মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ডা. জাহাঙ্গীর কবির ইনসুলিন বন্ধ করে ‘কিটো ডায়েট’ ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পর এক ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও তদন্ত করবে কমিটি। ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগও রয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি গঠন করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ গত ৫ মে অপচিকিৎসা প্রদান ও অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের অভিযোগে বলা হয়েছে, সুমি বেগম নামের ৩৬ বছর বয়সী ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেডের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়।  প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে ইনসুলিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা অনুসরণ এবং উচ্চমূল্যের কিছু সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেয়। ওই পরামর্শ অনুসরণ করে ইনসুলিন বন্ধ করার পর তাঁর ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। পরে তিনি সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে (ডিকেএ) আক্রান্ত হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধের পরামর্শ, কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শের সঙ্গে রোগীর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যে কোনো অভিযোগ এলে তা আমলে নেওয়া আমাদের কর্তব্য। যেহেতু ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, এটিও তদন্ত হবে। এই অভিযোগ তদন্তে আমরা কমিটি গঠন করেছি। এ ছাড়া অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারসহ অভিযোগগুলো তদন্ত করবে কমিটি।’ কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে। সদস্যসচিব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু এবং বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও কেন ক্লান্তি লাগে?

প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব হয়, তবে এর পেছনে শুধু ঘুমের অভাব নয়, বরং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা—বিশেষ করে স্থূলতা দায়ী হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ওজন শরীরের শক্তির মাত্রা, ঘুমের মান এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। অনেকেই পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও ঘুমের মান ভালো না হওয়ায় সারাদিন অবসন্ন বোধ করেন।স্থূলতার কারণে গলার চারপাশে চর্বি জমে শ্বাসনালি সংকুচিত হতে পারে। ফলে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ দেখা দেয়, যেখানে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হয়। এতে দীর্ঘ সময় ঘুমালেও গভীর ঘুম হয় না এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্তি থেকে যায়।অতিরিক্ত ওজনের ফলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন) এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, যা শরীরের স্বাভাবিক শক্তি কমিয়ে দেয় এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস করে।প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, হোল গ্রেইন বা পূর্ণ শস্য, ফলমূল ও শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় পরিহার করা।ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ঘুমের মান বাড়াতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার মতো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করা।প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস করা এবং ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টিভির স্ক্রিন ব্যবহার কমানো।থাইরয়েড, ডায়াবেটিস বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করতে চিকিৎসকের পরামর্শে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো।দীর্ঘদিনের ক্লান্তিকে অবহেলা করলে উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং বিষণ্নতার মতো মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি না কমলে কিংবা অতিরিক্ত নাক ডাকা, সকালে মাথাব্যথা বা অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও কেন ক্লান্তি লাগে?
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream