বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
পরমাণু কর্মসূচিতে উত্তর কোরিয়ার নতুন পদক্ষেপ

পরমাণু কর্মসূচিতে উত্তর কোরিয়ার নতুন পদক্ষেপ

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি নিশ্চিত করেছেন উত্তর কোরিয়া একটি নতুন দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানিয়ে একে ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। নতুন ভবনটি উত্তর কোরিয়ার প্রধান ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সের অংশ। সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য ২৮টি পর্যন্ত সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড স্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। আইএইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অবকাঠামোর ধারাবাহিক বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে। ২০০৯ সালে পরিদর্শকদের বহিষ্কার করার পর থেকে আইএইএ মূলত স্যাটেলাইট ছবির ওপর ভিত্তি করে তাদের পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করে আসছে। আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এক বিবৃতিতে জানান, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির এই বিস্তার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এর আগে গত ৩ জুন দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন নবনির্মিত এই পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশংসা করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েল জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো ইয়ংবিয়নের বাইরে ক্যাংসনের মতো আরও অনেক গোপন কেন্দ্র রয়েছে যা চিহ্নিত করা কঠিন। ক্যাংসন সেন্টারে গত বছরের শুরুতে একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরচলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়ার লক্ষণ দেখা গেছে। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6aa78e8fed5f6" ) ); আন্তর্জাতিক আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে, যা ২০২২ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে প্রায় ৬৪ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ একাধিক পরীক্ষা চালিয়েছে পিয়ংইয়ং। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষার পর ২০২২ সালে নিজেদের পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে তারা। চলতি বছরের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়াং যুদ্ধ অবসানে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দেন এবং বার্ষিক ১৫ থেকে ২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড উৎপাদন বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে চুক্তির সমর্থনে মত দেন। তবে উত্তর কোরিয়া এখনো এই প্রস্তাবের কোনো উত্তর দেয়নি। সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের মহড়ার পরই ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) উত্তর কোরিয়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর একদিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সাথে পাঁচ দিনের যৌথ নৌমহড়া শেষ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলের কাছে গত মাসে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় অনুষ্ঠিতব্য ‘ফ্রিডম এজ’ নামে পরিচিত এই যৌথ মহড়ার পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছিল পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়া একে দেশটির এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘পূর্ব উপকূলের ওয়নসান এলাকা থেকে জাপান সাগরের দিকে ছোড়া একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ শনাক্ত করেছে। পূর্ব সাগর নামেও পরিচিত এই জলভাগকে জাপান সাগর বলা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে শনাক্ত করা হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (১৫৫ মাইল) পথ অতিক্রম করে। জেসিএস জানায়, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও তথ্য বিনিময় করে আসছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্পর্কে জাপানের সাথেও তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে’। এর আগে সর্বশেষ ২০ আগস্ট উত্তর কোরিয়া সমুদ্রে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সাথে তার বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা দেশটির আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগের কিছু লক্ষণ দেখা যাওয়ায় দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক ‘যেকোনো সময়’ হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কিমের সাথে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। একবার তিনি কিমের সাথে তার সম্পর্ককে ‘প্রেমে পড়েছি’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর লক্ষ্য ছিল উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে শেষ পর্যন্ত এর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। সূত্র : বাসস

যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের মহড়ার পরই ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সড়ক যোগাযোগে নতুন দুয়ার

প্রথম সড়ক সেতু  রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চালু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে তুমেন নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে । রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন ও ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ সেতুটি পার হতে পারবেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি ‘জনবল বিনিময়, পর্যটন ও বাণিজ্যের’ কাজে ব্যবহার করা হবে। ইউক্রেনের উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডস বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য ‘মূলত একটি গোপন সামরিক রসদ সরবরাহ করিডর’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন সেতুটিকে ‘বন্ধুত্বের নতুন প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং এটিকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলেছেন। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মিশুস্তিন বলেন, সেতুটি বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার উন্নয়নে ‘শক্তিশালী গতি’ সৃষ্টি করবে। মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এখন ‘নজিরবিহীন উচ্চতায়’ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সেতুটি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পরে চলতি বছরের শেষ দিকে এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই বিমান যোগাযোগ ও রেলপথ রয়েছে। তবে এত দিন একমাত্র সড়ক যোগাযোগ ছিল অস্থায়ী ব্যবস্থা। রয়টার্সের তথ্যমতে, বিশেষ ব্যবস্থায় রেলসেতুর ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হতো। চলতি বছরের মে মাসে বিবিসির প্রকাশিত উপগ্রহচিত্রে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির সঙ্গে কয়েকটি নতুন সংযোগ সড়ক, একটি সীমান্ত তল্লাশিচৌকি, সহায়ক অবকাঠামো ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা দেখা যায়। ২০২৪ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফরের সময় সেতু নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি হয়। ২৪ বছর পর সেটিই ছিল উত্তর কোরিয়ায় পুতিনের প্রথম সফর। ওই সফরেই দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিছু বিলম্বের পর ৪৯৫ দিনে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দুই দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হলে তারা একে অপরকে সহায়তা করবে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে জাহাজে করে ৭ বিলিয়ন থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। আনুমানিক ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা বর্তমানে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ট্রুথ হাউন্ডস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির কারণে সেতুটি ব্যবহার করে উত্তর কোরীয় সামরিক সদস্য, নির্মাণশ্রমিক ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি রাশিয়ায় পাঠানো হতে পারে। সেতুটির মাধ্যমে বিপরীত দিক থেকে রাশিয়ার প্রযুক্তি ও সম্পদ উত্তর কোরিয়ায় প্রবাহের সুযোগও তৈরি হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৪ সালে অনুমতি পাওয়ার পর থেকে সীমিতসংখ্যক রুশ পর্যটক উত্তর কোরিয়ায় যেতে শুরু করেছেন। উত্তর কোরিয়া তাঁদের রাজধানী পিয়ংইয়ং এবং ওনসান-কালমা সমুদ্রসৈকত রিসোর্টে আতিথ্য দিচ্ছে। অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য দেশটি এখনো প্রবেশের সুযোগ সীমিত রেখেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় রাশিয়ার বিভিন্ন নির্মাণস্থল ও কাঠ কাটার শিবিরে কাজ করছেন। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় বিভিন্ন দেশে উত্তর কোরীয় শ্রমিক নিয়োগ নিষিদ্ধ হলেও তাঁদের অনেকেই শিক্ষার্থী ভিসার আড়ালে রাশিয়ায় প্রবেশ করেন। চলতি বছরের মে মাসে কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ভিক্টর চা বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, ‘নির্মাণকাজের গতি দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিমাণের প্রতিফলন।’ ভিক্টর চা বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও শ্রমিক সরবরাহের কারণেই মূলত এ কার্যক্রম গতি পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আগে উত্তর কোরিয়া ও তার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় যোগাযোগগুলোর একটি।’

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সড়ক যোগাযোগে নতুন দুয়ার

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী হবে পারমাণবিক: কিম

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন তার দেশের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে রূপ দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর যৌথ নৌ মহড়া শুরুর মধ্যেই। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে চলতি সপ্তাহের এই নৌ মহড়া ২০২৩ সালে শুরু হয়। কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবেলা এবং দেশটিকে নিবৃত্ত করতেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। রোববার বন্দরনগরী ওয়ানসানে ‘ক্যাং কন’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক নৌবহরে অন্তর্ভুক্তির অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কিম। ২০২৫ সালের মে মাসে পানিতে নামানোর সময় জাহাজটি আংশিকভাবে কাত হয়ে পড়েছিল। উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তাসংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ অ্যাজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। কিম বলেন, ‘আমাদের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে পরিণত করার মাধ্যমে পারমাণবিক যুদ্ধব্যবস্থাগুলোর বৈচিত্র্যময় ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এগুলো পরিচালনা করা যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেকোনো সময় নির্দেশ পেলেই নতুন প্রজন্মের এই ডেস্ট্রয়ার শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী পাল্টা আঘাত হানবে। কারণ এটি রাষ্ট্রের পারমাণবিক পাল্টা আঘাত ব্যবস্থার একটি অংশ।’ প্রকাশিত ছবিতে কিম জং উনকে তার মেয়ে জু আয়ের সাথে দেখা গেছে। ধারণা করা হয়, বাবার পর উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের দায়িত্ব তার হাতেই যেতে পারে। গত জুলাইয়ে কিম ‘কাং কন’-এর একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও তদারক করেন। গত বছর পানিতে নামানো পাঁচ হাজার টন শ্রেণির দু’টি যুদ্ধজাহাজের একটি হলো ‘কাং কন’। জাহাজটি পানিতে নামানোর সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এক বছরের কিছু বেশি সময় পর এর পরীক্ষা করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুল বলেন, কিমের ‘পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত নৌবাহিনী’ গড়ার বক্তব্য থেকে ধারণা করা যায়, এসব যুদ্ধজাহাজ কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কিম আরো বলেন, উত্তর কোরিয়া নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করছে, যার ফলাফল আগামী আট মাসের মধ্যে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। অধ্যাপক লিমের মতে, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) বহনে সক্ষম নতুন কোনো সাবমেরিনের মতো বড় ধরনের কৌশলগত অস্ত্র বা সামরিক সক্ষমতা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে— এমন ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। লিম আরো বলেন, ‘কাং কন’কে পূর্ব সাগরে মোতায়েনের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যৌথ নৌ মহড়া এবং পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সামরিক সম্পদের সরাসরি ও আঘাতের আওতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার এবারের যৌথ নৌ মহড়ার নাম ‘ফ্রিডম এজ’। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় চলা এই মহড়া শুক্রবার পর্যন্ত চলবে। উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই এই মহড়া হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সাথে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারো কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আরেকটি সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখনো তেমন সাড়া মেলেনি। বরং পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার কমিয়ে আনা সামরিক মহড়ার সমালোচনা করেছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করার কর্মসূচিতে অর্থায়নের পরিকল্পনারও নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। সূত্র : বাসস

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী হবে পারমাণবিক: কিম

দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে ঢুকল উত্তর কোরিয়ার সেনা, সতর্কতামূলক গুলি

আবারও উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে  উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার কয়েকজন সেনা সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকে পড়লে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী তাদের সতর্ক করতে গুলি ছোড়ে। চলতি বছরে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সামরিক সীমারেখা লঙ্ঘনের প্রথম ঘটনা এটিই।রোববার (১৬ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপ জানায়, গত সপ্তাহে ডিমিলিটারাইজড জোনের (ডিএমজেড) পূর্বাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। উত্তর কোরিয়ার একাধিক সেনা সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণের দিকে ঢুকে পড়েন। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সতর্কতামূলক গুলি ছোড়েন। পরে উত্তর কোরিয়ার সেনারা নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরে যান।দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ধারণা, সীমারেখা অতিক্রমের সময় উত্তর কোরিয়ার সেনারা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। সতর্কতামূলক গুলির পর তারা ফিরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আর উত্তপ্ত হয়নি। এরপর ওই এলাকায় আর কোনো অস্বাভাবিক তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি।ইয়োনহাপ জানিয়েছে, গত বছর উত্তর কোরিয়ার সেনারা ১৭ বার সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন। তবে চলতি বছরে এটিই প্রথম এমন ঘটনা।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক হাজার সেনার অংশগ্রহণে শুরু হতে যাওয়া যৌথ সামরিক মহড়ারও বিরোধিতা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, এ মহড়ার জবাবে তারা আরও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ১১ দিনের এই সামরিক মহড়া প্রতি বছর গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রস্তুতি জোরদার করাই এ মহড়ার প্রধান উদ্দেশ্য।১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি; যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান হয়। ফলে দুই কোরিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে ঢুকল উত্তর কোরিয়ার সেনা, সতর্কতামূলক গুলি
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream