বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
লালমনিরহাটে ভূমি অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির উৎপাত বন্ধে দাপ্তরিক নির্দেশনা

লালমনিরহাটে ভূমি অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির উৎপাত বন্ধে দাপ্তরিক নির্দেশনা

রাজু মিয়া, লালমনিরহাট (কালীগঞ্জ) প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে শুরু করে উপজেলা ভূমি অফিস পর্যন্ত দাপ্তরিক কার্যক্রমে বহিরাগত ব্যক্তিদের উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষও বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিস কেন্দ্রিক একটি দালালচক্র বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা প্রদানের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে রেকর্ডীয় মালিকানা যথাযথভাবে যাচাই না করেই নামজারি প্রস্তাব দেওয়া এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা জমির নামজারি সম্পন্ন করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসরত মদাতী মৌজার ১৩৮২ নম্বর খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক জহুরন নেছা। যাহার নামজারী মামলা নং ১০১১/২৬-২৭। তবে অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট জমির নামজারি প্রক্রিয়ায় রেকর্ড যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।ভুক্তভোগী জছির আলীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নামজারির প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মদাতী ইউনিয়নের নয়ন নামে এক ব্যক্তিও জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা অস্বীকার করেন।অন্যদিকে, কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসরত মদাতী মৌজার ২৫৫২, ২৫৮৯ ও ২৬০১ নম্বর খতিয়ানের জমি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা।তাদের অভিযোগ, নামজারি মামলা নং ১৪৬৭/২৬-২৭-এর জন্য  প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে দালালচক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত পিয়াল নামে এক ব্যক্তি অফিসের কার্যক্রম ম্যানেজ করে নামজারি সম্পন্ন করান।পরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে পেরে নামজারি খতিয়ানটি বাতিল করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর পরেও ওই নামজারি খতিয়ানের ভিত্তিতে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে অন্যত্র দলিল সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে মোঃ এরশাদ হায়াদ খান গং-এর বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।ভূমি অফিসে বহিরাগত ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্য ও দালালচক্রের কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমিসেবা নিতে গিয়ে তারা নানা ধরনের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির মুখোমুখি হচ্ছেন।এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব (এসএ) শাখা থেকে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে দাপ্তরিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব (এসএ) শাখার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের স্মারক অনুযায়ী, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি/অনুমোদিত কর্মচারী ব্যতীত কোনো বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে দাপ্তরিক সেবা প্রদান বা দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পাদন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।লালমনিরহাটের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর শাহরিয়ার তানভীর আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় ভূমি অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রমে বহিরাগত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, নতুন এই দাপ্তরিক নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে ভূমি অফিস কেন্দ্রিক দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমিসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream