রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
ইরানের পরমাণু অস্ত্রের হুমকি, ধর্মীয় নেতার বক্তব্যে নতুন শঙ্কা

ইরানের পরমাণু অস্ত্রের হুমকি, ধর্মীয় নেতার বক্তব্যে নতুন শঙ্কা

এতদিন ইরানের সামরিক হুমকির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং হরমুজ প্রণালি। তবে এবার দেশটির এক প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতার বক্তব্যে প্রকাশ্যে এসেছে পরমাণু অস্ত্রের প্রসঙ্গ। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা হলে পরিস্থিতির প্রয়োজনে তেহরান পরমাণু অস্ত্রের দিকে যেতে পারে।ইরানের আহভাজ শহরের জুমার নামাজের খতিব ও ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ নবি মুসাভিফার্দ শুক্রবারের খুতবায় এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ যদি ইরানের বিরুদ্ধে কথিত ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ওয়ার’ বা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা শুরু করে, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে।মুসাভিফার্দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুদ্ধ শুরু হলে দেশটি বাধ্য হয়ে পরমাণু অস্ত্রের দিকে যেতে পারে। তাঁর এই বক্তব্যের পর ইরানের পরমাণু নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। বরং বক্তব্যটি এসেছে দেশটির একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতার কাছ থেকে। মুসাভিফার্দ আরও বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি দেশটির অভ্যন্তরীণ এখতিয়ার।বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ইরানের ওপর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চাপ বাড়ানো হলে তেহরান আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে—এমন একটি রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এটি ইরানের সম্ভাব্য প্রতিরোধ কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেন। মুসাভিফার্দ বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই এই সংঘাতে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসা দেশটির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইরান সংঘাতকে আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা ও প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবারও পৃথক এক বক্তব্যে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ইরানের নীতিগত শর্তগুলো পূরণ করা না হলে চলমান পরিস্থিতি ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধের পর্যায়ে’ চলে যেতে পারে।সব মিলিয়ে ইরানের অবস্থানে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে একদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও স্বার্থ রক্ষার অবস্থান, অন্যদিকে চাপ বাড়লে সামরিক প্রতিরোধ জোরদারের হুঁশিয়ারি। এর সঙ্গে পরমাণু অস্ত্রের প্রসঙ্গ যুক্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।তবে মুসাভিফার্দের বক্তব্যকে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আপাতত একজন ধর্মীয় নেতার দেওয়া কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফরে যেতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।  বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস কুশনারের সম্ভাব্য সফরের খবর প্রকাশ করে।  ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী সপ্তাহে কায়রোতে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন কুশনার। সূত্রটি রয়টার্সকে জানায়, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতৈক্য রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলের  কিছু উদ্বেগ রয়েছে, যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ‘যৌক্তিক’ বলে মনে করছে এবং সেগুলো সমাধানে কাজ চলছে। কুশনারের ইসরাইল সফরের মূল লক্ষ্য হবে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব করা ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ খুঁজে বের করা। ট্রাম্প ২০২৫ সালের শেষ দিকে গাজার জন্য এই পরিকল্পনা সামনে আনেন। পরে জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনি জানান, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনলেবানন ও গাজা থেকে সেনা সরাবে না ইসরাইল একই সঙ্গে গাজার নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীল বাহিনী (ইন্টারন্যাশনাল স্টাবলাইজেশন ফোর্স) কাজ করবে। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন।  অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, তারা পরিকল্পনাটিতে সম্মত হয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইসরাইল আগে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে কি না তার ওপর। এর মধ্যে সেনা প্রত্যাহার ও হামলা বন্ধ করার বিষয় রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও হামলা গত অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে।  গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুন‘হরমুজ আমাদের নিয়ন্ত্রণে’—ট্রাম্পের দাবির জবাবে যা বলল ইরান অন্যদিকে ইসরাইলের মতে, একই সময়ে হামাসসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় চারজন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। হামাস সাধারণত তাদের যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে না। তথ্যসূত্র: আরব নিউজ

ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream