বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
নবম পে স্কেলে পেনশন বাড়ছে শতভাগ

নবম পে স্কেলে পেনশন বাড়ছে শতভাগ

নবম জাতীয় বেতন কাঠামোয় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশনের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  বিশেষ করে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম ভাতা পাওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক স্বস্তি দিতে নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াবে সরকার। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের পরিমাণ ভেদে এই বৃদ্ধির হার সবার ক্ষেত্রে সমান হচ্ছে না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অর্থ বিভাগের একটি সূত্রে জানা গেছে, যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর বর্তমান পেনশনের অঙ্ক কম, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হবে বেশি। এর বিপরীতে যাদের পেনশন তুলনামূলকভাবে বেশি, তাদের বৃদ্ধির হার অপেক্ষাকৃত কম রাখা হচ্ছে। তবে বহুল আলোচিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) এখনই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হচ্ছে না। সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতের জন্য এই ব্যবস্থাটি ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারের প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একই পদ বা স্কেল থেকে অবসরে যাওয়া কর্মচারীদের ভাতা বৈষম্য দূর করতেই ওআরওপি নীতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছিল। বিদ্যমান ব্যবস্থার কারণে অনেক আগে অবসরে যাওয়া কর্মীরা একই পদের নতুন অবসরপ্রাপ্তদের তুলনায় বেশ কম ভাতা পাচ্ছেন। নতুন এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে একই পদবী ও স্কেলের কর্মচারীদের পেনশনের এই ব্যবধান অনেকাংশে কমে আসবে। বর্তমানে একযোগে ওআরওপি বাস্তবায়ন না করার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। তিনি জানান, সামরিক ও বেসামরিক উভয় বিভাগে এটি একসঙ্গে কার্যকর করা উচিত হলেও এর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ সংস্থানের প্রয়োজন রয়েছে।  একই সঙ্গে ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদির অভাব রয়েছে। এসব বাস্তবতার কারণেই ২০৩০ মেয়াদের মধ্যে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু

গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে নতুন জাতীয় পে স্কেলের। পে স্কেলের খসড়া ইতোমধ্যে বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। খসড়া বিজি প্রেসে গতকালই পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। সূত্র জানায়, বিজি প্রেস থেকে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরও নম্বর পেয়ে প্রকাশ করা হবে। এদিকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি। তবে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে কিছুটা দেরি হচ্ছে বলে জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার গণমাধ্যমকে জানান, আগামী রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে। গত সোমবার মন্ত্রিসভায় নতুন এই বেতনকাঠামো অনুমোদিত হয়। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিয়েও সরকারের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিপরিষদের সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনায় (এমটিবিএফ) বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। ফলে এটি সরকারের জন্য হঠাৎ তৈরি হওয়া কোনো ব্যয় নয়। তিনি বলেন, ‘সরকার প্রতিবছর শুধু এক বছরের বাজেট করে না; বরং আগামী কয়েক বছরের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের একটি আগাম হিসাবও করে। নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য ব্যয়ও সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনায় ছিল।’

নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু

সম্পদ বিবরণী প্রকাশ না করলে পে-স্কেল নয়: টিআইবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের পাশাপাশি পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মন্ত্রিসভায় নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানায় সংস্থাটি। টিআইবি বলছে, সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয় এবং সম্পদের বিবরণী প্রতিবছর হালনাগাদ করে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ৩ ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা খুবই যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে, তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব।' তিনি বলেন, 'তবে, জনগণের করের টাকায় তাদের এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে, সব পর্যায়ের সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করাসহ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থাৎ, যে কর্মচারীরা আয়-ব্যয় ও সম্পদ বিবরণী প্রতিবছর হালনাগাদ করাসহ প্রকাশ করবেন, শুধু তাদের জন্যই নতুন বেতন-ভাতা বৃদ্ধি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যারা প্রকাশ করবেন না, তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়া অনুচিত। এই শর্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করি।’  ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, অনেক সরকারি কর্মজীবী আছেন যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সৎভাবে  জীবনযাপন করেন। তাদের জন্য এই নতুন বেতনস্কেল সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত ও অপরিহার্য। অন্যদিকে, যারা অসৎভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনে লিপ্ত, তাদের জন্য এই সুবিধা যেমন অযৌক্তিক, তেমনই সম্পূর্ণ নিষ্প্রয়োজন। তাদের অর্থ-সম্পদের আকাঙ্ক্ষা এতটাই গগনচুম্বী যে, কার্যকর জবাবদিহির উপায় নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতনস্কেল প্রয়োগ করা হলে, সরকারিখাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে। যার দৃষ্টান্ত ইতিপূর্বে স্থাপিত হয়েছে।’  নতুন বেতনকাঠামো সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি, দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, তা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এর আগে সবশেষ ২০১৫ সালে বাস্তবায়িত অষ্টম পে-স্কেলের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে একই আশাবাদ ছিল, কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিপরীতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব‍্যাপকতা ও গভীরতা বেড়েছে অধিকতর হারে। এবার অন্তত তার ব্যতিক্রম হবে বলে বিশ্বাস করতে চাই।' তিনি আরও বলেন, 'এক্ষেত্রে সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক চর্চায় পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা না হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে জনগণের পরিত্রাণের উপায় নেই। অথচ দুর্নীতির ভুক্তভোগী জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতাসহ সব ব‍্যয় বহন করা হয়।’ সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করছে টিআইবি, যা ইতোমধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দিশেহারা স্বল্পআয়ের কর্মজীবী নারী-পুরুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্দশা আরও বাড়ার কারণ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারণসহ বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের উল্লিখিত শর্ত বাস্তবায়নে সরকারের দূরদর্শিতা প্রত্যাশা করছে টিআইবি। এ পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি। এর ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই দিশেহারা স্বল্পআয়ের কর্মজীবী নারী-পুরুষসহ সাধারণ মানুষের দুর্দশা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে টিআইবি।

সম্পদ বিবরণী প্রকাশ না করলে পে-স্কেল নয়: টিআইবি

পে-স্কেল ঝুলিয়ে রাখলে সংকট আরও জটিল হবে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে সরকার পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছে। সংস্থাটির মতে, বিষয়টিকে এভাবে ঝুলিয়ে রাখলে সংকট কমবে না, বরং যত দেরি হবে পরিস্থিতি ততই জটিল রূপ নেবে। ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) আয়োজিত ‘সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের ওপর মূল্যায়ন’ বিষয়ক এক মিডিয়া সংলাপে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। সংলাপে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণ ব্যাখ্যা করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, চলতি অর্থবছরের ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে, যা বড় একটি আর্থিক সীমাবদ্ধতা। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত বেতন কাঠামোর প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে তা ভাগে ভাগে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত দেরি না করে শুরুতেই যদি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে কিছুটা সময় প্রার্থনা করা হতো, তবে পরিস্থিতি এতদূর গড়াতো না। বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখলে সরকারের অন্যান্য কাজও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সিপিডি। সরকারের গত ছয় মাসের পারফরম্যান্স তুলে ধরে সিপিডি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে মোট ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু কাঠামোগত অসুবিধা ও বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল বা হোয়াইট পেপার তৈরি না করায় এখন বিভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিসংখ্যানের সঠিক মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও সংস্কার কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে সিপিডি প্রায় ৩৬২টি পদক্ষেপের একটি তালিকা তৈরি করেছে, যা ৯টি ভাগে বিভক্ত করে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সুশাসনের ক্ষেত্রে ১০৫টি ঘটনা মূল্যায়নে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সিপিডি। তবে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় ঘটেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

পে-স্কেল ঝুলিয়ে রাখলে সংকট আরও জটিল হবে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

পে-স্কেল প্রণয়নসহ ছয় মাসের হিসাব দিলেন মাহদী আমিন

বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন ভোটের কালি শুকানোর আগেই ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের গত ছয় মাসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও অর্জন তুলে ধরা হয় সভায়।সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে গিয়ে মাহদী আমিন অর্থনীতিতে সংস্কার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ অনেকটাই চূড়ান্ত হওয়াসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান।তিনি বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পে-স্কেল প্রণয়নসহ ছয় মাসের হিসাব দিলেন মাহদী আমিন

পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আরও পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে ফের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হলেও শেষ মুহূর্তে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। জুডিশিয়াল সার্ভিসের অধীনে থাকা ব্যক্তিরা মূল বেতনের সমান ভাতা দাবি করায় গেজেট প্রকাশের আগে বিষয়টি আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর ফলে নবম পে-স্কেলের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও একবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন এই জটিলতার কারণে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের পর্যালোচনা শুরু করতে যাচ্ছে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী এক অনির্ধারিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি ও বিভিন্ন খাতের বেতন কাঠামোর ভারসাম্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কমিশনের প্রতিবেদন এবং জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবিগুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশনা দিয়েছেন। বেতন কাঠামোতে কোথাও কোনো বৈষম্য বা অসংগতি থাকলে তা দ্রুত নিরসন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পে-স্কেলের সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এর বাস্তবায়ন আরও কিছুটা পেছানো যায় কি না, সে চিন্তাও করছে সরকার। জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি শিগগিরই বৈঠকে বসবে। এর আগে ১২ আগস্ট একটি বৈঠক ডাকা হলেও কমিটির সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। জানা গেছে, কমিটির প্রথম বৈঠকে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং এর গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে বিচারকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত কত অর্থের প্রয়োজন এবং তা কোন পদ্ধতিতে দেওয়া সম্ভব এসব বিষয় পর্যালোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এদিকে, গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি নতুন প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। ওই প্রস্তাবে গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন এবং পরের বছর বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়লেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নবম পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আর্থিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন খাতের দাবির সমন্বয়ে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছে এই প্রক্রিয়া।

পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে  আরও পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream