা রয়েছে। তবে সেই অবস্থায় পৌঁছানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে চান না তিনি। আরও পড়ুনআরও পড়ুনদীর্ঘ ২৭ বছরের সুখের সংসারের রহস্য জানালেন মাধুরীর স্বামী অভিনেত্রী বলেন, বরং নিজের শরীরের চাহিদা বুঝে, নিজের গতিতেই এগিয়ে যেতে চান। মাতৃত্বের পর দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে আসার চাপ নারীদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ।  বিশেষ করে তারকাদের ক্ষেত্রে শরীরের পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা মন্তব্য ও কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। ফলে মাতৃত্বের মতো স্বাভাবিক একটি অভিজ্ঞতার পরও অনেক নারীকে চেহারা ও ফিটনেস নিয়ে বাড়তি চাপ সামলাতে হয়। মাতৃত্বের পর নারীর শরীরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় বলে  মনে করেন অভিনেত্রী।  তিনি বলেন, বরং শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, নিজের সুস্থতার দিকে নজর দেওয়া এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। অভিনেত্রীর এই অবস্থান মাতৃত্বের পর নারীদের শরীর নিয়ে প্রচলিত ধারণা ও সামাজিক প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। তার বক্তব্যের মূল বার্তা— প্রতিটি নারীর মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের শরীরকে সময় দেওয়া এবং পরিবর্তনগুলোকে সম্মান করাই জরুরি বলে মনে করেন তিনি। 

সন্তান জন্মের পরই আগের চেহারায় ফেরার চাপ দেওয়া উচিত নয়: ক্যাটরিনা কাইফ

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের চাপ নিয়ে মুখ খুললেন রাধিকা

পর্দায় সাহসী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বলিউডের অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে পরিচিত। তবে তিনি চরিত্রের প্রয়োজনে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করা আর অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘনিষ্ঠ বা নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের চাপ দুটিকে এক করে দেখার বিরোধিতা করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।রাধিকা জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে চার-পাঁচটি সিনেমায় নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করার পর তার সম্পর্কে ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল। তারা মনে করতেন, যেহেতু তিনি আগে এমন দৃশ্যে অভিনয় করেছেন, তাই পরবর্তী কাজেও সহজেই এ ধরনের দৃশ্যে রাজি হয়ে যাবেন।অভিনেত্রীর ভাষ্য, কোনো দৃশ্যে চুম্বন রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে অনেক সময় বলা হতো, ‘একটু করে নাও’, এমনকি ১৫ সেকেন্ডের জন্য ইম্প্রোভাইজ করার কথাও বলা হতো। রাধিকা জানান বিষয়টি তাকে অস্বস্তিতে ফেলত।এমনকি একটি অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং নিয়েও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। রাধিকা বলেন, তাকে শার্টের বোতাম না লাগিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, অ্যাকশন দৃশ্যে শার্ট নড়াচড়া করলে সেটি সরে যেতে পারে এ কথা বলার পর তাকে শুধু ব্রা ও অন্তর্বাস পরে দৃশ্যটি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে বিস্মিত হয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, তাকে দিয়ে আসলে কী করানো হচ্ছে।২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া রাধিকার ‘পার্চড’ সিনেমার একটি নগ্ন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, সিনেমাটি শুধু ওই একটি দৃশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অথচ ওই দৃশ্য নিয়েই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি আলোচনা হওয়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন।রাধিকা আরও জানান, তিনি জানতেন ‘পার্চড’-এ তার চরিত্রের প্রয়োজনে ওই দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে। তবে কোনো সিনেমায় চরিত্রের প্রয়োজনে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে এমন দৃশ্য যোগ করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে তার বক্তব্যে সেটিই উঠে এসেছে। বর্তমানে রাধিকা আপ্তেকে ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ অ্যান্থলজি সিনেমায় দেখা যাচ্ছে।সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের চাপ নিয়ে মুখ খুললেন রাধিকা

বয়সের ফারাক পেরিয়ে বলিউডের সুখী দম্পতিরা

বলিউডে অনেক তারকা দম্পতি আছেন যাঁদের বয়সের মধ্যে বেশ বড় ব্যবধান রয়েছে। তবে তাঁদের সম্পর্কে বয়সের এই ফারাক কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার সঙ্গে তাঁরা দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁদের বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যেই একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখা যায়। সঙ্গিনীর চেয়ে বয়সে বেশ বড়, এমন কয়েকজন বলিউড তারকাকে একনজর দেখে নেওয়া যাক।সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুরের বয়সের মধ্যে প্রায় ১০ বছরের ব্যবধান। কারিনা কাপুরকে বিয়ে করার আগে সাইফের বিয়ে হয়েছিল অভিনয়শিল্পী অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে। ১৯৯১ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান—সারা আলী খান ও ইব্রাহিম আলী খান। ২০০৪ সালে সাইফ ও অমৃতার বিচ্ছেদ হয়।এরপর ২০১২ সালে কারিনা কাপুরকে বিয়ে করেন সাইফ। তাঁদের দুই পুত্রসন্তান হলো তৈমুর ও জেহ। সাইফ–কারিনা জুটিকে তাঁদের ভক্তরা ‘সাইফিনা’ বলে ডাকেন। বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতিদের মধ্যে তাঁদের নাম উঠে আসে।বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট। দুজনই বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসঙ্গে ছবি প্রকাশ করেন এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। তাঁদের বয়সের ব্যবধান প্রায় ১১ বছর। ২০২২ সালের এপ্রিলে বিয়ে করেন রণবীর–আলিয়া। তাঁরা অত্যন্ত সাদামাটাভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছিলেন। এই দম্পতির বিয়েতে নিকটাত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব উপস্থিত ছিলেন। নিজেদের ফ্ল্যাটের বারান্দায় রণবীর–আলিয়া চির বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ২০২২ সালের নভেম্বরেই তাঁদের কন্যাসন্তান রাহা কাপুরের জন্ম হয়।বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম শহীদ কাপুর। ২০১৫ সালে মীরা রাজপুতকে বিয়ে করেন তিনি। শহীদ ও মীরার বয়সের মধ্যে ১৪ বছরের ব্যবধান। শহীদের বয়স ৪৫, আর মীরার বয়স ৩১। ২০১৬ সালে তাঁদের কন্যাসন্তান মিশা কাপুরের জন্ম হয়। এরপর ২০১৮ সালে মীরার কোল আলো করে আসে পুত্রসন্তান জেইন কাপুর। শহীদ–মীরা দম্পতি হিসেবে সব সময় সবার ভালোবাসা পেয়ে এসেছে।সঞ্জয় দত্ত ও মান্যতা দত্তের বয়সের মধ্যে ১৯ বছরের ব্যবধান। সঞ্জয় দত্তের বয়স ৬৭ বছর, আর মান্যতার বয়স ৪৮ বছর। তাঁদের দুই সন্তানের নাম হলো শহরান দত্ত ও ইকরা দত্ত।এর আগে ১৯৮৭ সালে অভিনয়শিল্পী রিচা শর্মাকে বিয়ে করেছিলেন সঞ্জয় দত্ত। ১৯৮৮ সালে তাঁদের কন্যাসন্তান ত্রিশলা দত্তের জন্ম হয়। ১৯৯৬ সালে রিচা শর্মার মৃত্যু হয়। এরপর ১৯৯৮ সালে সঞ্জয় বিয়ে করেন রিয়া পিল্লাইকে। ২০০৮ সালে তাঁদের মধ্যেও বিচ্ছেদ হয়।বলিউড অভিনেতা ও নির্মাতা আরবাজ খান তাঁর চেয়ে ২৩ বছরের ছোট শুরা খানকে বিয়ে করেছেন। শুরা পেশায় রূপবিশেষজ্ঞ। ২০২৩ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে কন্যাসন্তান সিপারার জন্ম দেন শুরা। তবে এটা আরবাজের দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে অভিনয়শিল্পী–মডেল মালাইকা অরোরাকে ১৯৯৮ সালে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের একমাত্র পুত্রসন্তানের নাম আরহান খান। দীর্ঘ ১৯ বছরের দাম্পত্য সম্পর্ক ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যায়।অভিনেতা ও মডেল মিলিন্দ সোমান ও অঙ্কিতা কনওয়ারের বয়সের ব্যবধান প্রায় ২৬ বছর। দুজনের বয়সের এতটা ফারাক নিয়ে একসময় অনেক আলোচনা হলেও তাঁরা সেসবকে কখনোই তাঁদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে দেননি। ২০১৮ সালে দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বিয়ে করেন মিলিন্দ ও অঙ্কিতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের একসঙ্গে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রায়ই দেখা যায়। বয়সের ব্যবধান নিয়ে সমালোচনার জবাবও বিভিন্ন সময়ে নিজেদের মতো করে দিয়েছেন তাঁরা।

বয়সের ফারাক পেরিয়ে বলিউডের সুখী দম্পতিরা

অক্ষয়-সাইফের ‘হাইওয়ান’ নিয়ে বক্স অফিসে হতাশা

মুক্তির দ্বিতীয় দিনেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বলিউডের দুই সুপারস্টার জুটি অক্ষয় কুমার-সাইফ আলি খান অভিনীত নতুন সিনেমা ‘হাইওয়ান’। সিনেমাটিকে ১০ কোটি রুপির ঘর পেরোতেও বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। কনিক-এর তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির দ্বিতীয় দিনে ‘হাইওয়ান’ আয় করেছে ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি।  শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সিনেমাটির সার্বিক হল দখল ছিল ১২.৭৭ শতাংশ। সন্ধ্যার শোতে সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি দেখা গেছে। সব মিলিয়ে ভারতে সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি। মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটি আয় করেছিল ৩ কোটি রুপি।  ‘হাইওয়ান’-এর মধ্য দিয়ে ১৭ বছর পর আবারও পর্দায় একসঙ্গে দেখা গেল অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলি খানকে। এর আগে ‘তাশান’-সহ কয়েকটি সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তারা। অক্ষয় কুমারের ক্ষেত্রে সিনেমাটির প্রথম দিনের রিপোর্টেড ভারতীয় গ্রস আয় ৩ কোটি ৬০ লাখ রুপি, যা ‘ভুল ভুলাইয়া’র উদ্বোধনী আয়ের চেয়েও কম। ২০০৭ সালের ওই সিনেমাটি প্রথম দিনে প্রায় ৩ কোটি ৮৮ লাখ রুপি আয় করেছিল বলে জানিয়েছে বক্স অফিস ইন্ডিয়া। অন্যদিকে সাইফ আলি খানের ‘হাইওয়ান’ ২০০৭ সালের ‘তা রা রাম পুম’-এর কাছাকাছি আয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। সিনেমাটি প্রথম দিনে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ রুপি আয় করেছিল। এদিকে ‘হাইওয়ান’ মুক্তির সময় বক্স অফিসে দাপট ধরে রেখেছে ‘হনুমান অংশ’। মুক্তির ৩৭ দিন পার হলেও সিনেমাটির আয় বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এরই মধ্যে ২০০ কোটি রুপির মাইলফলক পেরিয়েছে ছবিটি। ‘হাইওয়ান’-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত অবস্থানে রয়েছে ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’। সিনেমাটির ভারতে মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬০ কোটি ৪৫ লাখ রুপি। প্রিয়দর্শন পরিচালিত ‘হাইওয়ান’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলি খান। সিনেমাটির গল্প শ্যামকে ঘিরে, যিনি একজন দৃষ্টিহীন কেয়ারটেকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারক প্রধানকে হত্যার অভিযোগে ফেঁসে যান তিনি। প্রতিশোধ নিতে খুনি পরশুরাম যখন প্রধানের মেয়ে নন্দিনীর পিছু নেয়, তখন পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে নন্দিনীকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন শ্যাম। তবে তাদের এই যাত্রায় নন্দিনীকে ঘিরে একটি চমকপ্রদ গোপন তথ্য জানতে পারেন তিনি, যা পুরো গল্পের গতিপথ বদলে দেয়।  সিনেমাটির নির্মাণে প্রায় ১৩০ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১১৫ কোটি রুপি প্রযোজনা ব্যয় এবং আরও ১৫ কোটি রুপি প্রিন্ট ও বিজ্ঞাপনে খরচ হয়েছে। 

অক্ষয়-সাইফের ‘হাইওয়ান’ নিয়ে বক্স অফিসে হতাশা

রাতারাতি খ্যাতি, তারপরই আড়ালে মালিনী শর্মা

রাতারাতি পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘রাজ’ সিনেমার মাধ্যমে । বিক্রম ভাট পরিচালিত ২০০২ সালে এই সিনেমায় ডিনো মরিয়ার সঙ্গে তার অভিনয় দর্শকের নজর কাড়েন। এরপর হঠাৎ করেই তিনি বলিউড থেকে। দীর্ঘদিন পর এই অভিনেত্রী জানান, কেন অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। বলছি, অভিনেত্রী মালিনী শর্মার কথা। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের একটি ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মালিনী। সেখানে অভিনয়ে আসা ও সিনেমা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ জানান তিনি। মালিনী জানিয়েছেন, অভিনেত্রী হওয়ার কোনো পরিকল্পনাই তার ছিল না। ‘রাজ’-এ অভিনয়ের সুযোগও অনেকটা হঠাৎ করেই এসেছিল। পরে সিনেমাটি তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিলে সেই জনপ্রিয়তার সঙ্গে কীভাবে এগোবেন, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যান তিনি। এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে মালিনী লেখেন, ‘অভিনেত্রী হওয়ার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমার কখনো ছিল না। ‘রাজ’ হঠাৎ হয়ে গিয়েছিল এবং আমি পরিস্থিতির সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছিলাম। সিনেমাটি মুক্তির পর আমার ওপর হঠাৎ করে যে বিপুল আলো এসে পড়ল, তখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম না। তাই একটু ধীর হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’ তবে মালিনী স্পষ্ট করেছেন, তিনি হঠাৎ করে সবকিছু ছেড়ে দেননি। কিছুদিন সিনেমার আড়ালে কাজ করেছেন। পরে সন্তানদের জন্মের পর তার জীবনের অগ্রাধিকার বদলে যায়। সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, যেভাবে বলা হয় আমি হঠাৎ উধাও হয়ে যাইনি। কিছুদিন ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছি। এরপর আমার জীবনে সন্তানরা আসে এবং তাদের দেখাশোনা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ি।’ অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও মালিনী পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিলেন না। সিনেমার বাইরে নিজের জন্য নতুন একটি জীবন গড়ে তুলেছেন তিনি। ক্যামেরার পেছনে কাজ করার পাশাপাশি ‘দ্য স্লো লোকাল’ নামে একটি ব্র্যান্ডও তৈরি করেছেন। সময়ের সঙ্গে ব্র্যান্ডটির কার্যক্রম ও রূপে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সাহ্যাদ্রি পাহাড় এলাকায় বসবাস করছেন মালিনী। সেখানে একটি ফার্মস্টে পরিচালনা করছেন তিনি। অর্থাৎ বলিউডের আলোঝলমলে জীবন থেকে অনেকটাই দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি একটি জীবন বেছে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তবে ভক্তদের অনেকেই এখনও বড় পর্দায় তাকে দেখতে চান। মালিনী আবার অভিনয়ে ফিরবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। অবশ্য সম্ভাবনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি। এক ভক্ত তাঁকে আবার সিনেমায় ফেরার অনুরোধ করলে মালিনী সংক্ষেপে উত্তর দেন, ‘দেখা যাক। ভাগ্যে থাকলে হবে।’ অভিনেত্রী হিসেবে ‘রাজ’ তার জীবনে হঠাৎ আসা একটি অধ্যায় হলেও সিনেমাটির জনপ্রিয়তা তাঁকে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে দেয়। এরপর বলিউড থেকে সরে গিয়ে সন্তান, প্রকৃতি ও নিজের উদ্যোগকে ঘিরে নতুন জীবন বেছে নিয়েছেন তিনি। আবার কখনো অভিনয়ের জগতে ফিরবেন কি না, সেই উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের হাতেই রেখেছেন মালিনী শর্মা। সূত্র: এনডিটিভি

রাতারাতি খ্যাতি, তারপরই আড়ালে মালিনী শর্মা

রূপালি পর্দার নক্ষত্র, রহস্যে ঘেরা বিদায়

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সিল্ক স্মিথা উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার উপস্থিতি রূপালি পর্দায় ছিল দর্শক টানার অন্যতম বড় আকর্ষণ। তবে তার ব্যক্তিজীবন ছিল সংগ্রাম, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নানা অমীমাংসিত প্রশ্নে ভরা। বিশেষ করে মৃত্যুর আগের রাতে করা কয়েকটি ফোনকল আজও রহস্য হয়ে আছে। ১৯৯৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাতে সিল্ক স্মিথা অভিনেত্রী অনুরাধাকে ফোন করেছিলেন। তাকে নিজের কাছে আসতে বলেছিলেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলার ছিল বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন অনুরাধার পক্ষে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরদিন দেখা করার কথা ছিল দুজনের। একই রাতে অভিনেতা রবিচন্দ্রনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন সিল্ক। তখন শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন রবিচন্দ্রন। ফোনে কথা বলার চেষ্টা হলেও দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে দুজনের কাছেই পৌঁছায় ভয়ংকর খবর—চেন্নাইয়ের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে সিল্ক স্মিথাকে। বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৫ বছর। মৃত্যুর আগের রাতের সেই ফোনকলগুলোতে সিল্ক কী বলতে চেয়েছিলেন, তা আর কখনো জানা যায়নি। তাঁর পরিচিতদের মনে রয়ে গেছে সেই প্রশ্ন। যেভাবে ‘সিল্ক’ হয়ে উঠলেন সিল্ক স্মিথার আসল নাম ভাদলাপতি বিজয়লক্ষ্মী। ১৯৬০ সালের ২ ডিসেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের কোভালি গ্রামে জন্ম তাঁর। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা বিজয়লক্ষ্মীর পড়াশোনা চতুর্থ শ্রেণিতেই থেমে যায়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বয়সে বড় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। বিয়ের দুই বছরের মধ্যেই সেই সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বিজয়লক্ষ্মী। পরে মায়ের সঙ্গে চেন্নাইয়ে চলে যান তিনি। সেখানে একজন অভিনেত্রীর মেকআপ বা টাচ-আপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই কাজ করতে করতেই অভিনয়ের সুযোগ আসে। মালয়ালম পরিচালক অ্যান্টনি ইস্টম্যান তাঁকে ‘ইনায়ে থেডি’ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে সুযোগ দেন। তখনই তাঁর নাম রাখা হয় স্মিথা। পরে পরিচালক ভিনু চক্রবর্তী তাঁর ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সহায়তা করেন। ইংরেজি ভাষা ও নাচ শেখাতেও তাঁকে সাহায্য করেন তিনি। এরপর ১৯৭৯ সালের ‘ভান্দিচক্রম’ সিনেমায় ‘সিল্ক’ নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটি সফল হওয়ার পর সেই নামই তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়। বিজয়লক্ষ্মী হয়ে ওঠেন সিল্ক স্মিথা। ৪৫০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় প্রায় ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে তামিল, তেলেগু, মালয়ালম, কন্নড় ও হিন্দি ভাষার ৪৫০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন সিল্ক স্মিথা। বিশেষ করে তাঁর নাচের দৃশ্যগুলো দর্শকদের মধ্যে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছিল। তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে অনেক প্রযোজক সিনেমায় তাঁকে যুক্ত করতেন। তবে এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে তাঁর জন্য তৈরি হয় নির্দিষ্ট একটি পর্দা-ইমেজ। ক্যাবারে নৃত্যশিল্পী, ভ্যাম্প কিংবা আবেদনময়ী নারী—বেশির ভাগ সময় এমন চরিত্রেই দেখা যেত তাঁকে। ফলে অভিনয়ক্ষমতার অন্য দিকগুলো প্রকাশের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম পেয়েছেন তিনি। বালু মহেন্দ্রর ‘মুন্দ্রম পিরাই’ এবং এর হিন্দি রিমেক ‘সদমা’য় তাঁর ভিন্ন সম্ভাবনার কিছুটা দেখা যায়। দুই সিনেমাতেই অভিনয় করেছিলেন শ্রীদেবী ও কমল হাসান। হিন্দি সংস্করণেও নিজের চরিত্রে অভিনয় করেন সিল্ক। মৃত্যুর আগে লেখা চিঠি নিয়েও প্রশ্ন সিল্ক স্মিথার বাড়ি থেকে একটি চিঠি উদ্ধারের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে চিঠিটির বিষয়বস্তু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে, চিঠির কিছু অংশ স্পষ্টভাবে পড়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে এর বিভিন্ন অনুবাদও প্রকাশিত হয়। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চিঠিতে অভিনয়জীবনে কঠোর পরিশ্রম, মানুষের সুযোগ নেওয়া, একাকিত্ব, ভেঙে যাওয়া প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশার কথা লিখেছিলেন সিল্ক। ‘বাবু’ নামে ডা. রাধাকৃষ্ণনের কথাও সেখানে ছিল বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য মূলত ওই কথিত চিঠির প্রতিবেদিত বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল; স্বাধীনভাবে সব তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। সিল্ক স্মিথার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা হয়। এমনকি তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন জল্পনাও তৈরি হয়েছিল। তবে হত্যার পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মৃত্যুর পরও তাকে ঘিরে সিনেমা সিল্ক স্মিথার জীবন ও পর্দার ইমেজ বহু বছর পরও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আকর্ষণ করেছে। ২০১১ সালে বিদ্যা বালান অভিনীত ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ মুক্তির পর সিনেমাটিকে সিল্ক স্মিথার জীবনের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে প্রযোজক একতা কাপুর জানিয়েছিলেন, সিনেমাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সিল্কের জীবন অবলম্বনে তৈরি নয়। তাঁর পরিবারও সিনেমাটির উপস্থাপনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। পরে কন্নড় ভাষায় ‘ডার্টি পিকচার: সিল্ক সাক্কাথ হট’ এবং মালয়ালমে ‘ক্লাইম্যাক্স’-এর মতো সিনেমাতেও তাঁর জীবন ও পর্দার ইমেজ উঠে আসে। তবে সিল্ক স্মিথাকে ঘিরে আলোচনায় বারবার সামনে আসে তাঁর আবেদনময়ী পর্দা-ইমেজ ও অকালমৃত্যু। আড়ালে থেকে যায় সেই মেয়েটির গল্প—যার পড়াশোনা চতুর্থ শ্রেণিতেই থেমে গিয়েছিল, মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল এবং নির্যাতনের সংসার ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করতে হয়েছিল। মৃত্যুর আগের রাতে পরিচিত মানুষদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন সিল্ক। কী বলতে চেয়েছিলেন, তা আর কখনো জানা যায়নি। সেই অসমাপ্ত কথাই তাঁর জীবনের অন্যতম অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে। সূত্র: এনডিটিভি

রূপালি পর্দার নক্ষত্র, রহস্যে ঘেরা বিদায়

শাহরুখই সৌরসেনীর ‘স্বপ্নের পুরুষ’

ভক্তদের ভালোবাসা সবসময়ই একটু বেশিই বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের প্রতি। যে কারও পক্ষেই আবেগ ধরে রাখা মুশকিলই বটে বলিউড বাদশাহর দেখা পেলে। তবে টালিউড অভিনেত্রী সৌরসেনী মৈত্রের উচ্ছ্বাস যেন ছাপিয়ে গেছে সবাইকে প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর। আর সেই অনুভুতিই অভিনেত্রী প্রকাশ করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের পছন্দ ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খানকে নিজের ‘স্বপ্নের পুরুষ’ বলে উল্লেখ করেন সৌরসেনী। শুধু তাই নয়, অভিনেতাকে নিজের প্রথম ‘ভালোবাসা’ বলেও জানান তিনি। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘শাহরুখ খানের নাম শুনেই আমি উত্তেজিত হয়ে পড়ি। শাহরুখকে আমি খুব ভালোবাসি। আমাদের প্রথমবার কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে দেখা হয়েছিল। একটা ছবি তুলেছিলাম যেটা আমার বাড়িতে বাঁধানো আছে। ছবিটার সঙ্গে আমি মাঝেমধ্যে কথাও বলি। এর পর মণীশ মালহোত্রের দিওয়ালি পার্টিতে দুবার দেখা হয়েছে। প্রথমবার আমি প্রণাম করলাম আমার ভগবানকে। উনি গাল টিপে আদর করেছিলেন। আমি ওকে সরাসরি বলেছিলাম— ‘স্যার, আমি তো আর মেকআপ তুলব না, স্নানও করব না সাত দিন’। তিনি বলেছিলেন— “দূর পাগল মেয়ে, আরও ভালো কাজ করো! মণীশের কাছে তোমার কথা শুনেছি। আরও উন্নতি কর জীবনে”।’  অভিনেত্রী আরও জানান, অনেকে বলেন, প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করো না, মোহভঙ্গ হতে পারে। আমার ক্ষেত্রে উল্টোটা হয়েছে। শাহরুখের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে ওর প্রতি সম্মান আরও বেড়ে গেছে। প্রত্যেক মানুষকে যে শ্রদ্ধা এবং সম্মান দেন তা সত্যিই শিক্ষণীয়। তার ভাষায়, প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করলে অনেক সময় মোহভঙ্গ হতে পারে -এমন কথা অনেকে বললেও তার ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। শাহরুখের সঙ্গে দেখা করার পর তার প্রতি সম্মান আরও বেড়েছে। মাত্র ৯ বছর বয়সে মডেলিংয়ে পা রাখা এই অভিনেত্রী ১৬ বছর বয়সে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন সৌরসেনী। কলকাতার পাশাপাশি বলিউডেও কাজ করেছেন তিনি।  এদিকে সৌরসেনীর মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘নিব্বা নিব্বি’ নিয়েও স্যোশাল মিডিয়ায় আলোচনা চলছে। বেছে বেছে সিনেমায় কাজ করা এই অভিনেত্রী প্রচলিত নায়িকার চরিত্রের বাইরে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বর্তমানে তিনি সিঙ্গেল রয়েছেন বলেও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।

শাহরুখই সৌরসেনীর ‘স্বপ্নের পুরুষ’

৪ মিনিটের দৃশ্য বাদের পর সেন্সর ছাড়পত্র পেল ইমরান হাশমির ‘আওয়ারাপন ২’

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন মিলেছে ইমরান হাশমি অভিনীত ‘আওয়ারাপন ২’। তবে ছাড়পত্র পাওয়ার আগে সিনেমাটির বেশ কিছু অংশে পরিবর্তন আনতে হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশোধনের অংশ হিসেবে প্রায় চার মিনিটের দৃশ্য বাদ দেওয়া এবং ২০ সেকেন্ডের একটি দৃশ্য প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এরপর ছবিটিকে ইউএ ১৬+ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। ১৪০ মিনিট ২০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের সিনেমাটি হিন্দি ভাষায় ইংরেজি সাবটাইটেলসহ মুক্তি পাবে।সিবিএফসির নির্দেশনা অনুযায়ী, সিনেমায় মাদকের ব্যবহার ও শিশু পাচার বিষয়ে সতর্কবার্তা (ডিসক্লেইমার) যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি হিন্দি শিরোনাম সংযোজনের পাশাপাশি সিনেমার বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী বার্তা এবং একটি স্থায়ী ধূমপানবিরোধী সতর্কবার্তাও যোগ করা হয়েছে।এ ছাড়া অডিও ও সাবটাইটেল থেকে অশ্লীল শব্দ প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সহিংসতার কয়েকটি দৃশ্য সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি দৃশ্যে সহিংসতার মাত্রা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। মাদক গ্রহণের একটি দৃশ্যও কাটছাঁট করা হয়েছে। পাশাপাশি সিনেমার সংগীতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেষের ক্রেডিটেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।সব মিলিয়ে সিবিএফসি ৪ মিনিটের দৃশ্য বাদ এবং ২০ সেকেন্ডের দৃশ্য প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেয়। এসব পরিবর্তনের পরই সিনেমাটি সেন্সর ছাড়পত্র পায়।আগামী ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘আওয়ারাপন ২’।

৪ মিনিটের দৃশ্য বাদের পর সেন্সর ছাড়পত্র পেল ইমরান হাশমির ‘আওয়ারাপন ২’
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream