বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
আফগান অধিনায়কের বোলিং নিয়ে আপত্তি, চিঠি দিল বিসিবি

আফগান অধিনায়কের বোলিং নিয়ে আপত্তি, চিঠি দিল বিসিবি

আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে চার ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-২ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তবে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে আফগানিস্তানের অধিনায়ক সোহাইল খান ১১ ওভার বোলিং করেছেন বলে অভিযোগ করেছে বিসিবি। এ ঘটনায় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (এসিবি) চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হান্নান সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে তিনি জানান, ম্যাচের আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে অধিনায়কের প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সোহাইল খানের ১১ ওভার বোলিং করার বিষয়টি তুলে ধরে একটি অতিরিক্ত নোটও যুক্ত করা হয়েছে।হান্নান সরকার বলেন, অধিনায়কের প্রতিবেদনের নির্ধারিত ফর্মে এ ধরনের বিস্তারিত অভিযোগ জানানোর আলাদা কোনো জায়গা নেই। এ কারণে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তগুলোর তালিকার পর অতিরিক্ত নোটটি সংযুক্ত করা হয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, একজন বোলার সর্বোচ্চ ১০ ওভার বল করতে পারেন। দুই দফায় ম্যাচ রেফারি ইয়াসির লতিফজাইয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের। হান্নান বলেন, ‘আফগানিস্তানের অধিনায়ক, যিনি দলের প্রধান মূল বোলারও, তৃতীয় (ওয়ানডে) ম্যাচে ১১ ওভার বোলিং করেছেন। অফিসিয়াল স্কোরারের তথ্য দেখার সুযোগ আমাদের ছিল না। তাই দলের ম্যানেজারের ফোনে ক্রিকইনফোর স্কোরকার্ড দেখে আমরা হিসাব রাখছিলাম। আমাদের নিজস্ব অ্যানালিস্টের রেকর্ড অনুযায়ী, (সোহাইল খান) ইতোমধ্যেই ১০ ওভার বোলিং করে ফেলেছিলেন। বিষয়টি যখন আমাদের নজরে আসে, ততক্ষণে তিনি আরেকটি ওভার শুরু করে দিয়েছেন। সেই ওভার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আম্পায়ারদের বিষয়টি জানাই। তবে ততক্ষণে ওভারটি শেষ হয়ে গিয়েছিল।’  ওই ওভারের ফুটেজটি ম্যাচ রেফারির কাছে জমা দিয়েছেন জানিয়ে হান্নান বলেন, ‘অফিসিয়াল স্কোরার সোহাইল খানের বোলিংয়ের হিসাব ১০ ওভার দেখানোয় এই অসংগতি তৈরি হয়েছে। ভুলবশত একটি ওভার অন্য একজন ক্রিকেটারের নামে যোগ করা হয়েছিল, যিনি আসলে কোনো বোলিংই করেননি। ঘটনাটি ছিল এমন যে, ওই ক্রিকেটার নিজের ক্যাপ আম্পায়ারের হাতে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি ক্যাপটি ফেরত নিয়ে নেন এবং তার পরিবর্তে অধিনায়ক (সোহাইল খান) বোলিং করেন। স্কোরার বিষয়টি খেয়াল করেননি। ফলে ওই ওভারটি ভুল করে অন্য ক্রিকেটারের নামে নথিভুক্ত হয়ে যায়।’  বিষয়টি নিয়ে বিসিবির এক কর্মকর্তা ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘(আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯-বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের) দ্বিপাক্ষিক সিরিজে কী ঘটছিল, সে বিষয়ে তাদের (এসিবিকে) অবগত করতেই আমরা চিঠি দিয়েছি। পরবর্তীতে আরও সতর্ক থাকার জন্য তাদের সতর্ক করেছি।’ সিরিজের চতুর্থ ম্যাচের পর এলবিডব্লিউ ও কট বিহাইন্ডের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছিল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। এ নিয়ে দুই দলের কোচিং স্টাফের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে অবশ্য তারা হাত মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে হারের রেকর্ড আফগানিস্তানের

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে টানা হারের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড থেকে সরে গেছে বাংলাদেশ।রেকর্ডটি আফগানিস্তানের টানা দশম পরাজয়ে এখন তাদের দখলে। ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ৯ ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে টাইগাররা। এতদিন এটিই ছিল ভারতের বিপক্ষে কোনো দলের সর্বোচ্চ টানা পরাজয়ের রেকর্ড। মঙ্গলবার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। এতে ভারতের বিপক্ষে আফগানদের টানা পরাজয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ ম্যাচে। ২০১০ সালে টি-টোয়েন্টি অভিষেকের পর থেকে ভারতের বিপক্ষে এখনো জয়ের দেখা পায়নি আফগানিস্তান। ২০২৪ সালে একটি ম্যাচ টাই হলেও সুপার ওভারে হেরেছিল তারা। ভারতের বিপক্ষে টানা হারের তালিকায় জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের নামও রয়েছে। দুই দলই একসময় টানা ৮ ম্যাচ হেরেছিল। তবে জিম্বাবুয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এবং আয়ারল্যান্ড ২০২৬ সালের জুনে ভারতকে হারিয়ে সেই ধারা ভেঙেছে। বাংলাদেশ অবশ্য এর আগেও ভারতের বিপক্ষে টানা ৮ ম্যাচ হেরেছিল, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে। 

বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে হারের রেকর্ড আফগানিস্তানের

চার বছর পর মাঠে আফগান নারী ফুটবলাররা

দেশে খেলার অধিকার হারিয়ে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছিল আফগানিস্তানের নারী ফুটবলারদের। তবে ফিফার স্বীকৃতির মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারা আবারও আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত দুটি প্রীতি ম্যাচ শুধু ফুটবল নয়, ছিল সাহস, পরিচয় ও অস্তিত্বের লড়াইয়ের প্রতীক। জাতীয় সংগীতের সুরে আবেগাপ্লুত খেলোয়াড়রা মাঠে নেমেছেন আফগান নারীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে।২৩ সদস্যের এই দলটি গঠিত হয়েছে বর্তমানে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া আফগান নারী ফুটবলারদের নিয়ে। তারা নিউজিল্যান্ডে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেন এবং কুক আইল্যান্ডসের বিপক্ষে দুটি অনানুষ্ঠানিক প্রীতি ম্যাচ খেলেন।এটাই প্রথমবার, যখন চলতি বছরের এপ্রিলে ফিফা তাদের ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অনুমতি দেওয়ার পর পুরো দল একত্রিত হয়েছে।২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানে নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, অধিকাংশ পেশা এবং সংগঠিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে ২০০৭ সালে গঠিত আফগানিস্তান নারী ফুটবল দল কার্যত ভেঙে যায়। অনেক খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন।দীর্ঘদিনের প্রচারণার পর 'আফগান উইমেন ইউনাইটেড' নামে শরণার্থী দল গঠনের অনুমোদন দেয় ফিফা। এখন এই দলটি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের বাছাইপর্বেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।দলের সদস্য মনোজ নুরি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। কাবুলে বড় হওয়ার সময় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন তিনি। পরিবারের বিরোধিতার কারণে পরিচয় গোপন রাখতে মুখ ঢেকে খেলতেন। পরে জাতীয় পর্যায়ে একের পর এক শিরোপা জিতলেও পরিবারের চাপে কিছুদিন ফুটবল ছাড়তে হয়েছিল।তালেবান ক্ষমতায় ফেরার সময় দেশ ছাড়ার আগে নিজের জেতা পদক ও ট্রফিগুলো বাড়ির বাগানে পুঁতে রেখে যান নুরি। এখনো সেগুলো সেখানেই আছে।নুরির ভাষায়, "একদিন দেশে ফিরে সেগুলো আবার তুলে আনব।"দলের আরেক সদস্য মুরসাল সাদাত বলেন, "আমি যদি ফুটবলার না হতাম, তাহলে হয়তো এখনো আফগানিস্তানেই থাকতাম। লাখো মেয়ের মতো পড়াশোনা বা নিজের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতাম না।"ইংল্যান্ডে বসবাসকারী ডিফেন্ডার নাজমা আরেফিও বলেন, আফগানিস্তানে মেয়েদের সবচেয়ে খারাপ সময়ে অনুশীলনের সময় দেওয়া হতো। ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরমেও তাদের অনুশীলন করতে হয়েছে। তবু তারা হাল ছাড়েননি।কুক আইল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে হারলেও ফলাফল নিয়ে হতাশ নন আফগান নারী ফুটবলাররা।তাদের কাছে এই দুই ম্যাচ শুধু দুটি প্রীতি ম্যাচ নয়; বরং নির্বাসন, বিচ্ছিন্নতা ও দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আবারও নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার প্রতীক।ফিফার স্বীকৃতিকে তারা দেখছেন নতুন এক শুরুর সুযোগ হিসেবে। ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে আফগানিস্তানের জার্সি গায়ে মাঠে নামাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।সূত্র: বিবিসি

চার বছর পর মাঠে আফগান নারী ফুটবলাররা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream