বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

মতামত

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: নীতিগত স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রশ্ন

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: নীতিগত স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রশ্ন

আনোয়ার আলমগীর​পুঁজিবাজার ও জাতীয় অর্থনীতি কেবল কয়েকটি সূচক বা টেবিল-চেয়ারের পরিবর্তনের খেলা নয়; এটি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, সুশাসন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ভূমিকা এবং পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি মন্দাবস্থা নিয়ে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।​সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলামের মেয়াদে বাজারে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেলেও, বড় ধরনের নীতিগত ভুল, সিদ্ধান্তহীনতা ও অভ্যন্তরীণ স্বার্থান্বেষী চক্রের প্রভাবে বাজার কখনো টেকসই ভিত পায়নি। এর মধ্যে অন্যতম বড় বড় আঘাত ছিল বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক (Beximco Green Sukuk) বন্ডের ৩,০০০ কোটি টাকা এবং আইএফআইসি আমার বন্ডের প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা।​তারল্য শূন্যতা ও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের খেসারতসাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বন্ডগুলোর প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না। পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিউচুয়াল ফান্ড এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে একপ্রকার বাধ্যতামূলকভাবে সুকুক বন্ড কিনতে বাধ্য করা হয়। এককভাবে একটিমাত্র গ্রুপের হাতে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে দেওয়ার ফলে পুরো পুঁজিবাজারে ভয়াবহ তারল্য সংকট (Liquidity Crisis) তৈরি হয়। যে প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ডগুলোর সাধারণ শেয়ার কিনে বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল, তাদের হাত সম্পূর্ণ শক্ত হয়ে যায় এই লোকসানি বন্ডে টাকা আটকে যাওয়ার কারণে। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের সুকুক বন্ডের দাম পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলো আজ বিপুল লোকসানের মুখে।যেখানে পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়া দেশগুলোর শেয়ারবাজার রেকর্ড ভেঙে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক নির্দেশক তাদের চেয়ে ভালো হওয়া সত্ত্বেও আমাদের পুঁজিবাজার কেন তলানিতে?​পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কা তাদের মূল সংকটগুলো স্বীকার করে আইএমএফ (IMF) ও বৈশ্বিক কাঠামোর সাথে সংগতি রেখে বাজারে দ্রুত নীতিগত স্বচ্ছতা এনেছে, সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে এবং বড় বড় কারসাজিকারীদের শক্ত বার্তা দিয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের ওপর আস্থা ফেরত পেয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনৈতিক পটের পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নেতৃত্ব বদল হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রায় আড়াই বছর পার হয়ে গেলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। শুধু আইওয়াশমূলক জরিমানা, শোকজ আর ইচ্ছা মতো নীতি পরিবর্তন করে বাজার চালানো হচ্ছে—যা কাজের চেয়ে ক্ষতি বেশি করছে।​১. তারল্য সংকট নিরসন ও নীতিগত স্বাধীনতা​বিএসইসি-কে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও কর্পোরেট প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।​ব্যাংক ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর আটকে থাকা তারল্য মুক্ত করতে বিশেষ রিফাইন্যান্সিং বা সহায়তা তহবিল তৈরি করা প্রয়োজন, যেন তারা মূল শেয়ারবাজারে ক্রয়ক্ষমতা ফেরত পায়।​২. শুধুমাত্র জরিমানা নয়, কঠোর আইনগত জবাবদিহিতা​বাজারে নামমাত্র জরিমানা করে ফাইল বন্ধ করার কালচার বন্ধ করতে হবে। যারা ভুয়া ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্ট দিয়ে বা কারসাজি করে বিনিয়োগকারীর টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা ও বাজার থেকে স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।​৩. মানসম্পন্ন ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তকরণ​দুর্বল, জাঙ্ক বা অস্তিত্বহীন কোম্পানিকে আইপিও (IPO) দিয়ে বাজারে আনার পথ বন্ধ করতে হবে।​দেশের বড় বড় লাভজনক বহুজাতিক ও দেশীয় গ্রুপগুলোকে আকর্ষণীয় পলিসি সুবিধা দিয়ে বাজারে আনা নিশ্চিত করতে হবে।​৪. ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা​হুটহাট নিয়ম পরিবর্তন না করে অন্তত ৫ থেকে ১০ বছরের একটি স্থায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি পুঁজিবাজার পলিসি ঘোষণা করা আবশ্যক।​অডিটিং ব্যবস্থার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে কোনো কোম্পানি ভুয়া হিসাব দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করতে না পারে।​পুঁজিবাজার ভালো করতে হলে কোনো আইওয়াশ বা টেবিল-চেয়ারের পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন সদিচ্ছা ও কাঠামোগত বাস্তব সংস্কার। নীতি নির্ধারকরা যখন মুখের কথা বা আইওয়াশ জরিমানার বাইরে এসে অনিয়মের মূল জায়গায় হাত দেবেন এবং বাজারকে সুশাসনের ভিত্তিতে নিজস্ব গতিতে চলতে দেবেন, তখনই কেবল সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা ফিরে পাওয়া সম্ভব।

পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি খুবই স্বাভাবিক

পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হলে বিনিয়োগকারীদের মনে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। দীর্ঘদিনের আর্থিক ক্ষতি এবং বাজারের অস্থিরতা যেকোনো বিনিয়োগকারীর জন্যই চরম মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।বাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও কমিশন সম্পর্কিত বিষয়গুলো বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা যায়:বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান: নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বাজারের গতি ফেরাতে দ্রুত এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপের আশা থাকে। তবে নীতিগত পরিবর্তন, কারসাজি রোধে তদন্ত কার্যক্রম এবং কাঠামোগত সংস্কারের সুফল বাজারে প্রভাব ফেলতে প্রায়শই কিছুটা সময় নেয়।​মৌলভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা: পুঁজিবাজারের ওঠানামা কেবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিমালার ওপর নির্ভর করে না। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক পারফরম্যান্সও এখানে বড় ভূমিকা রাখে।নিয়ন্ত্রণ বনাম বাজারের স্বাভাবিক গতি: একটি টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে কৃত্রিমভাবে সূচক ধরে রাখার চেয়ে নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অধিক জরুরি। অতীতে ফ্লোর প্রাইসের মতো সাময়িক পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করেছিল, যা থেকে বের হতে নতুন কমিশনকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।আস্থার সংকট: দীর্ঘমেয়াদি দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়, তা দূর করতে কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও নিয়মিত যোগাযোগের প্রয়োজন রয়েছে।

পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি খুবই স্বাভাবিক

মেননকে হত্যাচেষ্টার ৩৪ বছর : বিচার অধরাই রয়ে গেছে!

“মেনন এখনো – আমাদের সাহসের পতাকাশোনো সবাই!মেননের বুক আজও কাঁপিয়ে দেয় সময়কে—সেই বুক, যেটা গুলির ঝাঁঝরা হয়েছিল,তবুও থামেনি হৃদস্পন্দন,থামেনি মুক্তির মিছিলের ধ্বনি।যখন রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল,বাংলার মাটি শপথ নিয়েছিল—এ মানুষ বাঁচবে,কারণ তাঁর শ্বাসে আছেআমাদের সাহসের জ্যোতি।ছয় মাস—দেশে বিদেশে,হাসপাতালের বিছানায় লড়াই,কিন্তু বুলেট পারেনি তাঁর চোখের আগুন নিভাতে।তিনি ফিরেছেন—বুকে ক্ষতের দাগ নিয়ে,আর হাতে ভবিষ্যতের স্বপ্ন তুলে দিয়ে।আজ মেননের বুক শুধু এক শরীরের গল্প নয়,এটা এক পতাকা—যেটা বলে, “বুলেট আমাকে থামাতে পারবে না।”যেটা বলে, “ভয়কে আমরা বন্দী করব,সাহসকে আমরা মুক্ত করব।”তাঁর বুকের ক্ষত আজ আমাদের শপথের প্রতীক—যেখানে প্রতিটি দাগ মানে নতুন সংগ্রাম,প্রতিটি শ্বাস মানে বৈষম্য মুক্তির নতুন ঘোষণা।তুমি যদি ভীত হও—তবে মেননের দিকে তাকাও।তুমি যদি দুর্বল হও—তবে মেননের কাছ থেকে শক্তি নাও।কারণ তিনি বেঁচে আছেন—আমাদের সাহসের রক্ত হয়ে।”—(“মেনন এখনো–আমাদের সাহসের পতাকা” —সৈয়দ আমিরুজ্জামান)১৭ আগস্ট বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননকে হত্যাচেষ্টার ৩৪ পূর্ণ হলেও আততায়ীরা অধরাই রয়ে গেছে। অথচ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এবং সামাজিক ন্যায্যতা-সমতা প্রতিষ্ঠাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়োজনেই এর একটা ফয়সালা হওয়া জরুরী।বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এ দিনটিকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী দিবস’ পালন হিসেবে পালন করে আসছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় ও মৌলভীবাজারসহ সারাদেশে জেলা-উপজেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনাসহ সভা-সমাবেশ করা হতো।বিএনপি’র শাসনামলে ১৯৯২-এর ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় পার্টি অফিসের সামনে কমরেড রাশেদ খান মেননকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। মৃতবৎ কমরেড মেননকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর সিএমএইচ-এ লিভারে অপারেশন করা হয় এবং অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে পুনরায় অপারেশন করা হয়। পাঁচমাস লন্ডন ও ব্যাংককে চিকিৎসা নেবার পর ১৯৯৩ এর ১০ জানুয়ারী বিমান বন্দরে বিপুল সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তবে এই ৩৪ বছরেও তার ঐ হত্যাচেষ্টার বিচার হয়নি। আততায়ীরা অধরাই রয়ে গেছে। অন্যদিকে একই সময়কালে চুয়াডাঙার কুলবিলা গুচ্ছগ্রাম, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হয় যার বিচার আজও হয়নি।রাশেদ খান মেননের হত্যাচেষ্টার বিরুদ্ধে ওই সময়ে দেশব্যাপী যে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল তার জন্য পার্টি ও তিনি নিজে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু দেশে সন্ত্রাস নির্মুল হয় নাই পক্ষান্তরে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চলছে।জননিরাপত্তার স্বার্থেই এটা বন্ধ হওয়া দরকার।পার্টির তরফ থেকে এই হত্যাচেষ্টার পিছনে সেই সময় মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ একটি দায়সারা তদন্ত করে কতিপয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে। পরে পার্টির তরফ থেকে পুনঃতদন্তের দাবির প্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের পদক্ষেপ নেয়া হলেও কোন কাজ হয়নি। পুলিশের দায়েরকৃত ওই মামলা বিচারের জন্য উঠলেও তার পরিণতি নেয়ার কোন সম্ভাবনা নাই।রাশেদ খান মেননের হত্যাচেষ্টায় সারাদেশে সৃষ্ট তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভের মুখে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপি সরকার রাশেদ খান মেননের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার কথা প্রচার করলেও পরিবার ও পার্টি সহকর্মীদের উদ্যোগেই তার চিকিৎসা হয় এবং এ কারণে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে তাকে তার বাড়ি বিক্রি করতে হয়।২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রকাশ্যে গ্রেনেড ও গুলি ছুড়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা, পরের বছর, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা ও ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডেও ১৫ আগস্টের আদর্শিক কুশীলবরা জড়িত।আবার ১৫ ও ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলির সম্পৃক্ততার বিষয়টি দলিল-দস্তাবেজসহ প্রমাণ করার জন্য তদন্ত কমিশন গঠন করা জরুরী। গোয়েন্দা অনুসন্ধান এবং একাডেমিক গবেষণার মাধ্যমেও বিষয়টি বেরিয়ে আসতে পারে। ঘটনা গুলোর পরের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে অবস্থাগত ও ধারণাগতভাবে এটি আন্দাজ করা যায় যে, এসব ঘটনায় জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষা একই সমান্তরালে অবস্থান করছিল। একই কুশিলবরা ১৯৯২ সালের ১৭ আগস্ট বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল। এ হত্যাচেষ্টার আমরা বিচারে চাই। এখনো দেশি বিদেশি চক্রান্ত চলছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অর্জিত বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দর্শন ও ধারাকে নস্যাৎ করার জন্য। জন্যগণের সামগ্রিক প্রয়োজনেই এ ধারা রক্ষায় পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তন অভিমুখী অসাম্প্রদায়িক বৈষম্যহীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের এই দিনে সন্ধ্যায় পার্টি কার্যালয়ের সামনে রাশেদ খান মেননকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলী করা হয়েছিল। দেশে- বিদেশে চিকিৎসা ও দেশবাসীর ভালবাসা আর দোয়ায় তিনি জীবন ফিরে পান এবং মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করেছেন।১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয়ী জননেতা রাশেদ খান মেনন তাঁর প্রিয় স্বদেশভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন। জনগণের মেনন ফিরে আসেন জনগণের মাঝে। বিমান থেকে নেমে সরাসরি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশাল গণসংবর্ধনায় যোগ দেন এবং মেহনতি মানুষের অতলস্পর্শী ভালোবাসায় সংবর্ধিত হোন।রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের বাম প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তাঁর রাজনীতি গ্রামবাংলার কোটি কোটি গরিব খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের মুক্তির রাজনীতি – শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ার রাজনীতি।শোষণ বঞ্চনা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার, জনগণের সামগ্রিক মুক্তির জন্য নিবেদিত প্রাণ রাজনীতির এক বাতিঘর কমরেড রাশেদ খান মেনন। তাঁর পিতা বিচারপতি আব্দুল জব্বার খানের কর্মস্থল ফরিদপুরে ১৯৪৩ সনের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃভূমি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে।ষাটের দশকের তুখোর ছাত্রনেতা রাশেদ খান মেনন বাষট্টির আয়ুববিরোধী সামরিক শাসন ও শিক্ষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে আসেন। তারপর নিরন্তর দুর্গম কণ্টকাকীর্ণ পথ চলা। যে পথ চলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি কোনো শক্তি। মেনন মৃত্যুকে কখনো ভয় করেননি আজও করেন না। ১৯৬৩-৬৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহ-সভাপতি (ভিপি) ও ‘৬৪-৬৭ সালে পূর্বপাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। বাষট্টি সালে নিরাপত্তা আইনে প্রথম কারাবন্দী হওয়ার পর ‘৬৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন মেয়াদে নিরাপত্তা আইন, দেশরক্ষা আইন ও বিভিন্ন মামলায় কারাবরণ করেন। ‘৬৪-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধে ছাত্র সমাজের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কুখ্যাত মোনেম খানের আগমনকে বিরোধীতা করতে গিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন ও পরে সুপ্রীম কোর্টের রায়ে ঐ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলে জেল থেকে এম.এ পরীক্ষা দেন। ‘৬৭-৬৯ জেলে থাকাকালীন অবস্থায় তিনি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসেন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তিনি ক্যান্টনমেন্টে নীত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দেশের বাইরে তার যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে কাজ করেন।ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন কৃষক সমিতিতে যোগ দেন ও সন্তোষে ঐতিহাসিক কৃষক সম্মেলনের সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।১৯৭০-এর বাইশে ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা’ কায়েমের দাবি করায় এহিয়ার সামরিক সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ও তার অনুপস্থিতিতে সামরিক আদালতে সাত বছর সশ্রম কারাবাস ও সম্পত্তির ষাট ভাগ বাজেয়াপ্তের দণ্ডাদেশ প্রদান করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আত্মগোপনে যান ও স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র প্রস্তুতি গ্রহণের কাজ শুরু করেন।পচিশে মার্চ পল্টনের শেষ জনসভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।পচিশে মার্চের কালরাতের গণহত্যার পর তিনি আর এক মুহূর্ত দেরী না করে ঢাকার অদূরে নরসিংদীর শিবপুরকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের কাজ শুরু করেন এবং পরে ভারতে গিয়ে সকল বামপন্থী সংগঠনকে নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সমন্বয় কমিটি’ গঠন করে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে প্রবাসী সরকারের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরে এবং দেশের অভ্যন্তরে কেন্দ্র স্থাপন করে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।১৯৭৪-এ ভাসানী ন্যাপ থেকে বেরিয়ে এসে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি) গঠিত হলে তার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৭৮-এ ইউপিপি সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টে যোগ দিলে রাশেদ খান মেনন ইউপিপি ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গঠন করেন এবং ১৯৭৯ সনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।১৯৮২ জেনারেল এরশাদ সামরিক শাসন জারি করলে রাশেদ খান মেনন সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ঐ সামরিক শাসনবিরোধী প্রথম বিবৃতিটি যা পরবর্তীকালে পনের দল গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে তার রচয়িতাও ছিলেন তিনি। ‘৮৩-এর মধ্য ফেব্রুয়ারির ছাত্র আন্দোলনের কারণে তাকে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সাথে চোখ বেঁধে সামরিক ছাউনির নির্জন সেলে আটক রাখা হয়।পাঁচদল নেতা হিসেবে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ঐক্য পুনঃস্থাপনে রাশেদ খান মেনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পাঁচদল, সাত দল ও আট দলের ঐতিহাসিক তিন জোটে’র ঘোষণার ভিত্তিতে ‘৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাহীর পতন হয়। ১৯৯১-এর পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাশেদ খান মেনন পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য সংসদের ‘বিশেষ কমিটি’তে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী প্রণয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। সংসদে তিনি জামাত-শিবিরের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক তৎপরতা, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সশস্ত্র আক্রমণ, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী তৎপরতা, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর কাছে সরকারের নতজানু নীতি, কাঠামোগত সংস্কার, বিশেষ করে পাটকলের কাঠামোগত সংস্কারের নামে পাট শিল্পের ধ্বংস সাধন, মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে লুটপাটের অর্থনীতিক নীতি অনুসরণের এবং দৃঢ় বিরোধীতা, কৃষক, খেতমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের স্বপক্ষে দৃঢ় ভূমিকা গ্রহণ করেন। সংসদের বাইরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলন সংগঠিত করতেও তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।এই সব মিলিয়ে রাশেদ খান মেনন সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী গোষ্ঠীর আক্রমণের টার্গেটে পরিণত হন এবং তার বিরুদ্ধে জামাত-শিবিরসহ ধর্মাশ্রয়ী দলগুলোর পক্ষ থেকে আক্রমণাত্মক প্রচারণা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২-এর ১৭ আগস্ট নিজ পার্টি কার্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ করে তাকে হত্যার চেষ্টা হয়। প্রথমে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ও পরে লন্ডনে কিংস কলেজে দু’বার অস্ত্রোপচার হলে তিনি জীবনে বেঁচে যান।রাশেদ খান মেনন গুলিবিদ্ধ হলে সারা দেশে যে অভূতপূর্ব স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় তার মধ্য দিয়ে তার প্রতি দেশবাসীর ভালবাসার বিশেষ প্রকাশ ঘটে। দেশবাসীর দেয়া রক্ত, দোয়া, আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছার বরকতে তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। এই সময় তিনি ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’-এর বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জাতীয় সংগ্রামেও বিশেষ ভূমিকা রাখেন।১৯৯৮ সালে বিকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগার দল গঠন করে বিভিন্ন জাতীয় ও অর্থনৈতিক, শ্রমজীবী মানুষের ইস্যুতে তিনি আন্দোলন গড়ে তোলেন। এর মধ্যে তেল-গ্যাস-বন্দর জাতীয় সম্পদ রক্ষার জন্য জাতীয় কমিটি গঠন, গ্যাস বিদেশে রপ্তানি ও চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার বিরুদ্ধে ঐ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে দেশব্যাপী লং মার্চ সংগঠিত করে গ্যাস রপ্তানি প্রতিরোধ করেন।২০০১ সালে বিএনপি-জামাত চারদলীয় জোট সরকার গঠন করে, এ সময় দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব শুরু হলে তিনি তার বিরুদ্ধে অন্যান্যদের নিয়ে প্রতিরোধ সংগঠিত করেন। জোট সরকারের সময়ে যে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে তার বিরুদ্ধেও প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে ওয়ার্কার্স পার্টি। দু:শাসন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক নীতির বিরুদ্ধে প্রথমে এগার দল ও পরে আওয়ামী লীগ, জাসদ, ন্যাপসহ চৌদ্দ দলের আন্দোলন গড়ে ওঠে। চৌদ্দ দলের ৩১ দফা নির্বাচনী সংস্কার ও ২৩ দফা ন্যূনতম কর্মসূচি প্রণয়নে তিনি মুখ্য ভূমিকা রাখেন। ২০০৫ সালের ১৫ জুলাই শেখ হাসিনা ওই নির্বাচনী সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরলে তা জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই সংসদের তিনি কার্যউপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিরও তিনি সদস্য।তিনি এ বছর গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়ার বিদেশীদের দেয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত হয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার সুপ্রীম পিপলস এসেম্বলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে তাঁকে এই পদকে ভূষিত করেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ইল সুং-এর জন্মশতবর্ষ পালনের জন্য অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উৎসবের শেষ দিনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার সুপ্রীম পিপলস এসেম্বলীর ভাইস-প্রেসিডেন্ট উ সুংহুক তাকে এই পদক গলায় ঝুলিয়ে দেন।রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও গবেষণার কাজ, প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা, বিশেষ করে জাতীয় দৈনিকসমূহে তার নিয়মিত কলাম লিখেছেন। তার ঐ কলামসমূহ একত্রিত করে এ পর্যন্ত পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বাতিঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে কমরেড রাশেদ খান মেননের আত্মজীবনীর প্রথম পর্ব ‘এক জীবন : স্বাধীনতার সূর্যোদয়’।ব্যক্তি জীবনে রাশেদ খান মেনন ১৯৬৯-এর মে মাসে তার ছাত্র আন্দোলনের সহকর্মী লুৎফুন্নেছা খান বিউটিকে বিয়ে করেন। লুৎফুন্নেছা খান বিউটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং এর সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর হিসেবে অবসর নিয়েছেন। কন্যা ড. সুবর্ণা খান ক্যান্সার সেলের ওপর পিএইচডি করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত। পুত্র আনিক রাশেদ খান আইনের ছাত্র।রাশেদ খান মেনন রাজনৈতিক বিভিন্ন সভা, সম্মেলন ও সেমিনার উপলক্ষ্যে ভারত, নেপাল, গণচীন, কিউবা, উত্তর কোরিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, আলজেরিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপের জার্মানী, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ফ্রান্স, বুলগেরিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ করেন।রাশেদ খান মেনন ৬০-এর দশকের সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ. ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা রাখার জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন ৮ অক্টোবর ২০০৮ সনের রাজধানীর মগবাজার চৌরাস্তা হতে বাংলামটর রোড পর্যন্ত এই সড়কের নাম রেখেছে “রাশেদ খান মেনন সড়ক”।২০১২ সনের ১৩ সেপ্টেম্বর মহাজোট সরকারের পক্ষ থেকে রাশেদ খান মেননকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে অবশ্য দেশের কী পরিস্থিতিতে সরকারে যোগ দিয়েছিলেন, তা সকলেই অবগত। দেশের সংকটজনক পরিস্থিতিতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেয়ার বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনকালীন সরকারে ২০১৩ সালে তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে পুনরায় সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহাজোট সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।রাশেদ খান মেনন রাজনীতিক হিসেবে সর্বজনপরিচিত। লেখালেখির জন্যও তিনি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন। ছাত্রআন্দোলনের প্রচারপত্র, বিবৃতি আর বিভিন্ন সংকলন প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই লেখার শুরু। রাজনীতির প্রয়োজনেই বিভিন্ন বিষয়ে লিখেছেন তিনি। জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিকগুলোতেও নিয়মিত লিখেছেন।এবার আসি, ভিন্ন একটা প্রসঙ্গে। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কমরেড রাশেদ খান মেনন ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, পরিকল্পিত এক ব্লেম গেইমের অংশ হিসেবে কমরেড মেনন ভাইকে গ্রেপ্তারের পর দুর্নীতি নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তথ্য প্রমাণ উল্লেখ না করেই এ ধরনের মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। আর তাইতো সিনিয়র সাংবাদিক পুলক ঘটক লিখেছেন, রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করার কয়েকদিন পর একটি নিউজ ছাড়া হয়। “মেননের ২৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ”! গত ১৭ অক্টোবর অধিকাংশ মিডিয়ায় এটি ছিল লিড নিউজ। সংবাদ প্রকাশের পর বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে আমাদের সৎ, মেধাবী ও দলদরদমুক্ত সাংবাদিক বন্ধুরা ফেসবুকে এটি সশব্দে পোস্ট করতে থাকেন। বিএনপি ও বামৈসলামিক যৌথ বিপ্লবীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদটির আরও কয়েকগুণ প্রসার ঘটান। পিছিয়ে ছিলেন না নিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীরাও। সবাই সৎ ও দেশপ্রেমিক।একজন মানুষের পক্ষে ২৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুকিয়ে রাখতে পারা বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য। এই সংবাদ কোনো মিডিয়া আগে প্রকাশ করল না?আমি বেশ কয়েকজন সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করেছি, বর্তমান সরকারের লোকেরা বলার আগে মেননের গোপন টাকশালের কথা কেউ প্রকাশ করেননি কেন? “আমার কুড়ে ঘরের ছাদে একটি হাতি উঠেছে”-এ কথা কেউ বললেই তা যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশ করা যায় কিনা?২৫-এর পরে কয়টা শূণ্য দিলে ২৫ হাজার কোটি টাকা হয় গবেষণা করেছি। ক্যালকুলেটরে হিসাব করতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছি। হিসাবে দেখা গেল, এই সম্পদ বাংলাদেশের মোট বাজেটের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ। বসুন্ধরা গ্রুপের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫০০ কোটি টাকা (গ্রুপের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য)। অর্থাৎ প্রায় ১৭টি বসুন্ধরা গ্রুপের সম্পদ একত্রে মিলালে মেননের সমান হবে। লোকটা যদি ঘুষ গ্রহণের দোকান খুলে বিরতিহীনভাবে প্রতিদিন ১ কোটি টাকা ঘুষ নেয় তবুও এই টাকা জমাতে ২৫ হাজার দিন (প্রায় ৬৯ বছর) সময় লাগবে।মেননের ঘরের গোপন কক্ষে বিশাল হিমালয় পর্বতমালা ঢেকে রাখার সংবাদটি জোরেসোরে প্রচার হয়েছে এবং হচ্ছে। যেমন প্রচার হয়েছে বাংলাদেশে ২৬ লাখ ভারতীয় চাকরি করে। প্রচার করতে তো বিবেক বা সততা লাগে না! পাঠকের মনে প্রশ্নও তৈরি হয় না!!! আমার মামার বাড়ির খেজুর গাছে গতকাল যে হাতিটি উঠেছিল সে সংবাদ কোনো মিডিয়া প্রচার করল না, কোনো সৎ বুদ্ধিজীবী তা ফেসবুকে শেয়ার দিল না- এটাই আপসোস!”হয়তো এসব কারণেই বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন স্বাক্ষরিত ও প্রেরিত পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে বলা হয়, কমরেড মেননের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫৮টি হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। যে গুলো সবই মিথ্যা। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যে পথ বেছে নিয়েছে তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন এদেশের দেশপ্রেমিক সন্তান, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সামরিক শাসন বিরোধী লড়াইসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রথম সারির একজন প্রবীণ সংগ্রামী জননেতা, ৬বারের নিবাচিত এমপি ও মন্ত্রি ছিলেন। রাজনীতির নীতিবোধে একজন কিংবদন্তি বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন বিপ্লবী মানুষ।ওয়ার্কার্স পার্টি সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছে, ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করতে বুঝা জরুরি; সকল অন্যায়কে ন্যায় বলে রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহার করা উচিত হবে না, রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা করুন, সেটিই হবে উত্তম পন্থা। এ পন্থা পরিহার না করলে ইতিহাসই আপনাদের ভবিষ্যত রাস্তা নির্দেশ করবে। অবিলম্বে কমরেড রাশেদ খান মেননকে মুক্তি দিতে হবে।মহান ও কীর্তিমান মানুষদের নিয়ে সব সময়ই লেখা যায় আমরা এটা বিশ্বাস করি। পরিশেষে, সমাজতন্ত্র অভিমুখী অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমতা-ন্যায্যতার প্রশ্নে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনেই বিশ্বজনীন মহান এই গুণীর রাজনীতি, জীবন সংগ্রাম, কীর্তি, ইতিহাস, তত্ত্ব ও অনুশীলন সম্পর্কে পাঠ প্রাসঙ্গিক ও জরুরী।জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে ২১ দফার ভিত্তিতে সামাজিক ন্যায্যতা-সমতা প্রতিষ্ঠাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও জনগণের একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে গেছেন এই অবিসংবাদিত নেতা। হত্যাচেষ্টার ৩৪তম বার্ষিকীতে মৃত্যুঞ্জয়ী জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেননের মুক্তি চাই এবং কমরেড মেননের প্রতি অভিবাদন এবং রেড স্যালুট।সৈয়দ আমিরুজ্জামানমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;সম্পাদক, আরপি নিউজ;কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।E-mail : syedzaman.62@gmail.comWhatsApp : 01716599589

মেননকে হত্যাচেষ্টার ৩৪ বছর : বিচার অধরাই রয়ে গেছে!

গোলাপগঞ্জের গ্যাস- গোলাপগঞ্জে নেই

আনোয়ার শাহজাহান সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলা—বাংলাদেশের গ্যাস ও তেল উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র এখানেই অবস্থিত, যা দেশের জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক কোটি কোটি টাকার গ্যাস সরবরাহ করে। অথচ, এই প্রাকৃতিক সম্পদের আয়োজক, গোলাপগঞ্জবাসী আজও নিজ নিজ বাড়িতে গ্যাস সংযোগ থেকে বঞ্চিত। শুধু তাই নয়, গ্যাসক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট চাকরিতে স্থানীয় যুবকদের সুযোগ না পাওয়া, পানির স্তর হ্রাস, নদীভাঙন ও বন্যা—সব মিলিয়ে এখানে মানুষের জীবনে নানা দুঃখ-দুর্দশার সঙ্কট দেখা দিয়েছে।গোলাপগঞ্জের ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। তিনশত ষাট আউলিয়ার স্মৃতিধন্য এই জনপদ জ্ঞানী-গুণীর জন্মস্থান হিসেবে সুপরিচিত। বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রী চৈতন্য দেবের পদধূলি স্পর্শ করা এই মাটি আজও তার ঐতিহ্য সংরক্ষণে গর্বিত। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ও এই অঞ্চল সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলায় বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স অর্থনৈতিক জীবনে প্রাণ সঞ্চার করে।কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র। এখানে থেকে উত্তোলিত গ্যাস প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২১ মিলিয়ন ঘনফুট প্রবাহিত হয়। এর বাজারমূল্য বছরে প্রায় ১৬২০ কোটি টাকা। এই গ্যাস দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, গৃহস্থালি চাহিদা ও যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।কিন্তু এদিকে, গোলাপগঞ্জের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার গ্যাস সংযোগ থেকে বঞ্চিত। তারা এখনো রান্নার জন্য কাঠ, কোয়েল বা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে বাড়তি ব্যয় ও ঝুঁকি বহন করতে হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নারীদের রান্নার কাজের সময় ও শ্রমও বেড়ে যাচ্ছে।গোলাপগঞ্জের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করে আসছেন। অনেকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছেন, আবার অনেকে অপেক্ষায় রয়েছেন। তবু, এখনো অধিকাংশ বাড়িতে গ্যাস পৌঁছায়নি। এর পেছনে প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্নীতি এবং অগ্রাধিকারবিহীন বরাদ্দের অভিযোগ রয়েছে।তালিকাভুক্ত পরিবারগুলোর ভেতর বহু গরীব ও মেধাবী রয়েছে, যারা শুধুমাত্র গ্যাস পেলে জীবনের অনেক কষ্ট কমে যেত। এই অবস্থায় স্থানীয়দের দাবী, যেখান থেকে গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, সেখানকার মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।গ্যাসক্ষেত্র ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়রা চাকরি পাচ্ছেন না। চাকরির সুযোগ প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে আত্মীয়স্বজন এবং দূরের ব্যক্তিদের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।গ্যাস ও তেল উত্তোলনের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। যেখানে আগে ৫০-৬০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত, বর্তমানে কিছু এলাকায় ২৫০-৩০০ ফুট গভীরে না গেলে পানির সন্ধান মেলেনা। এতে গ্রামের মানুষের জন্য নলকূপ স্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়েছে।গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এই সংকটের প্রবল উদাহরণ। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব দিন দিন প্রকট হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।গোলাপগঞ্জে অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বড় কোম্পানিগুলো করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) নামে একটি ফান্ড পরিচালনা করে থাকে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই ফান্ডের অর্থ গোলাপগঞ্জে যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি। হলেও গোলাপগঞ্জের জনগণ জানে না কোথায় হয়েছে বা হচ্ছে। এটি জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, এই ফান্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে তা দ্রুত এলাকার কল্যাণে ব্যয় করা হোক।#সমাধানের_জন্য_প্রস্তাবিত_করণীয়১. গৃহে গৃহে গ্যাস সংযোগ: নির্ধারিত ফি’র বিনিময়ে দ্রুত প্রতিটি পরিবারে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।২. চাকরিতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার: গ্যাসক্ষেত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে স্থানীয় যোগ্য যুবকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।৩. পানির সংকট নিরসন: ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও গভীর নলকূপ স্থাপনসহ স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।৪. বন্যা ও নদী ভাঙন রোধ: সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর খনন, তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি।৫. CSR ফান্ডের সুষ্ঠু ব্যবহার: এই ফান্ডের অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থানীয় উন্নয়ন কাজে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।৬. স্থানীয় চাহিদা পূরণ: জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের আগে স্থানীয় গ্যাস চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ। সারা দেশে কিছু না কিছু উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু গোলাপগঞ্জের মতো গ্যাস উৎপাদনকারী উপজেলায় যদি স্থানীয় জনগণ গ্যাস সংযোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তা দেশের সুশাসনের মূলমন্ত্রের পরিপন্থী।সরকারের নিকট বিনীত অনুরোধ, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে গোলাপগঞ্জের প্রতিটি ঘরে গ্যাস পৌঁছানো হয় এবং স্থানীয় যোগ্য যুবকদের চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হয়। এতে জনমানুষের আস্থা ও উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি।আমরা গোলাপগঞ্জবাসী বিশ্বাস করে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সদয় হস্তক্ষেপ করবেন এবং এই এলাকার উন্নয়ন সাধনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

গোলাপগঞ্জের গ্যাস- গোলাপগঞ্জে নেই
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream