বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
কানাডার আলবার্টার ঐতিহাসিক গণভোট: সচ্ছলতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তায় ‘না’ ভোট দিলেন ভোটাররা

কানাডার আলবার্টার ঐতিহাসিক গণভোট: সচ্ছলতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তায় ‘না’ ভোট দিলেন ভোটাররা

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টায় বহুল আলোচিত গণভোটে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন সেখানকার জনগণ। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দেওয়া এই ভোটাভুটিতে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ক্যানাডার মূল ভূখণ্ডে থেকে যাওয়ার পক্ষের সমর্থকেরা। ফলাফলের পর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে আলবার্টাবাসী চরম রাজনৈতিক বিভাজন ও স্বাধীনতার ঝুঁকিপূর্ণ পথের চেয়ে কানাডীয় ঐক্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। ইলেকশনস আলবার্টার (Elections Alberta) দেওয়া সর্বশেষ গণনার তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, প্রায় ১৩ লাখেরও বেশি জমা পড়া ব্যালটের মধ্যে প্রায় ৭৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা আলবার্টাকে কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে বা পরবর্তী বাধ্যবাধকতামূলক স্বাধীনতা গণভোটের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে চান না। অন্যদিকে মাত্র ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার স্বপক্ষে মতামত প্রকাশ করেছেন। ক্যালগারি ও এডমন্টনের মতো জনবহুল এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বড় বড় শহরগুলোতে ‘কানাডায় থাকার’ পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার দেখা গেছে। যদিও প্রদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গ্র্যান্ড প্রেইরির (Grand Prairie) মতো কিছু গ্রামীণ অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদের পক্ষে তুলনামূলক বেশি ভোট পড়েছিল, কিন্তু সার্বিক ফলাফলে তা প্রভাব ফেলতে পারেনি। উল্লেখ্য, স্বাধীনতা ছাড়াও মূল ভোটাভুটির সঙ্গে ইমিগ্রেশন ও সংবিধানে প্রাদেশিক ক্ষমতা জোরদার করা–সংক্রান্ত আরও ৯টি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। ইমিগ্রেশন ও প্রাদেশিক অধিকার–সংক্রান্ত অন্যান্য প্রশ্নগুলোতে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বললেও, দেশকে টুকরা করার বিষয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, আলবার্টার নাগরিকেরা আবেগের চেয়ে বাস্তবধর্মী হিসাব-নিকাশকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। যে প্রধান কারণগুলোর জন্য মানুষ বিচ্ছিন্নতাবাদকে না বলেছে: ১. অর্থনৈতিক ও মুদ্রাগত ঝুঁকি: একটি নতুন রাষ্ট্র গঠন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল। নিজস্ব নতুন মুদ্রা তৈরি, ব্যাংক ও ট্রেড চুক্তি পুনর্গঠন এবং ফেডারেল সুযোগ-সুবিধা হারানোর যে আশঙ্কা ছিল, তা কোনো সাধারণ ব্যবসায়ী বা নাগরিক গ্রহণ করতে রাজি ছিলেন না। ২. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সীমান্ত জটিলতা: মার্কিন সীমান্তে শুল্ক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন আন্তর্জাতিক সীমানা তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক ধসে পড়ত। ৩. বিপুল খরচের ক্ষোভ: প্রায় ১৩০ মিলিয়ন (১৩ কোটি) ডলার ব্যয় করে এই ‘গণভোটের ওপর গণভোট’ আয়োজন নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ ছিল। জনস্বাস্থ্য ও মৌলিক নাগরিক পরিষেবা ছেড়ে এই অর্থে ভোটাভুটি করাকে মানুষ অর্থের অপচয় বলেই মনে করেছেন। ৪. ফার্স্ট নেশনস (আদিবাসী) সংহতি: প্রদেশের আদিবাসী গোষ্ঠী বা ফার্স্ট নেশনস লিডাররা ঐতিহাসিকভাবে কানাডা রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের চুক্তি (Treaties) বজায় রাখার পক্ষে সুদৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন, যা বিপুলসংখ্যক ভোটকে ঐক্যের পক্ষে টেনে আনে। ভবিষ্যৎ প্রভাব গণভোটের এই ঐতিহাসিক ফল আলবার্টার ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ খাত থেকে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে দিয়েছে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছে কানাডার বাণিজ্যিক মহল। বহু বছর ধরে চলা অটোয়া (কেন্দ্রীয় সরকার) বনাম আলবার্টার দ্বন্দ্বের ইতিহাস পুরোপুরি শেষ না হলেও, এই রায় প্রমাণ করল—অভিযোগ-অনুযোগ সত্ত্বেও কানাডার জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ণ রাখতেই আলবার্টাবাসী সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন।

সরকারকে নয়, এবার ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব: জামায়াত আমির

বিরোধী দল সরকারের পতন নয়, সফলতা চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। জামায়াত আমির বলেছেন, এত দিন তাঁরা সরকারকে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। এখন তাঁরা ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবেন। সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের সেই সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা নেই। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক মুক্ত আলোচনা সভায় শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। ‘জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরের আগপর্যন্ত বিএনপি মজলুম ছিল। নির্বাচনের পর শপথের দিন থেকেই তারা জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। সেই ধারা এখনো অব্যাহত আছে। বিএনপি ‘পোষা লোকদের’ দিয়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে প্রশ্ন তুলছে, বিরোধী দল এত আগে কেন আন্দোলন শুরু করেছে—এমন অভিযোগ করে জামায়াতের আমির বলেন, বিএনপি জনগণের দেওয়া দুটি ভোটের মূল্যায়ন করলে সংসদের বাইরে গিয়ে বিরোধী দলকে আন্দোলন করতে হতো না। তারাই বিরোধী দলকে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিএনপি প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে হাত দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মেধার অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। কিন্তু সরকার একের পর এক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার পর এখন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) দিকে হাত দিচ্ছে। কোনো কোনো মন্ত্রী পিএসসির সদস্যদের ডেকে পদত্যাগ করতে বলছেন বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়। পিএসসির সদস্যদের এ ধরনের কথা বলার অধিকার কোনো মন্ত্রীর নেই। এর অর্থ, তাঁরা চাকরির এই জায়গা দলীয় লোকজন দিয়ে পূর্ণ করতে চান। চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর রংপুরে গিয়ে একই কথা বলেছিলেন। এই টাকা রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে যাবে, বিএনপির তহবিল থেকে নয়। তাই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া একধরনের অপরাধ। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘এই বস্তাপচা রাজনীতির জন্য চব্বিশে গণ-অভ্যুত্থান হয়নি।’ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সরকারি খাসজমিতে মহিষের ঘাস খাওয়ানোর জন্য চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত মহিষের ওপরও ট্যাক্স বসানো হচ্ছে। মহিষকেও টাকা দিয়ে ঘাস খাওয়াতে হবে। টাকা না দিলে বিষ দিয়ে মহিষ মেরে ফেলা হবে!’ সাত মাসের মধ্যে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ‘জবাই করা হয়েছে’ মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, আগের স্বৈরাচারী সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। বিরোধী দল মুখে আঙুল দিয়ে বসে থাকবে না। বিরোধী দলের ৮৯ জন সংসদ সদস্য সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন। বিএনপি বদলে গেলেও বিরোধী দল তাদের কথা বদলাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়বেন তাঁরা। বিরোধী দল কারও চোখ রাঙানিকে ভয় করবে না উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, তাঁদের আন্দোলনে জ্বালাও-পোড়াও হবে না। এই আন্দোলনে নব্য ফ্যাসিবাদের পতন হবে। বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপির কাছে সবার আগে তারা নিজেরা, তাদের পরিবার, সন্তান, ভাগনে, ভাতিজা, শ্বশুর ও স্ত্রী। এই সিন্ডিকেটের হাতে বাংলাদেশকে তুলে দেওয়া হবে না। সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারের মুখে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা শুনে মানুষ এখন বিরক্ত। সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, তা দেশের মানুষ বুঝতে পারেনি। সরকার তাদের অতীত ভুলে গেছে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার পরিণতি শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল শনিবার ১৪টি জায়গা পরিদর্শন করলেও রাড্ডার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও পরিদর্শনে কেন যাননি, সেই প্রশ্ন তোলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। জুলাই বিপ্লবের সময় রাজপথে গড়ে ওঠা অভূতপূর্ব ঐক্যে বিএনপি ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে এবং ইসলামপন্থীদের প্রথম লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। মামুনুল হক বলেন, ৫০ বছর ধরে ইসলামপন্থীরা বিএনপিকে বিনা মূল্যে সহযোগিতা করে গেছেন। তাঁদের আশা ছিল, বিএনপি বাংলাদেশে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু এখন মানুষের কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার, বিএনপি রাষ্ট্র মেরামত করতে চায় না। তারা বাংলাদেশে জেঁকে বসা আধিপত্যবাদীদের সঙ্গে আপস করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই বিপ্লবের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার না করে বিএনপি যদি তা অব্যাহতভাবে অগ্রাহ্য করতে থাকে, তবে তাঁরা সংবিধান সংশোধনের বদলে পুনর্লিখনের দিকে অগ্রসর হবেন। এই আন্দোলন ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের চেয়েও ব্যাপক ও ভয়ংকর হবে। মামুনুল হক আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ধীরে ধীরে শেখ হাসিনার পথে পা বাড়াচ্ছেন। সরকারের সংবিধান সংশোধনের ‘ধাপ্পাবাজিতে’ বিরোধী দল পা দেবে না। আলেম সমাজের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, ‘বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা যদি আমাদের সন্তানদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করি, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।’ আলোচনা সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে তারা কার্ড বিতরণের ঘোষণা দিয়েছিল। এটি এক ধরনের ঘুষ। এর মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেও তারা একই কাজ করছে। এটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। অলি আহমদ বলেন, সরকার গদিচ্যুত হয়, এমন কিছু এখন পর্যন্ত বিরোধী দল করছে না। তাঁরা জনমত গড়ে তুলছেন এবং জনগণের দাবি আদায়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

সরকারকে নয়, এবার ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব: জামায়াত আমির

স্কটল্যান্ড-ওয়েলস-উত্তর আয়ারল্যান্ডের বৈঠক, ভাঙনের ইঙ্গিত যুক্তরাজ্যে

আজ সোমবার স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা এক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। তারা এই বৈঠকে যুক্তরাজ্য ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে সই করবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে। ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে নজিরবিহীন এই সম্মেলনে তিন অঞ্চলের ফার্স্ট মিনিস্টার বা সরকারপ্রধান যৌথ এক ঘোষণাপত্রে সই করবেন। এতে তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের স্বাধীনতা নিয়ে গণভোট আয়োজনের অধিকার দাবি করা হবে। এ বৈঠক এমন সময় হচ্ছে, যখন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এমপিদের বলেছেন, কোনো স্বাধীনতা গণভোটের পক্ষে যদি ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তাহলে তিনি আরেকটি স্কটিশ গণভোটের অনুমতি দেবেন। এদিকে, বৈঠকের মাত্র দুই দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন—তিনি ‘একীভূত আয়ারল্যান্ড’ দেখতে ‘খুবই পছন্দ করবেন।’ গত শনিবার ডাবলিন সফরের সময় তিনি বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এটা কীভাবে খারাপ হতে পারে?’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর জাতীয়তাবাদী নেতাদের চাপ বাড়ার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অবশ্য ইংল্যান্ডে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণকে তার রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রীয় বিষয় করেছেন। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি–এসএনপির নেতা ও স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেছেন, বার্নহামকে এখন হয়তো এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে যে, ইতিহাসে তিনি ‘যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে পরিচিত হবেন। গত মে মাসের নির্বাচনে ওয়েলসে লেবার পার্টির বড় পরাজয়ের পর প্রথমবারের মতো তিনটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সরকারেই স্বাধীনতাপন্থী দল ক্ষমতায় এসেছে। কার্ডিফের সেনেডে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে প্লেইড কামরু। দলটির নেতা রুন আপ ইওয়ের্থ ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্ব নিয়েছেন। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডে এসএনপি তাদের প্রধান রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান আরও শক্ত করেছে। যদিও হলিরুডে দলটি ছয়টি আসন হারিয়েছে। এই সুযোগে রিফর্ম ও গ্রিনস দল আসন বাড়িয়েছে। সিন ফেইন ২০২২ সালের স্টর্মন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি–ডিইউপির বয়কটের কারণে মিশেল ও’নিলকে ফার্স্ট মিনিস্টার হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আগামী বছর আবার নির্বাচন হলে সিন ফেইনই ক্ষমতা ধরে রাখবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই তিন নেতা বৈঠকে সিন ফেইনের প্রেসিডেন্ট এবং আয়ারল্যান্ডের বিরোধীদলীয় নেতা মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডের সঙ্গে যোগ দেবেন। তারা কার্ডিফ বে-এর উপর থাকা পাঁচ তারকা সেন্ট ডেভিড’স হোটেলে বৈঠক করবেন। সেখানে স্বাধীনতার নতুন উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। গতকাল রোববার জন সুইনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড তিনটিই স্বাধীনতাপন্থী ফার্স্ট মিনিস্টারের নেতৃত্বে রয়েছে। এর চেয়ে স্পষ্ট আর কোনো লক্ষণ হতে পারে না যে বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয় এবং ওয়েস্টমিনস্টারকে যুক্তরাজ্য-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। সাংবিধানিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে যে গতি তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অ্যান্ডি বার্নহামকে এখন হয়তো এই ধারণার মুখোমুখি হতে হচ্ছে যে ইতিহাসে তিনি যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবেন। আগামীকাল (আজ সোমবার) কার্ডিফে দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন অংশের অংশীদারদের সঙ্গে একটি ভালো ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার অপেক্ষায় আছি। আর সেই ভবিষ্যৎ কেবল স্বাধীনতার মাধ্যমে নতুনভাবে শুরু করার মধ্য দিয়েই আসতে পারে।’ জানা গেছে, তিন ফার্স্ট মিনিস্টার এই সম্মেলনে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন। এতে তাদের নিজ নিজ জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হবে। দ্য টেলিগ্রাফকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে পার্লামেন্টে বার্নহাম যে মন্তব্য করেছিলেন, তার পর তার ওপর আরও চাপ বাড়ানোই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য। ওই দিন তিনি বলেছিলেন, জনমত যদি আরেকটি স্বাধীনতা গণভোটের পক্ষে থাকে, তাহলে স্কটল্যান্ডে আবার গণভোট হতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হাউস অব কমন্সে বলেছিলেন, স্কটল্যান্ডের বিচ্ছেদের গণভোট আয়োজনের শর্ত হবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি প্রযোজ্য, ঠিক একই পরিস্থিতি। গুড ফ্রাইডে চুক্তির অধীনে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে গণভোট আয়োজনের একটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য ছেড়ে যেতে ভোট দেবেন বলে ‘মনে হওয়ার মতো পরিস্থিতি’ তৈরি হলে গণভোট আয়োজন করতে হবে। সুইনির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ‘তিনি (বার্নহাম) উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে স্কটল্যান্ডের বিষয়টি ব্যবহার করে ভুল করেছেন, এরপর এই সপ্তাহে স্কটল্যান্ডের ক্ষেত্রে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিষয়টি ব্যবহার করেও আবার ভুল করেছেন। বার্নহাম তাঁর ব্রিফ পড়েননি এবং ইউনিয়ন বা যুক্তরাজ্য ধরে রাখার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানের মৌলিক বিষয়গুলোও তিনি জানেন বলে মনে হয় না। আমি যদি একজন ইউনিয়নপন্থী হতাম, তাহলে খুবই উদ্বিগ্ন হতাম।’ বৈঠকের পর তিন ফার্স্ট মিনিস্টার একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন। আলোচনার সময় তাঁরা একটি সমঝোতা স্মারকেও সই করবেন, যেখানে তাদের দলগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার করবে। চুক্তিতে চারটি বিষয় থাকবে। এগুলো হলো অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ। তিনটি দলই একমত হবে যে তাদের অঞ্চলগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হওয়া উচিত। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস নতুন সদস্য হিসেবে এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হবে। জানা গেছে, সমঝোতা স্মারকে স্বাধীনতার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপের ‘প্রতিবেশী’ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকারও থাকবে। চুক্তির অর্থনীতি-সংক্রান্ত অংশে বলা হবে, যুক্তরাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের জন্য কাজ করছে না। প্লেইড কামরু এই বৈঠককে কাজে লাগিয়ে বার্নহামের ওপর ওয়েলস সরকারকে কর ও সরকারি ব্যয়ের বিষয়ে আরও ক্ষমতা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলটি ক্রাউন এস্টেট থেকে পাওয়া রাজস্ব ওয়েলসকে দেওয়ার দাবি করছে। এর মধ্যে সেই সমুদ্রতলও রয়েছে, যেখানে অফশোর উইন্ড ফার্ম বা সমুদ্রভিত্তিক বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হয়। বর্তমানে এসব রাজস্ব ট্রেজারিতে যায়। প্লেইড কামরু আরও চায়, লেবার পার্টি বার্নেট ফর্মুলার পরিবর্তে আরও বেশি অর্থের একটি ব্যবস্থা চালু করুক। একই সঙ্গে পুলিশিং ও রেল খাতে অর্থায়নের মতো আরও কিছু ক্ষেত্রের ক্ষমতাও ওয়েলস সরকারের কাছে হস্তান্তর করার দাবি করছে দলটি। প্লেইড কামরুর একটি সূত্র বলেছে, ‘জ্বালানি, অর্থনীতি ও ইউরোপের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের মতো বিষয়গুলোতে বাস্তব রাজনৈতিক সহযোগিতার জোরালো ভিত্তি রয়েছে। পাশাপাশি আমাদের দেশগুলোর সামনে থাকা বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়েও সহযোগিতা করা যায়। আমাদের দলগুলোর একসঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু পাওয়ার আছে। যেসব ক্ষেত্রে আমাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আমাদের প্রতিনিধিত্ব করা মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে অংশীদার ও সমান হিসেবে কাজ করা আমাদের সবার জন্য লাভজনক।’ সিন ফেইনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নেতারা আলোচনা করবেন ‘গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিটি জাতি কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রাখে এবং কীভাবে জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে সেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায়।’ সূত্রটি আরও বলেছে, ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি আমাদের সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার গণতান্ত্রিক পথ দিয়েছে। এখন সেই সিদ্ধান্তের জন্য গুরুত্বের সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে। আইরিশ ঐক্য কোনো দূরের আকাঙ্ক্ষা নয়। নতুন আয়ারল্যান্ড গড়ে তোলার কাজ এখনই শুরু করতে হবে।’ বৃহস্পতিবার জন সুইনিকে পাঠানো এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জোর দিয়ে বলেছেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে আরেকটি স্কটিশ স্বাধীনতা গণভোট আয়োজনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতা গণভোট আয়োজনের পক্ষে কোনো ঐকমত্য নেই। একইভাবে বর্তমানে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হতে চান, এমনটা বলার মতোও কোনো স্পষ্ট ভিত্তি নেই।’ বার্নহাম চিঠিতে লেখেন, ‘২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহার, যার ভিত্তিতে লেবার পার্টি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল, সেখানে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল—“লেবার স্বাধীনতা বা আরেকটি গণভোটকে সমর্থন করে না। ” গ্লাসগোতে সম্প্রতি আমাদের ব্যক্তিগত বৈঠকে আমি যেমন আপনাকে স্পষ্ট করে বলেছি, স্বাধীনতা ও গণভোটের বিষয়টি এখন আলোচনার বাইরে। কারণ এটি অর্থনীতি বড় করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে পরিবারগুলোকে সহায়তা করার বিষয় থেকে আমাদের মনোযোগ সরিয়ে দেবে।’

স্কটল্যান্ড-ওয়েলস-উত্তর আয়ারল্যান্ডের বৈঠক, ভাঙনের ইঙ্গিত যুক্তরাজ্যে
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream