শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা গ্র্যাজুয়েটদের নিয়ে অভিন্ন নেটওয়ার্ক

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা গ্র্যাজুয়েটদের নিয়ে অভিন্ন নেটওয়ার্ক

পেশাদার থিয়েটারে বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর অনেকেই যুক্ত হন। কেউ শিক্ষকতা বা গবেষণায় যান, কেউ আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন নানা কারণে নাট্যচর্চা থেকে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের এই বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে একটি অভিন্ন নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থিয়েটার গ্র্যাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিজিএবি) এ লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে টিজিএবির ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ও ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ এহসানুর রহমানকে আহ্বায়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী রোকসানা রুমাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয় কিশোর সৌরভকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। সংগঠনটির উদ্যোক্তারা বলছেন, নাট্যশিক্ষা শেষ করার পর একজন গ্র্যাজুয়েটের সামনে পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ কতটা- এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই টিজিএবির যাত্রা। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শিক্ষা ও পেশাদার থিয়েটারচর্চার মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, তা কমানো প্রয়োজন। টিজিএবির অন্যতম লক্ষ্য হলো বিভিন্ন নাট্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো। একই সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করার পর পেশাগত দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি এবং থিয়েটারচর্চার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। তবে শুধু যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়েই থেমে থাকতে চায় না টিজিএবি। গবেষণা ও জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করা, পেশাগত নাট্যচর্চায় সহযোগিতা বাড়ানো এবং দেশীয় সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে বিশ্বসংস্কৃতির সম্পর্ক নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর তৈরির কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে থিয়েটার প্রদর্শনী, গবেষণা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের নাট্যশিক্ষা ও থিয়েটারচর্চার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরের যোগাযোগ আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে সংগঠনটির। অনুষ্ঠানে নবগঠিত উপদেষ্টা পরিষদের প্রতিনিধিরা টিজিএবির উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, নাট্যশিক্ষাকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে পেশাগত নাট্যচর্চার কার্যকর সংযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের নাট্যশিক্ষার্থীরা যাতে তাদের অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ পান, সে ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। টিজিএবির আহ্বায়ক শেখ এহসানুর রহমানের সঙ্গে নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী রোকসানা রুমা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয় কিশোর সৌরভ। সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের সহযোগিতা করবেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াহিদা সুলতানা আশা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাবীবুর রহমান হাবীব। আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন আবু হেনা রনি (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়), আহসান হাবীব (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), আফসানা আক্তার (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়), সাইফুল ইসলাম শাহীন (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), মোঃ ইমরান হোসেন ইমু (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), রাইসুল ইসলাম রোমান (তেজগাঁ কলেজ) এবং মোঃ নাসিম উদ্দিন (হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ)। কমিটির সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়েদ জুলহাস। দপ্তর ও নথি সম্পাদকের দায়িত্বও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দিগার মোঃ কৌশিকের হাতে। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ ফয়সাল। প্রচার ও মিডিয়া কার্যক্রম দেখবেন তনিমা সাহা (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়), সায়মা আক্তার ও ইন্দ্রাণী দাশ নিশি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং শরণ এহসান (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)। টিজিএবির জ্ঞানচর্চা ও দক্ষতা উন্নয়নের দায়িত্বে থাকছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিত হাসান ও তানজীম তাজোয়ার। অনুষ্ঠান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কার্যক্রমের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবেরী সুলতানা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বে রয়েছেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ মোর্শেদ ইসলাম আকন্দ। আইন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খালিদ সাইফুল্লাহ এবং ফটোগ্রাফি ও আর্কাইভ বিষয়ক সম্পাদক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ ইব্রাহিম জামান এলিন। নাট্যোৎসব ও মঞ্চায়ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আসাদুজ্জামান আশিক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছ্বাস তালুকদার। প্রকাশনা ও সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনজ কান্তি রায়; তাঁর সঙ্গে উপ-সম্পাদক হিসেবে থাকছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসেল আহমেদ। এ ছাড়া সংগঠনের সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক কৃপাময় কর কৌশিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব নাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেহানা রাহা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিএম একরামুল হক এবং হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের প্রভাষক শংকর কুমার বিশ্বাস। কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নুসরাত জাহান সাদিয়া, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের তারেক রহমান এবং রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজীমউদ্দৌলা জুয়েল।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream