বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
শেখ হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি ফের পেছালো

শেখ হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি ফের পেছালো

রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষে সময় চান আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। প্রসিকিউশনের আপত্তি না থাকায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য নতুন তারিখ ঠিক করেন আদালত। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, অলি মিয়া, মামুনুর রশিদ, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।  মামলায় বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।  প্রথমে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১-এর অধীনে ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ জুলাই অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানিতে মামলার ঘটনাস্থলসহ বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি তকমা দিয়ে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে নিয়ে হত্যা করা হতো। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অনেকেই তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বে তাদের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান তিনি। তবে আসামিপক্ষের শুনানি চলাকালে এটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ হস্তান্তর করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।  চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে গত ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়।  প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি নামে পরিচিত একটি ভবনে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামের ওই অভিযানে ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। 

সাজা বাতিল চেয়ে ইনুর আপিল

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলটি দায়ের করা হয়েছে বলে আজ বুধবার জানিয়েছেন ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়। অভিযোগগুলোর সপক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তথ্য–উপাত্ত হাজির করতে পারেনি প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। অভিযোগগুলো ফৌজদারি আওতায় পড়ে না। এ সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করা হয়েছে। ইনুর বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চলতি বছরের ৩০ জুন রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২। মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগেই তাঁকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঘোষিত রায়ে ট্রাইব্যুনালটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছিলেন, তিনটি অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়েছে ১০ বছর করে, তাহলে ৩০ বছর হয়। কিন্তু এই সাজা যুগপৎ চলবে। অর্থাৎ সাজা হবে ১০ বছর। এদিকে ইনুর সাজা ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন। ৫ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সাজা বাতিল চেয়ে ইনুর আপিল

সাগর-রুনি হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের সহযোগিতা চাইলেন রুনির ভাই

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে সহযোগিতা চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে আবেদন করেছেন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আবেদনটি জমা দেন তিনি। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পিবিআই মামলাটির তদন্ত করছে। ট্রাইব্যুনালের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে যদি সাগর-রুনি হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায় তবে অবশ্যই তা পিবিআইকে দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। তবে ট্রাইব্যুনালের আইনে তদন্ত সংস্থা বা প্রসিকিউশন এই মামলা তদন্ত করতে পারে না। অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাবেক একজন সেনা কর্মকর্তা ও একজন নাট্যকর্মীর কথোপকথন পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। জুলাই আগস্টের ঘটনায় চট্টগ্রামের একটি মামলায় সাক্ষীদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এসব করে ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলাকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। সাক্ষীদের নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি। পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। চার দিন পর তদন্তভার দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে না পারায় হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন র‍্যাবের তদন্তেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে হাইকোর্ট মামলাটির তদন্ত থেকে র‍্যাবকে সরিয়ে দিয়ে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। পিবিআইয়ের প্রধানকে ওই টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ থাকলেও পিবিআই তা দাখিল করতে পারেনি। পরে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করে দিয়েছেন। এ পর্যন্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পিছিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হওয়ায় টাস্কফোর্সকে বেশ কয়েক দফায় সময় দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট এই টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন।

সাগর-রুনি হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের সহযোগিতা চাইলেন রুনির ভাই
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream