রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
কিয়েভকে দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন করতে সেতুতে রাশিয়ার হামলা

কিয়েভকে দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন করতে সেতুতে রাশিয়ার হামলা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, রাজধানীকে দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করছে মস্কো—এমনটাই দাবি ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইউকের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো বলেছেন, গতকাল শনিবার সকালে পিভনিচনি (নর্দার্ন) সেতুতে হামলা চালিয়ে মস্কো ‘কিয়েভকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।’ এ হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পিভদেনি (সাউদার্ন) সেতুতে পাঁচবার হামলা চালানো হয়। রাশিয়া জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভে একের পর এক বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব ড্রোন ভূপাতিত করতে ইউক্রেনের বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেনবিরোধী অভিযানে এটি নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শীত আসার আগে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। ইউক্রেনের অন্যান্য অনেক এলাকার মতো কিয়েভও দিনিপ্রো নদীর দুই পাশে বিস্তৃত। শহরের অধিকাংশ মানুষ আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত পূর্ব অংশ থেকে কাজের জন্য পশ্চিম অংশে যাতায়াত করেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যাতে তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মনোবল ভেঙে যায়। সম্মুখযুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর রাশিয়া এ কৌশল নিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহার করা হয় বলেই তাদের ড্রোন দুটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে। রুশ হামলায় দিনিপ্রো নদীর ওপর দিয়ে চলাচলকারী সড়ক, রেলপথ ও ট্রলিবাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে কার্যত কিয়েভ শহরটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সেতুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলে কিয়েভের দুই পাশের যোগাযোগ চালু রাখতে ফেরি ব্যবহার কিংবা ভাসমান পন্টুন সেতু নির্মাণের বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করেছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। রাশিয়ার জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোনগুলোকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করার উপায় ইউক্রেনের হাতে নেই। যুদ্ধ শুরুর চার বছরেরও বেশি সময় পর এসব ড্রোনের ব্যবহার দেশটির বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কিয়েভে কোনো কোনো বিমান হামলার সতর্কতা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জারি থাকছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাজধানীর বাসিন্দারা রসিকতা করে বলছেন, হামলার আতঙ্ক থেকে বাঁচতে তাঁরা খারকিভে ছুটি কাটাতে যেতে চান। শহরটি সম্মুখযুদ্ধের রেখা থেকে ২০ মাইলেরও কম দূরে অবস্থিত। শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশরা আমাদের দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন তারা ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের সেতু ধ্বংস করতে চায়...আমাদের ডেটা সেন্টার, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, হাসপাতাল, কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়—সবকিছু ধ্বংস করতে চায়। তারা চায় মানুষ যেন নিজেদের শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, রাশিয়ার জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য পাঁচ ধরনের পরীক্ষামূলক অস্ত্রের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এসব ড্রোন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ মাইল গতিতে চলতে পারে। এত দ্রুতগতির ড্রোনকে প্রপেলারচালিত প্রতিরোধী ড্রোন দিয়ে ধ্বংস করা সম্ভব হয় না। জেলেনস্কির ভাষ্য, বর্তমানে কিয়েভ রাশিয়ার জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোনের ৫৭ শতাংশ ধ্বংস করতে পারছে। তুলনামূলকভাবে পুরোনো ধরনের ড্রোনের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৮৫ শতাংশ। এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ৬ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে কিয়েভে যান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস শনিবার জানিয়েছে, শান্তি আলোচনা এখন কয়েক শ কোটি ডলারের একটি তেল চুক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ চুক্তি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী লাভবান হতে পারেন, যাঁদের সঙ্গে উইটকফ ও কুশনারের সম্পর্ক রয়েছে। তবে দূত দুজন নিজেরা এই চুক্তি থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন চুক্তিটির প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে রুশ নাগরিকদের কাছে তিনি সম্ভবত এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানির মালিকানাধীন তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও পেট্রলপাম্প কিনে নেওয়া হলে ক্রেমলিনের সঙ্গে আস্থা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এসব সম্পদকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে এবং জ্বালানির দাম কমতে পারে। মার্কিন ধনকুবের টড বোহলি এ চুক্তির প্রধান সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। তিনি ট্রাম্পের একজন সমর্থক এবং আগে চেলসি ফুটবল ক্লাবের মালিক ছিলেন। এ ছাড়া কাতারভিত্তিক একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীও চুক্তিতে বড় অংশীদার হতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। গোষ্ঠীটি নিয়ন্ত্রণ করেন মুতাজ আল-খাইয়াত ও তাঁর ভাই রামেজ আল-খাইয়াত। গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে তাঁদের দুজনকেই দেখা গিয়েছিল। উইটকফের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘তিনি কোনো বেতন নেন না। নিজের বিমানে, নিজের খরচে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জিম্মিদের তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।’ মুখপাত্র আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে তাঁর কোনো স্বার্থের সংঘাত নেই এবং আর্থিক কোনো অংশীদারত্বও নেই।’

কিয়েভে রাশিয়ার টানা ষষ্ঠ দিনের হামলা, নিহত ৯

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার বিমান হামলায় আজ মঙ্গলবার ৯ জন নিহত এবং প্রায় ডজন খানেকের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। কিয়েভে রুশ হামলার এটি টানা ষষ্ঠ দিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ মহাদেশে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসানে সমাধান খুঁজতে যখন প্রচেষ্টা চলছে, তখন ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশেই হামলা অব্যাহত রয়েছে। মস্কোর পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে জানিয়েছে, কিয়েভে আটজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আগুনও ছড়িয়ে পড়ে। কিয়েভ অঞ্চলের বরিসপিল শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এক আবাসিক ভবন এবং একটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর একজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো। কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার প্রতিদিনের হামলায় লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের বেশিরভাগ এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। রাশিয়া ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি ও সরবরাহ-লজিস্টিক অবকাঠামোতেও হামলা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে চালানো এক হামলার কারণে দানিউব নদীর তীরে রোমানিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ওরলিভকা সীমান্ত পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। রোমানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য। অন্যদিকে রাশিয়াতেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনে এক ড্রোন হামলায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র উস্ত-লুগার বন্দর এলাকায় আগুন ধরে যায়। একই সময়ে মস্কোতে ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছিল। মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সামারা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে। সেখানে একটি বিমান হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় গভর্নর টেলিগ্রামে জানিয়েছেন। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে। হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনগুলো রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল সোমবার জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে একটি ‘বিস্তারিত ও গঠনমূলক’ ফোনালাপ করেছেন। শান্তি প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে তাদের ইউক্রেন সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার জন্য দুই পক্ষ কাজ করছে বলেও জানান তিনি। একই দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেন, মানবতার স্বার্থে যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন। এর জবাবে ক্রেমলিনের নেতা বলেন, মস্কো ‘এই পথে এগিয়ে যাচ্ছে’। এই সংঘাত ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশকে, বিশেষ করে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে, নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটনা বাড়তে থাকার পর এই পদক্ষেপ আরও জোরদার হয়েছে। বাল্টিক অঞ্চলে ন্যাটোর আকাশসীমা নজরদারি মিশনের অংশ হিসেবে লাটভিয়ায় অল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিমান সক্রিয় করা হয়। একই সময়ে ফিনল্যান্ড রাশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় বিমান ও সামুদ্রিক চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী পৃথকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছে। এ সময় রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের আকাশে ড্রোন উড়ছিল। উস্ত-লুগা বন্দর এই লেনিনগ্রাদ অঞ্চলেই অবস্থিত। এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গুস সাহকনা মঙ্গলবার দেশটির আকাশপথে হামলার হুমকির সতর্কতাও জারি করেছিলেন। তিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ন্যাটোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ন্যাটো ‘দ্রুত এবং ঠিক যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল সেভাবেই’ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠিয়েছে।

কিয়েভে রাশিয়ার টানা ষষ্ঠ দিনের হামলা, নিহত ৯

২০২৯ পর্যন্ত নজরদারিতে হঠাৎ আরও দুই ড্রোন ভাড়া ভারতের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানি জেনারেল অ্যাটমিকস অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমস থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য  আরো দুটো এমকিউ-৯বি ‘সি গার্ডিয়ান’ ড্রোন ভাড়া নিয়েছে ভারত সরকার।রয়টার্স জানিয়েছে, ভারত সরকারকে ৩০ মাসের জন্য ওই দুটো ড্রোনের ভাড়া বাবদ দিতে হবে ১৯.৪৩ বিলিয়ন রুপি, বা প্রায় ২০৩ কোটি ডলার।জেনারেল অ্যাটমিকসের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এ চুক্তির ঘোষণা দেয়। দেশটির ভাষ্য, নতুন দুটি ড্রোন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নজরদারি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।কিন্তু একই ধরনের ৩১টি ড্রোন কেনার জন্য ভারত আগেই চুক্তি করে রেখেছে। তারা ভাড়ায় চালাচ্ছে আরো দুটো ‘সি গার্ডিয়ান’ ড্রোন। তাহলে নতুন করে দুটি ড্রোন ভাড়া নেওয়ার প্রয়োজন হল কেন?ইনডিয়া টুডে লিখেছে, ভারত যে ৩১টি এমকিউ-৯বি ড্রোন কিনছে, সেগুলোর সরবরাহ ২০২৯ সালের গোড়ার দিকে শুরু হওয়ার কথা। তার আগের সময়টায় নৌবাহিনীর নজরদারি সক্ষমতায় কোনো ঘাটতি যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই আপাতত আরও দুটি ড্রোন লিজ নেওয়া হচ্ছে।সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে লিজ বা ভাড়া নেওয়া তুলনামূলকভাবে অস্বাভাবিক মনে হলেও ভারতের ক্ষেত্রে এটি নতুন নয়। ২০২০ সালের নভেম্বরে ভারতীয় নৌবাহিনী জেনারেল অ্যাটমিকসের কাছ থেকে দুটি সি গার্ডিয়ান লিজ নেয়। ওই সময় ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছিল। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। তখন চীনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ভারতীয় নৌবাহিনীর সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। সরঞ্জাম কেনার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বদলে লিজ নেওয়া ছিল দ্রুততম পথ।ভারত এরপর স্থায়ী সমাধানের পথও তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৩২ হাজার কোটি রুপির চুক্তিতে ৩১টি এমকিউ-৯বি ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। এর মধ্যে ১৫টি সি গার্ডিয়ান নৌবাহিনীর জন্য এবং ১৬টি স্কাই গার্ডিয়ান ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনীর জন্য কেনা হচ্ছে।কিন্তু এসব ড্রোন হাতে পেতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ভারতের জটিল প্রতিরক্ষা ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনুমোদন, মূল্যায়ন, দরপত্র ও আলোচনা—বিভিন্ন ধাপ পেরোতে হয়। সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে জরুরি সামরিক প্রয়োজন মেটানোর একটি উপায় হচ্ছে ভাড়া নেওয়া।লিজ নেওয়ার আরেকটি সুবিধা হল, রক্ষণাবেক্ষণ ও সহায়তার বড় একটি অংশ সরবরাহকারী কোম্পানির ওপর থাকে।ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের লিজ নেওয়া সি গার্ডিয়ানগুলোর একটিকে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সমুদ্রে নামিয়ে দিতে হয়েছিল। পরে জেনারেল অ্যাটমিকস অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই ভারতীয় নৌবাহিনীকে একটি বিকল্প ড্রোন সরবরাহ করে।ফলে লিজ ব্যবস্থায় জরুরি নজরদারি সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঝুঁকিও কিছুটা কমে।এমকিউ-৯বি সিরিজের ড্রোনগুলো দীর্ঘ সময় বেশি উচ্চতায় উড়তে পারে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলো নিজস্ব স্থলঘাঁটি থেকে অনেক দূরেও পরিচালনা করা সম্ভব।জেনারেল অ্যাটমিকসের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কনফিগারেশনে ড্রোনগুলো ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে থাকতে পারে।ড্রোনগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, রাডার ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সরঞ্জাম যুক্ত করা যায়। ফলে বিশাল সমুদ্র এলাকায় জাহাজের চলাচল পর্যবেক্ষণ, নির্দিষ্ট কোনো জাহাজকে অনুসরণ কিংবা দূরবর্তী সমুদ্রপথে নজরদারি চালানোর মত কাজ দীর্ঘ সময় ধরে করা সম্ভব।এমকিউ-৯বি পরিবারের ‘সি গার্ডিয়ান’ মূলত সামুদ্রিক নজরদারির জন্য তৈরি সংস্করণ। এর সেন্সর ও সরঞ্জাম বড় সমুদ্র এলাকায় নজর রাখার উপযোগী। সাবমেরিন শনাক্ত ও অনুসরণের সক্ষমতাও এতে যুক্ত করার কাজ চলছে।ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের দীর্ঘপাল্লার মনুষ্যবিহীন নজরদারি ব্যবস্থা ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিস্তৃত; আফ্রিকার পূর্ব উপকূল থেকে মালাক্কা প্রণালি পর্যন্ত সমুদ্রপথে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত তৎপরতা চলে।নতুন দুটি ‘সি গার্ডিয়ান’ এর ৩০ মাসের লিজ শুরু হচ্ছে চলতি অগাস্ট মাসেই। এ চুক্তি ২০২৯ সালের গোড়ার দিকে শেষ হওয়ার কথা। আর তখনই যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ৩১টি এমকিউ-৯বি স্কাই ও সি গার্ডিয়ানের সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।ফলে নতুন লিজ মূলত একটি ‘ব্রিজ’ হিসেবে কাজ করবে—পুরোনো লিজের সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি নিজেদের কেনা ড্রোন আসার আগ পর্যন্ত ভারতীয় নৌবাহিনীকে অতিরিক্ত নজরদারি ক্ষমতা দেবে।ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, ভারত সরকারের এ সিদ্ধান্তের পেছনে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক অংকও রয়েছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা রয়েছে। একই সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।এ কারণে ভারত মহাসাগরে জাহাজ চলাচলের পথ, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশপথ এবং বিস্তৃত জলসীমার ওপর অব্যাহত নজরদারি এখন ভারতের জন্য কৌশলগত অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।নতুন দুটি সি গার্ডিয়ান সেই নজরদারির সক্ষমতা আরও বাড়াবে। আর ২০২৯ সালে নিজেদের কেনা ৩১টি ড্রোন আসা শুরু হলে অস্থায়ী লিজের এই ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্থায়ী বহরে রূপ নেবে।

২০২৯ পর্যন্ত নজরদারিতে হঠাৎ আরও দুই ড্রোন ভাড়া ভারতের
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream