ভূরুঙ্গামারীতে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ছিনতাই, দুই যুবক গ্রেপ্তার
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিকাশ ও রকেট এজেন্ট ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাতে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওয়ানের খামার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতে দোকানের কার্যক্রম শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন বিকাশ ও রকেট এজেন্ট ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ (৩৯)। পথে নির্জন স্থানে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা ও হাঁটুতে আঘাত করে। এ সময় তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে বাড়ির সামনের সড়কে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ও উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া গ্রামের মৃত শহিদুল আলমের ছেলে মো. শরিফুল আলম সোহাগ (৩৫) এবং নলেয়া গ্রামের মৃত রুহুল রব্বানীর ছেলে সোহেল রানা স্বপন (৩৬)। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ জানায়, কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির (পিপিএম) নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ছিনতাই হওয়া টাকা এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা লেনদেন ও বহন করতে হয়। বিশেষ করে রাতে বাড়ি ফেরার সময় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় পুলিশের টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে আহত ব্যবসায়ীর ছিনতাই হওয়া টাকা ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারেরও দাবি জানান।