মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী হবে পারমাণবিক: কিম

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী হবে পারমাণবিক: কিম

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন তার দেশের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে রূপ দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর যৌথ নৌ মহড়া শুরুর মধ্যেই। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে চলতি সপ্তাহের এই নৌ মহড়া ২০২৩ সালে শুরু হয়। কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবেলা এবং দেশটিকে নিবৃত্ত করতেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। রোববার বন্দরনগরী ওয়ানসানে ‘ক্যাং কন’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক নৌবহরে অন্তর্ভুক্তির অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কিম। ২০২৫ সালের মে মাসে পানিতে নামানোর সময় জাহাজটি আংশিকভাবে কাত হয়ে পড়েছিল। উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তাসংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ অ্যাজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। কিম বলেন, ‘আমাদের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে পরিণত করার মাধ্যমে পারমাণবিক যুদ্ধব্যবস্থাগুলোর বৈচিত্র্যময় ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এগুলো পরিচালনা করা যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেকোনো সময় নির্দেশ পেলেই নতুন প্রজন্মের এই ডেস্ট্রয়ার শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী পাল্টা আঘাত হানবে। কারণ এটি রাষ্ট্রের পারমাণবিক পাল্টা আঘাত ব্যবস্থার একটি অংশ।’ প্রকাশিত ছবিতে কিম জং উনকে তার মেয়ে জু আয়ের সাথে দেখা গেছে। ধারণা করা হয়, বাবার পর উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের দায়িত্ব তার হাতেই যেতে পারে। গত জুলাইয়ে কিম ‘কাং কন’-এর একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও তদারক করেন। গত বছর পানিতে নামানো পাঁচ হাজার টন শ্রেণির দু’টি যুদ্ধজাহাজের একটি হলো ‘কাং কন’। জাহাজটি পানিতে নামানোর সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এক বছরের কিছু বেশি সময় পর এর পরীক্ষা করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুল বলেন, কিমের ‘পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত নৌবাহিনী’ গড়ার বক্তব্য থেকে ধারণা করা যায়, এসব যুদ্ধজাহাজ কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কিম আরো বলেন, উত্তর কোরিয়া নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করছে, যার ফলাফল আগামী আট মাসের মধ্যে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। অধ্যাপক লিমের মতে, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) বহনে সক্ষম নতুন কোনো সাবমেরিনের মতো বড় ধরনের কৌশলগত অস্ত্র বা সামরিক সক্ষমতা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে— এমন ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। লিম আরো বলেন, ‘কাং কন’কে পূর্ব সাগরে মোতায়েনের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যৌথ নৌ মহড়া এবং পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সামরিক সম্পদের সরাসরি ও আঘাতের আওতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার এবারের যৌথ নৌ মহড়ার নাম ‘ফ্রিডম এজ’। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় চলা এই মহড়া শুক্রবার পর্যন্ত চলবে। উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই এই মহড়া হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সাথে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারো কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আরেকটি সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখনো তেমন সাড়া মেলেনি। বরং পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার কমিয়ে আনা সামরিক মহড়ার সমালোচনা করেছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করার কর্মসূচিতে অর্থায়নের পরিকল্পনারও নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। সূত্র : বাসস

দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে ঢুকল উত্তর কোরিয়ার সেনা, সতর্কতামূলক গুলি

আবারও উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে  উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার কয়েকজন সেনা সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকে পড়লে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী তাদের সতর্ক করতে গুলি ছোড়ে। চলতি বছরে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সামরিক সীমারেখা লঙ্ঘনের প্রথম ঘটনা এটিই।রোববার (১৬ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপ জানায়, গত সপ্তাহে ডিমিলিটারাইজড জোনের (ডিএমজেড) পূর্বাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। উত্তর কোরিয়ার একাধিক সেনা সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণের দিকে ঢুকে পড়েন। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সতর্কতামূলক গুলি ছোড়েন। পরে উত্তর কোরিয়ার সেনারা নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরে যান।দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ধারণা, সীমারেখা অতিক্রমের সময় উত্তর কোরিয়ার সেনারা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। সতর্কতামূলক গুলির পর তারা ফিরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আর উত্তপ্ত হয়নি। এরপর ওই এলাকায় আর কোনো অস্বাভাবিক তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি।ইয়োনহাপ জানিয়েছে, গত বছর উত্তর কোরিয়ার সেনারা ১৭ বার সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন। তবে চলতি বছরে এটিই প্রথম এমন ঘটনা।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক হাজার সেনার অংশগ্রহণে শুরু হতে যাওয়া যৌথ সামরিক মহড়ারও বিরোধিতা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, এ মহড়ার জবাবে তারা আরও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ১১ দিনের এই সামরিক মহড়া প্রতি বছর গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রস্তুতি জোরদার করাই এ মহড়ার প্রধান উদ্দেশ্য।১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি; যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান হয়। ফলে দুই কোরিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে ঢুকল উত্তর কোরিয়ার সেনা, সতর্কতামূলক গুলি
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream