বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
মাইথন-পাঞ্চেতের পানি ছাড়ায় ঝুঁকিতে দামোদর অববাহিকা

মাইথন-পাঞ্চেতের পানি ছাড়ায় ঝুঁকিতে দামোদর অববাহিকা

পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অতি ভারী বৃষ্টির মধ্যে ডিভিসি ও কংসাবতী বাঁধ থেকে পানি ছাড়ায়। উত্তর থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় গত দুদিনের টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে ডিভিসির পানি ছাড়ায় দামোদর অববাহিকার নিচু এলাকাগুলোতে প্লাবনের শঙ্কা আরও বেড়েছে। ডিভিসি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মাইথন বাঁধ থেকে আরও প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া ও পূর্ব বর্ধমানের দামোদর-তীরবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুণ্ডেশ্বরী ও রূপনারায়ণ নদীর তীরবর্তী এলাকাতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ডিভিসির কর্মকর্তারা জানান, বাঁধের ক্যাচমেন্ট এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট বাঁধ থেকে পানিপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় জলাধার দুটির ওপর চাপ বাড়ছে। এ কারণে মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দামোদর ভ্যালি রিজার্ভয়ার রেগুলেটিং কমিটি (ডিভিআরআরসি) বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, জেলা প্রশাসন ও আসানসোলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করেছে ডিভিসি। নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিম্ন দামোদর অববাহিকায় সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এক কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টিপাত ও পানিপ্রবাহের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ পরবর্তী সময়ে বাড়ানো বা কমানো হতে পারে। এদিকে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর বাঁধ থেকেও পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে কংসাবতী কর্তৃপক্ষ। বুধবার যেখানে প্রতি সেকেন্ডে ১০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তা বাড়িয়ে ১৫ হাজার কিউসেক করা হয়েছে। কংসাবতীর উচ্চ অববাহিকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে মুকুটমণিপুর বাঁধে পানির চাপ বেড়েছে। বাঁধটির পানি ধারণক্ষমতা ৪৩৪ ফুট। বুধবার পানির উচ্চতা ৪৩১ দশমিক ৩০ ফুটে পৌঁছায়। উচ্চ অববাহিকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বাঁধের নিরাপত্তা ও পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পানি ছাড়ার ফলে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিনপুর, দাসপুর, ডেবরা ও পাঁশকুড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আশপাশের এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে কংসাবতী কর্তৃপক্ষ। নদী ও বাঁধসংলগ্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে প্রশাসন। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতিও রাখতে বলা হয়েছে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream