কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত
চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান নিয়ে সাধারন জনজগনের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।তাদের ভাষ্য হাসপাতালটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট। দিনের পর দিন জমা হচ্ছে অব্যবস্থাপনার পাহাড়সম দলিল, কিন্তু রহস্যময় কারণে নীরব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সেবার মান এখন এতটাই তলানিতে যে, ৫ লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের ভরসার এই কেন্দ্রটি এখন দুর্ভোগের প্রতিশব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেবার বদলে অবহেলা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে ডাক্তারদের চরম অবহেলার কারণে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা।কড়ইশের অধিবাসী ভুক্তভোগী শরীফুল ইসলাম জানান,বিশেষ করে ডা: জহিরুল ইসলাম ও গাইনি বিভাগের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার এবং রোগী দেখায় অনীহার অভিযোগ এখন চরমে।অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডাক্তারদের অনুপস্থিতিতে আউট সোর্সিং এর কর্মচারী এবং নার্সরাই রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ আক্ষেপ করে বলেন, ডাক্তারদের কাছে সেবা চাইতে গেলে প্রায়ই কুরুচিপূর্ণ শব্দ দিয়ে সম্বোধন শুনতে হয়।হাসপাতালের প্রতিটি ফ্লোর ময়লা-আবর্জনায় একাকার। পুরো হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। আরও ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে,শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টায় জরুরি বিভাগের সামনে সেবা প্রত্যাশী অনেকেই বসে আছেন। জরুরী বিভাগের ভিতরেই প্রবেশের পর দেখতে পাই আউট সোর্সিং এর কর্মচারী মো.সোহেল জরুরী বিভাগে একজন রোগীকে ইনজেকশন পুশ করছে।তার কাছে ইনজেকশন পুশের বিষয়ে জানতে চাইলে সংবাদকর্মীর সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে।এক পর্যায়ে ভিডিও করার কারনে দায়িত্বরত আনসার সদস্যের মাধ্যমে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।সরকারি বাজেটের বিপুল অর্থ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ থাকলেও কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই চিত্র জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালটির অন্যতম বড় সমস্যা হলো একই ব্যক্তি একই স্থানে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে আসছে।এছাড়াও স্থানীয় কিছু ডাক্তার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করছে।অভিযোগ আছে, অনেক ডাক্তার ও কর্মচারী বছরের পর বছর এখানে কর্মরত। অন্যত্র বদলি হলেও মোটা অঙ্কের মাধ্যমপ তদ্বির করে তারা পুনরায় এখানেই থেকে যান। দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকার ফলে তারা হাসপাতালটিকে নিজস্ব সম্পদের মতো ব্যবহার করছেন। এই ‘বটবৃক্ষ’সদৃশ সিন্ডিকেট রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখছে এবং গরীব ও অসহায় রোগীদের সাথে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ব্যবহার করছে।অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকে ডিউটির সময় ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকেই বেশি সময় ব্যয় করেন। এসব অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএসও) ডা. সোহেল রানা এবং (আরএমও) ডা.জাহিদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।পরবর্তীতে ফাহিমকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন টিএসও স্যার আমাদের সাথে পিকনিকে আসছেন কক্সবাজার। দেশ জুড়ে ডেঙ্গু ও হাম রোগীর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে এরমধ্যে একজন টিএসও কিভাবে পিকনিকে যায় সচেতন মহল উদ্বিগ্ন। তারা মনে করেন,এই অশুভ সিন্ডিকেট না ভাঙলে হাসপাতালের পরিবেশ ফেরানো সম্ভব নয়।অনিয়মের হোতাদের অতিবিলম্বে বদলি করে নতুন জনবল নিয়োগ এবং সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।