রংপুরে চার হত্যা: আসামির শার্ট নিয়ে রহস্য
রংপুরে মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের পরনের শার্ট নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল আলোচনা। মরদেহ উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তির গায়ে যে ধরনের শার্ট দেখা যায়, গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের শরীরেও একই ধরণের শার্ট দেখা গেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একই পোশাক বা ডিজাইনের শার্ট আলাদা একাধিক ব্যক্তির থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।তদন্ত ও মরদেহ উদ্ধারের দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ইন্টারনেটে যে গুঞ্জন ওঠে, সেটিকে "একান্তই কাকতালীয়" বলে অভিহিত করেছে পুলিশ। ধর্ম বা জাতির ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়নি বলে স্পষ্ট করা হয়।অভিযুক্তরা নেশা করার জন্য পাশে অনেক ফাঁকা স্থান থাকা সত্ত্বেও কেন নিহত গণপতির বাড়ির ছাদকেই বেছে নিয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক তদন্তের গতিতে তারা সন্তুষ্ট এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তেই সব স্পষ্ট হবে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে তা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ হলে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।
তবে পুলিশের এই বক্তব্য ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। ইয়াবা সেবনের জন্য পাশের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের পুরো ফাঁকা জায়গা ও ছাদ থাকার পরও তারা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন; সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারের কাছে এমন প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, অল্প সময়ে মামলার তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে পুলিশের ইতিবাচক কাজের প্রশংসা এবং নেতিবাচক কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। তদন্তে আস্থা রাখার কথাও বলেন।
এর মধ্যে রোববার বিকেল ৫টার দিকে গ্রেপ্তার দুই যুবককে আদালতে হাজির করা হয়। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তবে গ্রেপ্তার দুই যুবকের স্বীকারোক্তি, ঘটনাস্থল ও হত্যাকাণ্ডের সময়কার গতিবিধি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তে কতটা পরিষ্কার হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।