শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ 

সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ও মূল সনদ বাবদ নির্ধারিত ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ দেয়া দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় দ্বিতীয় সমাবর্তনে নিবন্ধন ফি কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে সমাবর্তন প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় আয়োজন হলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফি অনেকের জন্য বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য একসঙ্গে নিবন্ধন ফি, সনদ ফি ও সম্ভাব্য অন্যান্য সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করা কঠিন। একই সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল অর্থাৎ সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে সুযোগ দেওয়াকে সমাবর্তনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার সামিল বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা। সমাবর্তনের ফি নিয়ে সমাবর্তন প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোতো ফি কমানোর দাবি জানিয়ে প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।  গতবারের তুলনায় এবার সব শ্রেণির ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি দুই হাজার টাকা করে বাড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, গতবারের তুলনায় স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি তিন হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে ছয় হাজার টাকা, যা আগে ছিল চার হাজার টাকা। এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের নিবন্ধন ফি সাড়ে চার হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ছয় হাজার করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারীদের ফি ছয় হাজার থেকে বাড়িয়ে আট হাজার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরসহ বিভিন্ন ডিগ্রিধারী প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক (সম্মান), বিবিএ বা সমমানের এবং ২০১৬-১৭ থেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর, এমবিএ বা সমমানের ডিগ্রিধারীরা সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া এমফিল, পিএইচডি এবং প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের যেসব শিক্ষার্থী বা গবেষক অন্তত একটি ডিগ্রি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেছেন, তারাও সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।  প্রতিষ্ঠার ২২ বছরে আগামী ৩০শে জানুয়ারি মাত্র দ্বিতীয়বারের মত সমাবর্তন আয়োজন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ফলে সমাবর্তনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হারুনুর রশিদ বলেন, জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা নিবন্ধন ফি এবং সনদের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ টাকা নির্ধারণ করায় অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সমাবর্তনে অংশগ্রহণ আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমাদের মতো একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বামী-স্ত্রী দুজনই গ্র্যাজুয়েট হলে, তাদের ক্ষেত্রে শুধু নিবন্ধন ও সনদের জন্যই ১১ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে ফি পুনর্বিবেচনা করা, যাতে অর্থের অভাবে কেউ জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন থেকে বঞ্চিত না হন। এবিষয়ে ভিন্ন অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। সার্বিকভাবে সকল কিছুর ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সমাবর্তনের ফি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্‌দীন। তবে ফি কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন তিনি।  উপাচার্য বলেন, বর্তমানে সকল কিছুর ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিকভাবে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলাপ আলোচনা সাপেক্ষ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া এত বড় একটি আয়োজন সম্পন্ন করতে বড় খরচের বিষয় রয়েছে সেটিও আমাদের দেখতে হবে। নিবন্ধন ফি কমানোর ব্যাপারে সমাবর্তন আয়োজন সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন সদ্য গ্র‍্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা বেকার শিক্ষার্থীর পক্ষে নিবন্ধন ফি বেশি হয়ে যায়। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে নিবন্ধন ফি যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা করা হবে। ফি কমানোর দাবি জকসু ও সক্রিয় সংগঠনগুলোরজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও নিবন্ধন ফি কমানোর দাবি জানিয়েছে। ফি কমানোর দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছে জকসু এবং একই দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। শাখা ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্টও, ইসলামি ছাত্র আন্দোলন এবং খেলাফত ছাত্র মজলিস একই দাবি জানিয়েছে। জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, সমাবর্তনের ফি কমানোর দাবিতে গত ১৪ তারিখে জকসুর পক্ষ থেকে উপাচার্য মহোদয় বরাবর আবেদন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে, পাশাপাশি বিষয়টি জকসুর পেজেও তুলে ধরা হয়েছে। আমরা আশা করি, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত সমাবর্তনের ফি কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সমাবর্তনের ফি কমানোর দাবি জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফীন। বিবৃতিতে সমাবর্তনের ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর দাবি জানিয়ে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষার্থীই নিজেদের কঠোর পরিশ্রম এবং টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জোগান। জীবনের বিশেষ এই অর্জনটিকে উদযাপনের অধিকার সব শিক্ষার্থীরই রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ফি অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই একটি গণমুখী বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি হতে পারে না। সমাবর্তন কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আনন্দের দিন। সমাবর্তনের ফি এমন পর্যায়ে নির্ধারণ করা উচিত, যাতে সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য প্রতিটি শিক্ষার্থী এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির অংশ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলীল বলেন, আমরা শুরু থেকেই দাবি জানিয়েছি যে ফি যেন যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা হয়। জকসুর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার অনানুষ্ঠানিক কথাও হয়েছে। আমাদের কথা হল, প্রথমবারের তুলনায় এবার ফি অনেক টাকা বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় যা যথেষ্ট বেশি। সুতরাং এই ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেবে। না হলে আমরা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে যথাযথভাবে এর প্রতিবাদ জানাবো। সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি দুই হাজার অথবা তিন হাজারে করার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সভাপতি আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের থাকার-খাওয়ার ন্যূনতম সংকট সমাধান করতে পারে না, সেই বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনের নামে ৫ হাজার টাকার বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার সাহস পায় কীভাবে? পুরান ঢাকায় টিকে থাকতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনের বড় অংশ ব্যয় হয়। সেখানে সমাবর্তনের নামে এমন আর্থিক চাপ চাপিয়ে দেওয়া অমানবিক ও অযৌক্তিক। প্রশাসনের কাছে দাবি সমাবর্তনের ফি সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে আনুন।  সমাবর্তন আয়োজনের যাবতীয় ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করার দাবি জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ বলেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি, সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি কমাতে হবে এবং সমাবর্তন আয়োজনের যাবতীয় ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সবার পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব—এমন একটি ন্যূনতম সৌজন্য ফি নির্ধারণ করা হোক, যাতে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, সমাবর্তনের ফি অবশ্যই যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনতে হবে। যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তা শিক্ষার্থীদের সামর্থ্যের বাইরে। এই বিষয়ে ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ গত ১৮ অক্টোবর উপাচার্যের মহোদয়ের সাথে কথা বলেন। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেন পরিচালনা কমিটির সাথে আলোচনা করে সমাবর্তন ফি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করবেন। একই দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সদস্য সচিব ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমাবর্তন বাজেট সর্বোচ্চ ৩ হাজার করাটা সমীচীন বা নামমাত্র একটা ফি রাখা উচিত। ঢাকায় একজন জবি শিক্ষার্থীর মাসিক ব্যয় ও যাবতীয় খরচ ব্যতিত ৩ হাজার টাকাও অনেকের কাছে বেশী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেহেতু দীর্ঘবছর পর সমাবর্তনের আয়োজন করছে- এখানে সকলের উপস্থিতি কীভাবে নিশ্চিত করা যায় এটাকেই মুখ্যভাবে ভাবতে হবে। কারণ একজন শিক্ষার্থীর সারাজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে সে মূহুর্তটি, সামান্য টাকার জন্য আমরা তার আবেগকে দূরে ঠেলে দিতে পারি না।

জবির ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন রসায়ন বিভাগের ৯ শিক্ষক

জবি প্রতিনিধি:জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো প্রদান করা ‘স্পেশাল RESEARCH AWARD’ বা ‘বিশেষ গবেষণা সম্মাননা’ লাভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৩৪ জন শিক্ষক। এর মধ্যে  রসায়ন বিভাগ থেকেই সর্বোচ্চ ৯ জন বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষক এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর)  বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে ২০১৮-২০১৯ থেকে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের নির্বাচিত গবেষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।রসায়ন বিভাগ থেকে সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষক ও গবেষকরা হলেন— অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলম, অধ্যাপক ড. মোঃ আমিনুল হক, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন, অধ্যাপক ড. এ. জে. সালেহ আহাম্মদ, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাজিবুল হক আকন্দ, অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন রিপন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, ড. জগদীশ চন্দ্র সরকার এবং ইলিয়াস মাহমুদ।একই অনুষ্ঠানে সর্বমোট ৩৪ জন শিক্ষককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়, যার মধ্যে একা রসায়ন বিভাগের ৯ শিক্ষকের এই অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে বিভাগটি।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষাদান ও ডিগ্রি প্রদান নয়; নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করাও এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।” তিনি গবেষকদের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং মৌলিক গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘Special Research Award’ প্রদান করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।” গবেষণার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি রসায়ন বিভাগসহ সকল বিভাগের শিক্ষকদের গবেষণায় আরও উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন সম্মাননাপ্রাপ্ত সকল শিক্ষককে অভিনন্দন জানান এবং তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী গবেষণায় মনযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রক্টর, প্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ আমিনুল হক জানান এই  স্বীকৃতি রসায়ন বিভাগের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। এই প্রাপ্তি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের মৌলিক ও প্রয়োগমুখী গবেষণা পরিচালনায় বিভাগকে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

জবির ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন রসায়ন বিভাগের ৯ শিক্ষক
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream