শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
প্যারিসে ডাকাতির মামলায় কিমকে ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দিল আদালত

প্যারিসে ডাকাতির মামলায় কিমকে ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দিল আদালত

ফ্রান্সের রাজধানীতে ২০১৬ সালে সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হওয়ার ঘটনায় কিম কার্দাশিয়ানকে প্যারিসের একটি আদালত মঙ্গলবার ১ ইউরো (১.১৫ ডলার) ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। এ তারকা এই পরিমাণ ক্ষতিপূরণই অবশ্য দাবি করেছিলেন। মামলার সঙ্গে যুক্ত একজন আইনজীবী এ তথ্য জানিয়েছেন। ডাকাতির এই ঘটনাটিকে কার্দাশিয়ান তার 'জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা' বলে বর্ণনা করেছিলেন। গত বছর আদালত এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করে।  এরপর থেকেই কার্দাশিয়ান এই স্মৃতি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তিনি ও তার স্টাইলিস্ট সিমন হারুশ ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সংস্থা দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, 'অভিজ্ঞতাটি ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক ছিল। এর প্রভাব এখনো আমাদের মনে রয়ে গেছে। আজকের এই রায় শুধু ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি জবাবদিহি ও স্বীকৃতির প্রমাণ।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আদালত এবং এই পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে যারা আমাদের সমর্থন করেছেন, তাদের সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আশা করি, এখন এই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানসিক ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারব।' ওই মামলার এক আইনজীবী জানান, আদালত হোটেল দ্য পোরতালেস-এর একজন সাবেক রিসেপশনিস্টকে ১ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ ইউরো ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। ডাকাত দল যখন কার্দাশিয়ানকে টার্গেট করে, তখন তিনি ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন। ওই রিসেপশনিস্ট জানান, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর 'ফ্যাশন উইক' চলাকালে গয়না ডাকাতির ওই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি ক্ষতিপূরণ ও সুদ বাবদ সাড়ে ৫ লাখ ইউরো দাবি করেছিলেন। তার আইনজীবী মোহান্দ উইদজা এই রায়কে বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন। কার্দাশিয়ান ও অন্যদের বিষয়ে দেওয়া আদালতের লিখিত রায়গুলো এপি-র সাংবাদিকের সামনে পড়ে শোনান এই আইনজীবী। আদালত ওই হোটেলকে ৫০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। এছাড়া ডাকাতির সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কার্দাশিয়ানের স্টাইলিস্ট হারুশকেও তার দাবি করা ১ ইউরো দেওয়া হয়েছে। বিচার চলাকালে কার্দাশিয়ানের পক্ষে কাজ করা ফরাসি আইনজীবীরা চলতি সপ্তাহে এপি-র পক্ষ থেকে করা টেক্সট মেসেজ ও ফোনকলের সাড়া দেননি। ডাকাতদের মধ্যে দুজন পুলিশের ছদ্মবেশে জোরপূর্বক কার্দাশিয়ানের স্যুইটে প্রবেশ করে। তারা জিপ টাই ও টেপ দিয়ে কার্দাশিয়ানকে বেঁধে ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া গয়নার মধ্যে একটি হীরার আংটিও ছিল; সেটি তিনি ওই রাতে গিভেঞ্চির এক শোতে পরেছিলেন। বয়সের কারণে ফ্রান্সে এই ডাকাতরা 'গ্র্যান্ডপা রবার্স' নামে পরিচিতি পান। সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও অন্যান্য অভিযোগে যখন তাদের বিচার হয়, তখন তাদের ছয়জনের বয়স ছিল ৬০ থেকে ৭০-এর কোঠায়। বিচার-পূর্ব আটকাবস্থায় এরইমধ্যে সাজা ভোগ করে ফেলায় দোষী সাব্যস্ত কাউকেই আর নতুন করে কারাগারে যেতে হয়নি। তাদের কেউ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করেননি। ডাকাতদের দোষী সাব্যস্ত করার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে কার্দাশিয়ান বলেন, 'এই মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।' এই তারকা বলেন, 'ডাকাতির এই ঘটনা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা, যা আমার এবং আমার পরিবারের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। যা ঘটেছে, তা আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তবে আমি মানুষের মানসিক উত্তরণ ও জবাবদিহির শক্তিতে বিশ্বাস করি এবং সবার ক্ষত সেরে ওঠার জন্য প্রার্থনা করি।'

জাফর ইকবাল-মানিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, ঢাবির তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামাল ও আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং আন্দোলন দমনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং তাদের দমন-পীড়নের ঘটনায় অভিযুক্তদের ভূমিকা ছিল। এসব ঘটনার সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এখন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের ওপর শুনানি এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

জাফর ইকবাল-মানিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ীর দুই মামলায় চার্জশিট

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলার তদন্ত শেষে আদালতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলায় সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ১০৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। মামলা দুটি হলো- নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলা ও বাবুল মৃধা হত্যা মামলা।যাত্রাবাড়ী থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) পৃথকভাবে আদালতে অভিযোগপত্র দুটি দাখিল করেন। এ বিষয়ে বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন জানান, শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে গত ২৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম খলিল। এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে। তবে এ মামলায় অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ১০৫ জনের মধ্যে যাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন ও আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সচিব আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য ও সাবেক সচিব ফয়েজ আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও আহমেদ কায়কাউস, সাবেক সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান এবং দৈনিক স্টার লাইনের নির্বাহী সম্পাদক মাঈন উদ্দিন। অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট অভিযোগপত্র দেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান। এ মামলায় অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৩৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্না, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ড। অব্যাহতির সুপারিশ করা ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ ও লুৎফুর রহমান।

শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ীর দুই মামলায় চার্জশিট

এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২১ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজনের দাবিতে আন্দোলনের জেরে সাময়িক বরখাস্তের পর লঘুদণ্ড পাওয়া ২১ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছে। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিবের স্বাক্ষর করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে গত ২ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এনবিআরের ওয়েবসাইটেও ২ সেপ্টেম্বরের বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তথ্য রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এসব প্রজ্ঞাপন রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে আন্দোলনের কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত ২১ কর্মকর্তার ওপর আরোপিত লঘুদণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  

এনবিআর আন্দোলনে শাস্তি পাওয়া ২১ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

ফারজানা রুপার সঙ্গে দুই সন্তানের সাক্ষাৎ অনুমোদন ট্রাইব্যুনালের

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) চিকিৎসাধীন ফারজানা রুপার সঙ্গে তার দুই সন্তানকে দেখা করার অনুমতি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ অনুমতি দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। অসুস্থ মায়ের সঙ্গে সন্তানদের সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন ফারজানা রুপার আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। তিনি জানান, কারাগারে অসুস্থ হয়ে গত ৩০ আগস্ট থেকে বিএমইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ফারজানা রুপা। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চায়। পরে সন্তানদের হাসপাতালে গিয়ে মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফারজানা রুপাসহ ৪১ জন আসামি রয়েছেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামির মধ্যে অসুস্থতার কারণে ফারজানা রুপা ছাড়া বাকি ১০ জন বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে ফারজানা রুপাকে বিএমইউতে ভর্তি করা হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বেশ কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বর্তমানে হাসপাতালের প্রিজন সেলে তার চিকিৎসা চলছে।  

ফারজানা রুপার সঙ্গে দুই সন্তানের সাক্ষাৎ অনুমোদন ট্রাইব্যুনালের

ক্যানসারের তহবিল চুরি করে বিলাসবহুল বিয়ে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশির কারাদণ্ড

তামিম চৌধুরী (২৯) নামের এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশিকে ক্যানসার গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি) আত্মসাতের দায়ে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের একটি আদালত। তিনি নিজের বিলাসবহুল বিয়ের খরচ মেটানো ছাড়াও ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ তহবিল চুরির এই অর্থ দিয়ে করেছিলেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিসে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিজের অপরাধ ও অর্থপাচারের অভিযোগ স্বীকার করার পর বিচারক এই রায় দেন। পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনির স্টোক নিউইংটন চার্চ স্ট্রিটের বাসিন্দা তামিম দাতব্য প্রতিষ্ঠান ব্রেস্ট ক্যানসার নাও-এর অর্থ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।  আদালতের শুনানিতে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ক্যান্সার গবেষণা বিষয়ক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান দ্য রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট-এর পক্ষ থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার নাও-কে প্রশাসনিক অনুদানের ৯১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৭২ পাউন্ড ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তামিম ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল প্যাড ব্যবহার করে রয়্যাল মার্সডেনকে পাঠানো এক ই-মেইলে অ্যাকাউন্টের জায়গায় জালিয়াতি করে নিজের স্যানটান্ডার ব্যাংকের বিবরণ দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট পুরো অর্থটি তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, মারাত্মক আর্থিক সংকটে থাকা তামিম পাওনাদারদের তাগাদায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। তবে ব্যাংকে টাকা ঢোকার পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি প্রায় ৪৯ হাজার ১০০ পাউন্ড খরচ করে ফেলেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি দেনা মেটানো, কাতার ভ্রমণের টিকিট, বিলাসবহুল কেনাকাটা, আত্মীয়দের টাকা পাঠানো এবং রাজকীয় বিয়ের আয়োজন ও বিদেশে মধুচন্দ্রিমার খরচ মেটান। হঠাৎ বিশাল অঙ্কের লেনদেনে সন্দেহ হলে স্যানটান্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করে অবশিষ্ট ৪২ হাজার ৮৬৬ দশমিক ২৫ পাউন্ড জব্দ করে। ব্রেস্ট ক্যানসার নাও-এর অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি অব লন্ডন পুলিশের বিশেষায়িত দল তদন্ত শুরু করে এবং ২০২৫ সালের জুনে তামিমকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা জানান, ক্যান্সারের জীবনরক্ষাকারী কাজের অর্থ আত্মসাৎ করে তামিম চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ব্রেস্ট ক্যানসার নাও জানিয়েছে, ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে পুরো অর্থই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির কোনও আর্থিক ক্ষতি হয়নি। এ ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।

ক্যানসারের তহবিল চুরি করে বিলাসবহুল বিয়ে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশির কারাদণ্ড

ওসমান হাদি হত্যার আসামী ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। এদিন দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান অভিযোগসংশ্লিষ্ট ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। ফয়সাল করিম মাসুদ বর্তমানে ভারতে একটি কারাগারে আটক রয়েছেন। আবেদনে বলা হয়, ফয়সাল করিম ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন বলে অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে সে দেশটির কারাগারে আটক রয়েছেন। 

ওসমান হাদি হত্যার আসামী ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ডনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে সিআইডির আবেদন

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার  ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ।২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান ঢাকার আদালতে এ আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রিমান্ড আবেদনে সিআইডি বলেছে, সালমান শাহ হত্যা মামলাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। জনপ্রিয় এই চিত্রনায়কের মৃত্যুর পর ১৯৯৬ সাল থেকেই তার মা নীলা চৌধুরী নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তৎপর রয়েছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থাটি। রিমান্ড আবেদনে ডনকে ‘অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলায় জড়িত অন্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করেছে সিআইডি। এ ছাড়া বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কীভাবে, কী কারণে এবং কার ইন্ধনে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন—সে বিষয়ে তথ্য উদ্‌ঘাটনের জন্যও তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থাটি। গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ১২ আগস্ট তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে একাধিক সংস্থা মামলাটি তদন্ত করে। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। আগামী ৩০ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে। রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

ডনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে সিআইডির আবেদন

বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মিলন কারাগারে

বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও বাগেরহাট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমিরুল আলম মিলনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুনানি শেষে  সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিলনকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন। এর আগে ৭ ডিসেম্বর আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। ওই সময় হামলায় বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আমিরুল আলম মিলন ৯৯ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মিলনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মিলন কারাগারে

ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা শুরু

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা শুরু হয়। আদালতে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবিরও রয়েছেন। এর আগে গত ২০ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়। শুনানি শুরু হয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষের মামলার পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন—সিরাজ উদদৌলা, রুহুল আমিন, মাকসুদুল আলম, হাফেজ আবদুল কাদের, আফসার উদ্দিন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন ও মোহাম্মদ শামীম। পরে আসামিরা হাইকোর্টে পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। পরে এটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে ১৪০/১৯ নম্বরে নিবন্ধিত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়ে এর পেপারবুকও প্রস্তুত করা হয়। এখন হাইকোর্টের রায়ের ওপর নির্ভর করছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরবর্তী আইনি পরিণতি।

ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা শুরু

ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাদুঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে এই আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। মামলাটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশ পরে দেওয়া হবে বলে আদালত আবেদনটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরিফ উদ্দিন মামলা দায়েরের আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ড. আসিফ নজরুল ছাড়াও সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীকে আসামি করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম, আক্তার হোসেন, মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সার্জিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত, পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, কনক সরোয়ার, নুরনবী (অব. কর্ণেল), তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদ। মামলার আবেদনে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের স্মৃতি জাদুঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে আদালত এখনো মামলাটি গ্রহণের বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি। সূত্র: টিবিএস 

ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোনো দিন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন সম্পন্ন করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। এদিন প্রথমে আইন নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।  তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ মারার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়।  এ মামলায় দাখিল করা বিভিন্ন অডিও-ভিডিওতে এসবের প্রমাণ উঠে এসেছে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউশনের এসব কথার জবাব দেন ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী এম হাসান ইমাম। তিনি দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় শুট অ্যাট সাইটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আমার তিনজন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসেবলিটিতে একজনকেই আমি দায়ী করি। অতএব আমার মক্কেলরা কাউকে মারেননি বা মারার নির্দেশও দেননি। এরপর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন ইশরাত জাহান।  এই আইনজীবীর দাবি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তার চার মক্কেল তথা সাদ্দাম, ইনান, পরশ ও নিখিলের নাম আসেনি। নেতৃত্ব দিয়েছেন অন্যরা। এছাড়া অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা চলছিল। ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, বারবার নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এ মামলায় কোনো নারী সাক্ষী আনা হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণেও এমন কিছু দেখাতে পারেনি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।  নিজের চার মক্কেলের খালাস চেয়ে ইশরাত বলেন, শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে আন্দোলন ঘিরে কিছু কথা উচ্চারণ করেছেন আমার মক্কেলরা। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এছাড়া প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত কোনো ভিডিওতেই তাদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল না। এককথায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেনি প্রসিকিউশন। এজন্য আমি চারজনেরই খালাস প্রার্থনা করছি। আসামিপক্ষের যুক্তি শেষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের ব্যাখ্যা দিয়ে এ মামলার আসামিদের অপরাধ তুলে ধরেন। আন্দোলন দমনে নেমে একজন লোক মারা গেলেও আসামিরা অপরাধী বলে গণ্য হবেন বলে আইনি যুক্তি দেখান তিনি।  এর আগে, ১২ আগস্ট সাত আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করে প্রসিকিউশন। এ মামলায় সব আসামির অপরাধ গুরুতর বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।  তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ী। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চান তারা। গত ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোনো দিন
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream