রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
এশিয়ান গেমসের প্রথম সোনা উঠল জাপানের ঘরে

এশিয়ান গেমসের প্রথম সোনা উঠল জাপানের ঘরে

তাকুমি হোজো পুরুষদের ব্যক্তিগত ট্রায়াথলনে জিতে আয়োজক জাপানকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দিয়েছেন। এশিয়ান গেমসের প্রথম সোনার পদকটি জিতেছেন রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) তিনি।৫২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে হোজো ৭৫০ মিটার সাঁতার, ২০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ৫,০০০ মিটার দৌড় শেষ করেন। তিনি রূপাজয়ী চীনের ঝাং রিুইয়ের চেয়ে ৯ সেকেন্ড এগিয়ে ছিলেন। কাজাখস্তানের আরলান ঝানাবায় আরও ৬ সেকেন্ড পিছিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন।৩০ বছর বয়সী হোজো বলেন, 'এটি আমাদের প্রথম সোনার পদক হওয়ায় জাপানি দলের জন্য সত্যিই বড় উৎসাহের ব্যাপার।' এই জয়ের ফলে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে অংশগ্রহণের যোগ্যতাও অর্জন করবেন তিনি।হোজো বলেন, 'আমি সত্যিই খুব উজ্জীবিত ছিলাম। এমনকি বৃষ্টিও থেমে ছিল এবং স্টার্টিং লাইনে দাঁড়ানো পর্যন্ত আমি দুর্দান্ত ফর্মে ছিলাম। আমি জানতাম কঠিন হবে। তবে ভেবেছিলাম, নিজেকে উজাড় করে দেব। সেটা যদি কাজে লাগে, তাহলে মনে হয় ভালো একটি রেস হবে।'৫,০০০ মিটার দৌড়ের বেশিরভাগ সময় রূপাজয়ী ঝাং হোজোর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে রূপা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।ঝাং বলেন, 'আমি খুব খুশি, যদিও জাপানের পেছনে থেকে হতাশ। চীনের প্রতিনিধিত্ব করা সম্মানের।'তরুণ ঝানাবায় ব্রোঞ্জ জিতে বলেন, 'ফলাফলে আমি খুব সন্তুষ্ট। অবশ্যই আমি জিততে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের যা হয়েছে, সেটাই মেনে নিতে হবে। আমি খুব গর্বিত, কারণ আমার বয়স মাত্র ২০ এবং এটাই এশিয়ান গেমসে আমার প্রথম পদক।'

আইচি এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদকের লড়াই

বাংলাদেশের ২৬০ ক্রীড়াবিদ নিয়ে জাপানের আইচির রাজধানী এখন ক্রীড়া উৎসবের মিলনমেলায় মুখরিত। ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবেন তারা। প্রতিবেশী ভারত যেমন পদকের আশা নিয়ে আইচিতে এসেছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা কিছুটা কম। ক্রিকেটকে ঘিরে পদকের সম্ভাবনা, তেমনি করে অন্য ইভেন্টগুলোতে অ্যাথলেটদের শুধু অভিজ্ঞতা অর্জনের। ক্রিকেটের মতো পদক জয়ের সম্ভাবনা আছে আরচারি, শুটিং এবং কাবাডিতে। সর্বশেষ এশিয়ান গেমসে হ্যাংঝু বাংলাদেশ দুটি ব্রোঞ্জপদক জিতেছিল ক্রিকেট থেকে। ক্রিকেট ছিল না বলে ২০১৮ জাকার্তা গেমসে কোনো পদক মেলেনি। তাই ২০১০ গুয়াংজু এশিয়ান গেমসের পর ক্রিকেটকে ঘিরে স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে নিগার সুলতানা জ্যোতিরা এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সেমিফাইনালে উঠেছেন। আগামীকাল শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত। এই কঠিন পথটি পাড়ি দিতে পারলে স্বপ্নের ফাইনালে উঠবেন জ্যোতিরা। ছেলেদের ক্রিকেটে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে ২৯ সেপ্টেম্বর। স্বর্ণ জয়ের আশায় এবারের গেমসে শক্তিশালী দল গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা আছেন বলে স্বপ্নটা আরও বড়। এশিয়াডে যে ইভেন্টটি ১৯৯০ সালে বাংলাদেশকে পদক এনে দিয়েছিল সেই কাবাডি গত আসরে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন করে এবার আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে কাবাডিকে নিয়ে। ফুটবলে হতাশ করেছেন মেয়েরা। উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পরাজয়ের পর গ্রুপ পর্ব ডিঙ্গানোটা অসম্ভব বলা চলে ঋতুপর্ণা চাকমাদের। ক্রিকেট আর কাবাডির বাইরে, শুটিং এবং আরচারি থেকে পদকের প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।  আরচারিতে দলগত ইভেন্টে পদকের আশা করছেন দলটির কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। আব্দুর রহমান আলিফ, রামকৃষ্ণ সাহা, রাকিব মিয়া, হিমু বচ্চর, বন্যা আক্তাররা যদি স্নায়ুর চাপ সামলে নিজেদের সেরাটা খেলতে পারেন তাহলে তীর-ধনুকে আসতে পারে পদক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে বেশ কয়েকবার সাফল্য এনে দেওয়া শুটিংকে ঘিরেও প্রত্যাশা ক্রীড়ামোদীদের। রাব্বি হাসান মুন্না, রবিউল ইসলামের সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ আব্দুল্লাহ হেল বাকি। কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশকে পদক এনে দেওয়া বাকির ওপর নজর থাকবে সবার। এর বাইরে আনজিলা আমজাদ-সৈয়দ আতকিয়া হাসানরাও শুটিং রেঞ্জে নিজেদের মেলে ধরার অপেক্ষায়।  জিমন্যাস্টিকসে রাজিব চাকমাকে ঘিরে আশা বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীদের।  এশিয়াডে যে ১৪টি পদক জিতেছিল বাংলাদেশ, তার মধ্যে ১৩টি এসেছে দলগত থেকে। একটি ব্যক্তিগত পদক জিতেছিলেন বক্সার মোশাররফ হোসেন ১৯৮৬ সিউল গেমসে। ৪০ বছর পর এশিয়াডে ব্যক্তিগত পদক এনে দেওয়ার প্রত্যয় বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের।

আইচি এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদকের লড়াই

নাগোয়ায় আজ পর্দা উঠছে এশিয়ান গেমসের

অনিন্দ্যসুন্দর নাগোয়া শহর যেন সবুজে ঘেরা। পিচঢালা পথে হাঁটতে গেলে চোখ জুড়িয়ে যাবে আইচির রাজধানীর সৌন্দর্যে  এশিয়ান গেমসকে ঘিরে শিল্পের জন্য বিখ্যাত এই নগরী কিছুদিন ধরে বুদ হয়ে আছে। ঘড়ির কাঁটা ঘুরে এখন এশিয়ায় সববৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক পর্দা ওঠার অপেক্ষা। স্থানীয় সময় আজ সন্ধ্যা ৬টায় ৪৫ দেশের ১১ হাজার ক্রীড়াবিদের মিলনমেলায় নাগোয়ার ঐতিহ্যবাহী মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে উদ্বোধন হবে এশিয়ান গেমসের বিশতম আসরের। ৩০ হাজার ধারণক্ষমতা এই স্টেডিয়ামকে গেমসের জন্য নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। দুই ঘণ্টা ব্যাপ্তির এই অনুষ্ঠানে ফুটিয়ে তোলা হবে জাপানের ইতিহাস আর ঐতিহ্য। জাপানের সম্রাট নারুহিতো এবং সম্রাজ্ঞী মাসাকোসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উদ্বোধনীর মার্চ পাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি এবং কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। জাপানের ঐতিহ্যবাহী পারফরম্যান্স এবং সংস্কৃতির মিশ্রণে একটি বর্ণিল প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে অতিথিদের। সবশেষে আসরের অফিসিয়াল মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বরাবরই গোপনীয়তা রক্ষা করে আয়োজকরা। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে এমন পরিকল্পনা। হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনীতে যেমন প্রযুক্তির ছোঁয়া ছিল, নাগোয়াতেও সেটি থাকতে পারে বলে মিলেছে আভাস। জাপানি ঐতিহ্য, বিশেষ করে আইচি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তুলতে ড্রাম পারফরম্যান্স এবং স্থানীয় সংস্কৃতির নানা প্রদর্শনী থাকছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল ধারণা বা থিম হলো ‘হারমোনিক হার্ট বিট’; যা দিয়ে এশিয়ার অ্যাথলেটদের এক হৃদয়ে স্পন্দিত হওয়ার ঐক্যকে ফুটিয়ে তোলা হবে।  অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান হাইলাইট হলো জাপানের অতীত গেমসের ইতিহাসবিজড়িত তিনটি স্থান। ১৯৫৮ সালের টোকিও, ১৯৯৪ সালের হিরোশিমা এশিয়ান গেমস, ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক এবং বর্তমানের আইচি-নাগোয়া থেকে সংগৃহীত পবিত্র শিখা একত্রে মিলিত করে মূল স্টেডিয়ামে শিখা প্রজ্বালন করা হবে। এবারের এশিয়ান গেমসে জাপানের সংস্কৃতির ছোঁয়া দিতে পদকের কেসগুলো তৈরি করা হয়েছে আইচি প্রিফেকচারের ঐতিহ্যবাহী চা-চক্র সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে স্থানীয় ‘হিনোকি’ কাঠ দিয়ে। ঐতিহাসিক আয়োজনের প্রধান নির্দেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাগোয়ায় জন্ম নেওয়া খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক সুকিহিকো সুতসুমি। উদ্বোধনীর রং লাগার আগেই পদকের লড়াই শুরু হয়েছে। যে লড়াইয়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট, নারী ফুটবল এবং পুরুষ হকি দল নেমেছে। আইচির এশিয়ান গেমসে ৪৩টি ডিসিপ্লিনের ৪৬৯ ইভেন্টে ১ হাজার ৪০৭টি পদকের লড়াইয়ে অংশ নেবেন অ্যাথলেটরা। স্বপ্ন ও বাস্তবতার সংমিশ্রণে লাল-সবুজের দলটি অংশ নেবে ২২টি ডিসিপ্লিনে। ক্রিকেট আর ফুটবল দিয়ে স্বপ্নের পথচলা শুরু হয়েছে। মেয়েদের ক্রিকেটে সেমিফাইনালে উঠলেও নারী ফুটবলে হয়েছে বিপর্যস্ত। দুই কোরিয়ার কাছে ১৬ গোল হজম করা ঋতুপর্ণা চাকমা-মনিকা চাকমাদের পরের রাউন্ডে ওঠার আশা প্রায় ফিকে। ২০১০ গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে স্বর্ণ এনে দেওয়া ক্রিকেটকে ঘিরে এবার পদকের আশা। এরসঙ্গে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন শুটার, আরচাররাও।

নাগোয়ায় আজ পর্দা উঠছে এশিয়ান গেমসের
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream