পৃথিবীর যেখানেই যাই, সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ঠাকুরগাঁও: শামারুহ মির্জা
ঠাকুরগাঁওকে নিজের পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে জেলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে শামারুহ মির্জা। একই সঙ্গে তিনি তাঁর বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন।এক ফেসবুক পোস্টে শামারুহ মির্জা তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, পৃথিবীর যেখানেই যাওয়া হোক না কেন, তাঁকে যদি সবচেয়ে প্রিয় জায়গার কথা জিজ্ঞেস করা হয়, তাঁর উত্তর হবে ঠাকুরগাঁও।শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে আসেন। তখন তিনি খুবই ছোট ছিলেন। ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁর শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। বোনের সঙ্গে খেলাধুলা, আশপাশের শিশুদের নিয়ে বাড়ির লনে বরফ পানি, কাবাডি, সাতচাড়া ও লুকোচুরি খেলা এবং শীতকালে ব্যাডমিন্টন খেলার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। চাচাদের সঙ্গে দাবা খেলা এবং আসগর আলী স্যারের কাছে পড়াশোনার কথাও স্মরণ করেন শামারুহ।তিনি আরও জানান, তাঁর দাদি মহিলা সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছোটবেলায় কখনো কখনো দাদির সঙ্গে পুরোনো সিনেমা হলের পেছনে থাকা মহিলা সমিতির কার্যালয়েও যেতেন। এসব স্মৃতিকে তিনি ‘হাজার হাজার মিষ্টি স্মৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।ঠাকুরগাঁওয়ের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন শামারুহ মির্জা। তিনি বলেন, এই জেলা তাঁদের পরিবারের সবচেয়ে আদরের জায়গা। পরিবারের সদস্যদের স্বপ্ন দেখার শুরু এই ঠাকুরগাঁও থেকেই। জেলার মানুষকে পরিবারের ‘আত্মার আত্মীয়’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বিএনপির রাজনীতিতে ঠাকুরগাঁওয়ের নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে শামারুহ মির্জা বলেন, তাঁর বাবা যখন সারা দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের দুর্গ আগলে রেখেছেন। তাঁদের শ্রম, ভালোবাসা, সাহস ও ত্যাগের মূল্য অনেক বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের সমর্থনের কথাও স্মরণ করেন শামারুহ। তিনি বলেন, ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, তাঁর বাবা তাঁদের ‘আমানত’ এবং তাঁকে রক্ষা করতে হবে। তাঁর দাবি, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ সেই আমানতের মর্যাদা দিয়েছেন এবং তাঁর বাবাও প্রতিশ্রুতি রেখেছেন।বক্তব্যে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, গত ছয় মাসে তাঁর বাবা জেলায় যুগান্তকারী উন্নয়নের সূচনা করেছেন। সামনে আরও বড় কাজ রয়েছে এবং সেই কাজ এগিয়ে নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।দেশে উগ্রবাদ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে শামারুহ মির্জা বলেন, জাতিসংঘ দেশে উগ্রবাদীদের সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় উগ্রবাদের চাষ হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উগ্রবাদীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের বিপদ তৈরি হওয়ার আগেই সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।ঠাকুরগাঁওয়ের সামাজিক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে শামারুহ মির্জা বলেন, তাঁর বিশ্বাস, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ বরাবরই উদারপন্থী ছিল, আছে এবং থাকবে। হিন্দু-মুসলমান সবাইকে নিয়ে জেলার উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।বক্তব্যের শেষদিকে নিজের বাবার জন্য দোয়া চান শামারুহ মির্জা। তিনি বলেন, তাঁর বাবা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তাঁর প্রিয় দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এ সময় তাঁর দাদা-দাদির কথা খুব মনে পড়ছে বলেও আবেগঘন মন্তব্য করেন তিনি।শামারুহ মির্জা বলেন, তাঁর বাবা যেন আমৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য কাজ করতে পারেন—এ জন্য সবাইকে দোয়া করতে হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রতি তাঁদের পরিবারের যে ঋণ, তা কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।