মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
একদিকে দিল্লিতে বিক্ষোভ, অন্যদিকে চেন্নাইয়ে মেট্রো উদ্বোধন মোদির

একদিকে দিল্লিতে বিক্ষোভ, অন্যদিকে চেন্নাইয়ে মেট্রো উদ্বোধন মোদির

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল। শহরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঠেকাতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর মধ্যেই রোববার (১১ অক্টোবর) চেন্নাইয়ে গিয়েছেন মেট্রোরেল উদ্বোধন করতে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের উপস্থিতিতে তিনি চেন্নাই মেট্রো-২ উদ্বোধন করেন। এই লাইন নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি রুপি। উদ্বোধনের পর মোদি চেন্নাই মেট্রোতে চেপে পোরুর বাইপাস স্টেশন থেকে পুনামাল্লা বাইপাস স্টেশন পর্যন্ত যান এবং পরে আবার ফিরে আসেন। এছাড়া তিনি সেখানে ৩ হাজার ৭০০ কোটি রুপির একটি সড়ক প্রকল্পেরও উদ্বোধন করবেন। ককরোচ পার্টির প্রধান অভিজিৎ দ্বীপসহ হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গতকাল আটক করা হয়। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে পুলিশ তাদের ছেড়ে দিতে শুরু করে। এদিন প্রায় তিন হাজার বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশে আজ সকালে অভিজিৎসহ শীর্ষ তিন নেতাকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার গতকাল পদত্যাগ না করায় অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ পার্টি। তারা জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মুক্তি পাওয়ার পর অভিজিৎ মোদি সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে পুরো দিল্লিকে কেন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল? তিনি জানান, আজই তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি আজ নিজ বাড়িতে যাচ্ছেন গতকাল দাদি মারা যাওয়ায়।

ভারতে সিজেপির আন্দোলনে পুলিশি শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ

ভারতে পুলিশ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে তরুণদের বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটির মতে, ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ও প্যালেট গান বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যবহারের প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গত মাসের এই বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের বিস্তারিত বিবরণ তারা সংগ্রহ করেছে। তবে সংগঠনটি স্বীকার করেছে যে বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছিল। উভয় পক্ষের সহিংসতার তদন্তে গত বৃহস্পতিবার একটি প্যানেল গঠন করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এমন পরিস্থিতিতেই অ্যামনেস্টি তাদের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নয়াদিল্লিতে শুরু হয় তেলাপোকাদের এই আন্দোলন। শুরুর দিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও গত ২০ জুলাই পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। সেদিন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি ও বিহারে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্যালেটচালিত শটগান, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠি ও ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও যাচাই করা ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে সংগঠনটি এ দাবি করেছে। বিহারের সিওয়ান জেলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনতার ওপর বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের দুটি ঘটনাও যাচাই করে দেখেছে অ্যামনেস্টি। যদিও এসব ঘটনায় কেউ নিহত হননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অস্ত্র এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার মানদণ্ড এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ পুলিশি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটলেও তার প্রতিক্রিয়া ছিল ‘রাষ্ট্র-অনুমোদিত সহিংসতার’ সমতুল্য বলে মনে করে অ্যামনেস্টি। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই তারা বলপ্রয়োগ করেছিল। পুলিশের দাবি, শিক্ষার্থীদের ছদ্মবেশে থাকা সমাজবিরোধীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুরুতর আহত করেছে। এদিকে গত শুক্রবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির একটি থানার বাইরে ১৯ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর সঙ্গে অবস্থান ধর্মঘট করেন। ওই তরুণ জানান, ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষে প্যালেটের আঘাতে তিনি আহত হয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। পরে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়মের ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া সিজেপির এই বিক্ষোভ সমালোচকদের চোখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। ২০২৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর মোদির সামনে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে আপাতত সেই চাপ সামাল দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

ভারতে সিজেপির আন্দোলনে পুলিশি শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream