সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
‎সড়ক দুর্ঘটনার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই কারও: সড়কমন্ত্রী

‎সড়ক দুর্ঘটনার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই কারও: সড়কমন্ত্রী

সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; পরিবহন মালিক, চালক, যাত্রী ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অনিয়মকে সমর্থন করে অন্যের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে না এলে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। শেখ রবিউল আলম বলেন, চালকের দক্ষতা, যানবাহনের ফিটনেস ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চালকদের সচেতনতা ও দক্ষতার অভাবের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা অস্বীকার করে সমাধান সম্ভব নয়। পরিবহন মালিকদেরও দক্ষ চালক নিয়োগে দায়িত্ব নিতে হবে। শেখ রবিউল আলম বলেন, একজন মালিকের ৫০টি গাড়ি থাকলে প্রতিটিতে দক্ষ চালক নিয়োগ দেওয়া তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যোগ্য চালক পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ না করে মালিকদের দক্ষ চালক চিহ্নিত করে সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। তাঁদের যোগ্যতা যাচাই করে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান সড়কমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো গাড়ির ফিটনেস না থাকলে কিংবা চালক ঠিকমতো গাড়ি চালাতে না পারলে সেটি চলতে দেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে গাড়ি আটকে রেখে চালক পরিবর্তনের পর তা ছাড়তে হবে। শেখ রবিউল আলম বলেন, নিয়ম না মেনে গাড়ি চালাতে দেখেও কোনো চালককে মহাসড়কে চলতে দেওয়া হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। সাময়িকভাবে যাত্রীদের ভোগান্তি হলেও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো এক জরিপে বছরে ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়। তবে এ তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, কারা জরিপ করেছে এবং এর ভিত্তি কী, তা যাচাই করা প্রয়োজন। শেখ রবিউল আলম বলেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আবার প্রকৃত তথ্য না জানলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ জরুরি। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোর তথ্য সংরক্ষণে ডেটাবেইস তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে কোন এলাকায় কেন বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে, তা চিহ্নিত করে সড়কের নকশা পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তাঁর ধারণা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, মহাসড়কের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কের বিপজ্জনক সংযোগস্থল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও হেলমেট ব্যবহারের নিয়ম কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের কাজ করা হবে। সড়ক নিরাপত্তায় যাত্রীদের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, অনেকে অনিরাপদ যানবাহন নিয়ে আপত্তি তোলেন, কিন্তু নিজেরা সেই যানবাহনে ওঠা বন্ধ করেন না। একইভাবে ফুটপাত দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরোধিতা করলেও নিজের স্বার্থ জড়িত থাকলে অনেকে প্রতিবাদ করেন না। মন্ত্রী বলেন, মোটরসাইকেলে হেলমেট ছাড়া চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিজের জীবনকে ভালোবাসার পাশাপাশি অন্যের জীবনের প্রতিও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। পরিবহন মালিক, শ্রমিক, প্রকৌশলী, পুলিশ ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোথায় কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে প্রস্তাব দিলে সরকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। শুধু সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে নয়, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করলেই নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আলোচনা সভায় আরও ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রকিবুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমসহ আরও অনেকে।

এপিএসের পর এবার দায়িত্ব হারালেন খাদ্যমন্ত্রীর পিও

এবার খাদ্যমন্ত্রীকে না জানিয়ে সরকারি সফরসূচি তৈরি ও টাঙ্গাইলের নাগরপুর খাদ্যগুদাম পরিদর্শনের ঘটনায় মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব হারিয়েছেন। এর আগে মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. আবদুল আওয়ালকেও (বুলবুল) একই অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। মূলত মন্ত্রীর অনুমোদনহীন ওই বিতর্কিত সফরসূচিতে স্বাক্ষর করার কারণেই পিও রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জারি করা এক অফিস আদেশে রফিকুল ইসলামকে মন্ত্রীর দপ্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ক্ষেমালিকা চাকমা রফিকুল ইসলামকে দপ্তরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কী কারণে তাকে সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর এপিএস আবদুল আওয়ালের টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও খাদ্যগুদাম পরিদর্শনের জন্য একটি সরকারি সফরসূচি জারি করা হয়। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে জারি করা ওই সূচি অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পরিদর্শনে যান আবদুল আওয়াল। সফরসূচিতে ঢাকার মোহাম্মদপুরে এপিএসের নিজ বাসা থেকে যাত্রা শুরু এবং পরিদর্শন শেষে আবার বাসায় ফেরার কথা উল্লেখ করা হয়। সফরে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সরকারি গাড়ির জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের পরিচালককেও অনুলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই সফরে আবদুল আওয়ালের সঙ্গে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে মন্ত্রণালয় সূত্রের দাবি, এ সফরের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম কিছুই জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর পরই এপিএস আবদুল আওয়ালকে মৌখিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সফরসূচি তৈরিতে পিও রফিকুল ইসলামের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ শনিবার তাকেও মন্ত্রীর দপ্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

এপিএসের পর এবার দায়িত্ব হারালেন খাদ্যমন্ত্রীর পিও

ক্রয় কমিটির ১১ প্রস্তাব অনুমোদন

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চিনি, ইউরিয়া ও এমওপি, ডিএপি সার এবং এলএনজিসহ মোট ১১টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৯তম সভায় এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাবের আওতায় ই-জিপির মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫০ কেজির বস্তায় মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাবে ৫ হাজার মেট্রিক টন চিনির ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি চিনির দাম পড়বে ১০২ টাকা ৯৫ পয়সা। দ্বিতীয় প্রস্তাবে একই পরিমাণ চিনির ক্রয়মূল্য ৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতি কেজির দাম ১০৩ টাকা ৯৫ পয়সা। উভয় ক্ষেত্রেই সুপারিশকৃত দরদাতা মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড।  এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এতে মূল চুক্তিমূল্য ছিল ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯৯ টাকা। ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার ২৫ টাকা ভেরিয়েশনের পর সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি ৩০ লাখ ৬ হাজার ৭২৪ টাকা। প্রকল্পটির সুপারিশকৃত দরদাতা জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সমন্বয়ে গঠিত এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম।  একই প্রকল্পের পরামর্শক সেবা সংক্রান্ত আরেকটি প্রস্তাবে ৪০৫ কোটি টাকা ভেরিয়েশনসহ সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৬ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫৭ টাকা। এ কাজের জন্য জাপানের নিপ্পন কোয়েই, ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্টস এবং বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টসের যৌথ উদ্যোগকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।  সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। এ জন্য ব্যয় হবে ২২০ কোটি ৬৫ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ৪৪৬ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে ৪২ হাজার মেট্রিক টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব কার্যোত্তর অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার ২৯০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৫৩১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।  রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ)’ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার। কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং ৪০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির দুটি প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৮২ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলার।  এছাড়া জিটুজি ভিত্তিতে ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানির দর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির একক দর নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম-০.১০ মার্কিন ডলার। সৌদি আরবের এমএ’এডেন থেকে ২০২৬ সালের পঞ্চম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন ডিএপি সারের দাম ৮৬১ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার।  এছাড়া কমিটি কক্সবাজারের মহেশখালীতে জিটুজি পদ্ধতিতে কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের লক্ষ্যে চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (সিএনইই) দাখিল করা দর প্রস্তাব প্রত্যাহার করেছে। ১৫ বছর মেয়াদে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিলো প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা  এবং ২০ বছর মেয়াদে প্রায় ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

ক্রয় কমিটির ১১ প্রস্তাব অনুমোদন

গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ৪ হাজার ৫০০-রও বেশি ভিন্নমতাবলম্বী বা রাজনৈতিক কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ের প্রসঙ্গ তুলে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ দেখিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে—এমন কোনো অভিযোগও তাঁরা পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সংবিধান আমাদের পথ দেখানোর মূল ভিত্তি। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৭৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের শুরুতে লেখা হয়েছিল ‘উই, দ্য পিপল অব আমেরিকা’। আর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানেও লেখা হয়েছে ‘উই, দ্য পিপল অব বাংলাদেশ’। তাঁর মতে, দুই সংবিধানের মধ্যে এটি একটি মিল। মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূল ভিত্তি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা। স্বাধীনতার মধ্যে মতপ্রকাশ, সমাবেশ, চলাচল ও সংগঠনের স্বাধীনতাও রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানও কিছু মৌলিক ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারণার মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ১৮০৩ সালে মারবারি বনাম ম্যাডিসন মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক পর্যালোচনার নীতি প্রয়োগ করে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনেও সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনো কখনো এ এখতিয়ার অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগও হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের আগে জন লক, টমাস হবস ও মন্টেস্কুর রাজনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা ও সেগুলো অনুসরণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এসব তত্ত্বের প্রভাব রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও তীব্র আলোচনা ছিল। সংবিধান নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়েও শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও আলোচনা হয়। সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী ও প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের এই আলোচনা তাঁদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখন প্রয়োজনের মধ্যে থাকে তখন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পাশে থাকা, কর্তৃত্ববাদিতার বিরুদ্ধে অবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকানোর বিরুদ্ধে কথা বলা —এসব বিষয় তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। একই সঙ্গে সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার পক্ষেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন করেছে। আইনের কিছু ধারা নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইনে ‘ওএফসিএটি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের বাছাই কমিটিতে প্রেসক্লাব ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের বিধান রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্যান্য কিছু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বাছাই প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ধরনের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। এখানে বাছাই কমিটির প্রধান হিসেবে স্পিকার থাকছেন এবং বিরোধী দলের নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সুশাসন বর্তমান সময়ে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে অর্থনীতি ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এসব অপরাধের বিচার সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘কোনো ব্যক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়, আমাদের লক্ষ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করা’—বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক নির্বাহীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং এসব প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হবে বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও মতপার্থক্য ছিল। তাঁর মতে, সংবিধানের শক্তি সবাই সব বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়; বরং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি টেকসই কাঠামো তৈরি করতে পারার মধ্যে। তিনি ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সংশোধনের সুযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের স্থায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream