শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ইরান সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে ইউরোপের অর্থনীতিতে

ইরান সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে ইউরোপের অর্থনীতিতে

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে দীর্ঘদিন সমর্থন করে এখন উদ্বেগে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। তাদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকটও দেখা দিতে পারে।সামরিক অভিযানের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতেও। বর্তমানে জ্বালানির বাড়তি দাম এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা ইউরোপীয় সরকারগুলোকে চিন্তায় ফেলেছে। তারা বুঝতে পারছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলতে থাকলে এর পরিণতি ধারণার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে প্যাট্রিক উইন্টুর এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইস্তাম্বুলে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা না চালানোর আহ্বান জানান।তাদের সতর্কবার্তা, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে তেলের দাম।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংঘাতের বিরোধিতা করে বিভিন্ন দেশের মধ্যে ঐক্য গড়ার উদ্যোগ আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে মূল প্রশ্ন হলো, আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর পদক্ষেপের সঙ্গে যখন ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সুর মিলিয়েছিল, তখন তারা এই নীতির নিজস্ব নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তা কতটা বিবেচনা করেছিল? কিছু ইউরোপীয় সরকার আমেরিকাকে সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এমন একটি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল যা ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছিল। আর এখন সেই দেশগুলোই সংকটের বিস্তার এবং এর অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছে; যেন শক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যয় এই সংঘাতের প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে তাদের আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন করে তুলেছে। ইউরোপ এখন এমন একটি নীতির বিপরীত ফল ভোগ করছে যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ প্রয়োগের সমর্থনের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপীয় অর্থনীতির ওপর ওই একই চাপের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ মিশে আছে। ইউরোপীয় সরকারগুলো একদিকে সামরিক পদক্ষেপের পটভূমি তৈরি করা বা ওয়াশিংটনের নীতিগুলোকে সমর্থন করার ভূমিকা পালন করতে পারে না, আর অন্যদিকে এই আশা করতে পারে না যে এসব পদক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতি কেবল ইরান এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আজকের এই আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে নিরাপত্তা সংকট খুব দ্রুত জ্বালানি বাজার, সরবরাহ চেইন এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার খরচে গিয়ে আঘাত হানে। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমীকরণের অন্যতম প্রধান ও নির্ধারণকারী নিয়ামক। এই কৌশলগত জলপথটি তেল ও গ্যাসের বৈশ্বিক বা বাণিজ্যের একটি বড় অংশের যাতায়াত পথ হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং এর মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজের চলাচলে যেকোনো গুরুতর বিঘ্ন ঘটলে তা বৈশ্বিক বাজারকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলতে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া হলো সেই পরিণতিগুলোর অংশ যা খুব সহজেই জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতিতে স্থানান্তরিত হতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং অঞ্চলের কৌশলগত সক্ষমতার কারণে ইরানও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা সমীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই কারণেই হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা—এমনকি এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার দৃশ্যকল্প বাস্তবায়িত না হলেও—বাজারের প্রত্যাশা এবং সরকারগুলোর হিসাব-নিকাশকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়াটা হয়তো কোনো নিশ্চিত বা অবশ্যম্ভাবী পরিণতি নয়, তবে এর আশপাশের চরম মুখোমুখি অবস্থানের ঝুঁকিগুলোকে উপেক্ষা করাও বাস্তবসম্মত হবে না। যে সরকারগুলো ইরানের ওপর সামরিক চাপ বৃদ্ধির পক্ষে সমর্থন জোগায়, তাদের হিসাব-নিকাশে পারস্পরিক পাল্টা পদক্ষেপের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর এর প্রভাবের বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত। ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য এই বিষয়টি দ্বিগুণ গুরুত্বপূর্ণ। তেল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি কেবল শক্তির সরবরাহের খরচই বাড়ায় না; এটি কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যয়, পণ্য পরিবহন, সেবা খাত এবং পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর খরচও বাড়িয়ে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তীব্র আকার ধারণ করে এবং ইউরোপীয় শিল্পগুলো বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের উৎপাদকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। এভাবেই সংকটের পরিণতি বৈদেশিক সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপীয় অর্থনীতিগুলোর কর্মক্ষমতা এবং নাগরিকদের সরাসরি জীবনের একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়। এই কারণেই ইউরোপীয় দেশগুলোর আজকের এই উদ্বেগটিকে নিছক একটি কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না; এই উদ্বেগ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার সরাসরি সংঘর্ষকেই ফুটিয়ে তোলে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুর মেলানো হয়তো কিছু ইউরোপীয় সরকারের রাজনৈতিক বা নিরাপত্তার স্বার্থে হতে পারে, তবে এই সমর্থনের অর্থ এই নয় যে আমেরিকার সিদ্ধান্তের পরিণতি থেকে তারা সম্পূর্ণ দায়মুক্ত থাকবে। যখন সংকট ছড়িয়ে পড়ে, তখন ওয়াশিংটনের মিত্রদেরও এমন সব খরচের মুখোমুখি হতে হয় যেগুলোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কোনো হাত ছিল না এবং যার প্রভাব চাইলেও তারা সহজেই রোধ করতে পারে না। আটটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ইস্তাম্বুলের এই অবস্থান প্রমাণ করে যে সংকটের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ এখন এই অঞ্চল এবং ইউরোপের দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুতর একটি বিবেচনায় পরিণত হয়েছে। অবশ্য, সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু করার বিরোধিতা করার অর্থ এই নয় যে ইরানের প্রতি এই দেশগুলোর নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন এসেছে; সম্ভবত অন্যান্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খরচের আশঙ্কাই তাদের এই ধরনের অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে। তা সত্ত্বেও, এই উদ্বেগটি এও স্পষ্ট করে দেয় যে সংঘাতের ধারাবাহিকতা আমেরিকার মিত্রদের মধ্যেও বিভেদ তৈরি করতে পারে এবং ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তেল ও জ্বালানির দাম নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগের বৃদ্ধি একটি স্পষ্ট বাস্তবতারই কথা মনে করিয়ে দেয়: কোনো সংকটের তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রেখে এটা আশা করা যায় না যে তার সমস্ত ব্যয় কেবল প্রতিপক্ষ শিবিরের কাঁধেই থাকবে। ইউরোপীয় সরকারগুলোকে বর্তমান অভিজ্ঞতা থেকে এটি শিক্ষা নিতে হবে যে তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলি থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, এবং সামরিক নীতিগুলো তাদের নিজেদের সমর্থকদের জন্যই অপ্রত্যাশিত পরিণতির সৃষ্টি করতে পারে। এখন যখন জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন মৌলিক প্রশ্নটি থেকেই যায়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কেন এই পথের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিণতিগুলোকে আজকের মতো গুরুত্ব দিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর হিসাব-নিকাশে রাখা হয়নি? সূত্র: মেহের নিউজ 

জি-৭-এর মজুদ থেকে তেল ছাড়ায় স্বস্তি বিশ্ববাজারে

আন্তর্জাতিক বাজারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জি-৭ জরুরি মজুদ থেকে তেল খালাস করায় অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও এই সরবরাহ বৃদ্ধি মূল্যহ্রাসে ভূমিকা রেখেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বাজারের সাম্প্রতিক চিত্রে ব্র্যান্ড ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৬৬ সেন্ট বা ০.৬৫ শতাংশ কমে ১০১.৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেল প্রতি ৯৫ সেন্ট বা ১.০৩ শতাংশ কমে ৯০.১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে গত শুক্রবার জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো তাদের জরুরি রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে তারা জ্বালানি রপ্তানিতে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করার অঙ্গীকার করে, যার প্রভাবে ব্র্যান্ড ক্রুড ও ডব্লিউটিআই উভয়ের দামই নিম্নমুখী হয়। সূত্র: ডন

জি-৭-এর মজুদ থেকে তেল ছাড়ায় স্বস্তি বিশ্ববাজারে

অর্লেনের ভেনেজুয়েলা তেল কাণ্ডে ‘বিশ্বের সামনে লজ্জিত’ পোল্যান্ড

পোল্যান্ডের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা ‘অর্লেন’ (Orlen)-এর ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল কেনার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ২৩ কোটি ডলার (প্রায় ২৫০ কোটি টাকা) লোকসান হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি)-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই ঘটনা পোল্যান্ডকে ‘সারা বিশ্বের সামনে লজ্জিত’ করেছে। অনিরাপদ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেনের ফলে রাষ্ট্রীয় এ বিপুল অর্থের ক্ষতি হয়েছে বলে দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ঘটনাটিকে দেশের ইতিহাসের ‘অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর জন্য পূর্ববর্তী ‘ল অ্যান্ড জাস্টিস’ (পিআইএস) সরকার ও তাদের নীতিকে দায়ী করেছেন। ঘটনার সময় অর্লেনের প্রধান নির্বাহী পদে ছিলেন দানিয়েল ওবায়েতেক। তিনি বর্তমানে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিরোধী দল পিআইএসের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে অর্লেন প্রথম প্রকাশ করে যে তাদের সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সাবসিডিয়ারি ‘অর্লেন ট্রেডিং সুইজারল্যান্ড’ (ওটিএস) ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম সামগ্রী আমদানির জন্য অগ্রিম হিসেবে প্রায় ৪০ কোটি ডলার দিয়েছিল। কিন্তু পুরো টাকাটাই জলে গেছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ওই তেল কখনোই সরবরাহ করা হয়নি। পোল্যান্ডের তৎকালীন পিআইএস সরকারের পতনের পর টাস্ক সরকার অর্লেনের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে ওবায়েতেক বরখাস্ত করে নতুন ব্যবস্থাপনা নির্দেশক নিয়োগ দেয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, হারানো অর্থের মধ্যে প্রায় ২৪ কোটি ডলার দুবাইভিত্তিক এক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল, যা পরিচালনা করতেন হংকংয়ের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। পরবর্তীতে পোলিশ প্রসিকিউটররা এই লেনদেনের বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ওটিএস-এর তৎকালীন প্রধান সামের এ. (আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে যার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি) মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানির উদ্যোগ নেন। কোনো ধরনের জামানত বা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়াই এসব মধ্যস্থতাকারীদের ২৩ কোটি ডলার অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘পিডিভিএসএ’ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে এই লেনদেন সম্পন্ন করতে ক্রিপ্টোকারেন্সির আশ্রয় নেওয়া হয়। অর্লেনের ভাড়া করা জ্বালানিবাহী জাহাজ মাসের পর মাস সাগরে অলস বসে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তেল পৌঁছায়নি, আর অগ্রিম অর্থও গায়েব হয়ে যায়। পোল্যান্ডের মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে যা প্রকাশ পেয়েছে তা সারা বিশ্বের সামনে আমাদের লজ্জিত করেছে। এটি আমাদের দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি।’ টাস্ক সরাসরি বিরোধী দল পিআইএসকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘এই ঘটনায় পিআইএস সরকারের আমলের সব অপকর্মের রূপ ফুটে উঠেছে—যার মধ্যে নোংরা লেনদেন থেকে শুরু করে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত।’ প্রধানমন্ত্রী টাস্ক আরও অভিযোগ করেন, সরকারের প্রতি বিরূপ ভাবাপন্ন বর্তমান প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি সম্প্রতি ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর আরোপ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিলে বাধা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা সম্ভবত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নোংরা লেনদেন চক্রের মুখোমুখি হয়েছি।’ এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় অর্লেনের সাবেক সিইও দানিয়েল ওবায়েতেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রতিবেদনে ওটিএস মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হয়েছে। আমি চাই বিষয়টি পোল্যান্ডের আদালতে পুরোপুরি স্পষ্ট হোক।’ তিনি উল্টো বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সমালোচনা করে দাবি করেন, নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ খুব তাড়াহুড়ো করে চুক্তিটি বাতিল করেছে, নতুবা তেল পোল্যান্ডে পৌঁছাত। ওবায়েতেকের দাবি, দেশের বর্তমান জ্বালানির রেকর্ড মূল্য বৃদ্ধি থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতে টাস্ক সরকার এই পুরোনো মামলাটিকে আবার সামনে আনছে। ওবায়েতেকের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে অর্লেনের বর্তমান প্রেস অফিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওবায়েতেকের পোস্টের নিচে তাদের পক্ষ থেকে লেখা হয়, ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের মূল খবরটি ছিল কীভাবে আপনার সময়ে দুবাইয়ের এক ২৫ বছরের তরুণের সংস্থায় পোল্যান্ডের কোটি কোটি ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। সে ওই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে ইউএসবি ড্রাইভে নেয় এবং রেস্তোরাঁয় বসে তেল ব্যবসায়ী সেজে থাকা ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেয়...এই নাটকে কেবল অর্লেনের খোয়া যাওয়া টাকাটাই সত্যি।’ ওয়ারশর আঞ্চলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, ওটিএসের তৎকালীন প্রধান সামের এ.-কে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে পোল্যান্ডে প্রত্যর্পণের আইনি চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যদিও গত বছর ইউএই পোল্যান্ডের প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল। প্রসিকিউটররা আরও জানান, পোল্যান্ড ও ওটিএসের সম্পত্তি সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়ে কোম্পানির ৩৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি করায় গত মাসে অর্লেনের সাবেক তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গ্রামাঞ্চলের একজন সাধারণ মেয়র থেকে মাত্র তিন বছরের মধ্যে পোল্যান্ডের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সিইও হয়ে ওঠা দানিয়েল ওবায়েতেকের বিরুদ্ধে আগেই ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাঁর আইনি সুরক্ষার অধিকার (ইমিউনিটি) বাতিল করে, যার ফলে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।

অর্লেনের ভেনেজুয়েলা তেল কাণ্ডে ‘বিশ্বের সামনে লজ্জিত’ পোল্যান্ড

ইরানের পরমাণু সংকট মিটলে জ্বালানি দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান হলে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এ কথা বলেছেন। রাইট মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা দেশের বাইরে থেকে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারি।’ লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ক্রিস রাইটের এই প্রস্তাব ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, ইরানের এই কর্মসূচির লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা। তবে ইরান বারবার বলে আসছে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি। রাইট বলেন, ‘তারা আবারও জাতিগুলোর সম্প্রদায়ের অংশ হতে পারে এবং তাদের জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসতে পারে।’ এদিকে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ‘নির্ণায়ক হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছর ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে ‘নির্মাণকাজে স্পষ্টভাবে বড় ধরনের বৃদ্ধি’ শনাক্ত হওয়ার পর এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সটি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে ‘অনেক বেশি হারে বোমা হামলার’ মুখে পড়তে হবে এবং দেশটি ‘কখনোই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’ এ সময় পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন ট্রাম্প। ওই এলাকায় তৎপরতা ও চলাচল শনাক্ত হওয়ার পর তিনি এই হুমকি দেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকাটি নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছেই অবস্থিত।

ইরানের পরমাণু সংকট মিটলে জ্বালানি দেবে যুক্তরাষ্ট্র
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream