দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং এর কারণ কি?
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি চরম রূপ ধারণ করেছে। ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা, এমনকি ১৫ ঘণ্টার ওপর লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে।দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দৈনিক ২৫২ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে পেট্রোবাংলা থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুটের মতো। এছাড়া মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩,৫০০ থেকে ৩,৭০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র ঘাটতির কারণে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের পোশাক ও অন্যান্য কারখানা বন্ধ কিংবা উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।ভ্যাপসা গরমে রাত-দিনে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম কষ্টে আছেন। বিরূপ পরিস্থিতিতে দিনাজপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পল্লী বিদ্যুতের অফিসে গ্রাহকেরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন।চাহিদার তুলনায় ৪০-৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ প্রধানের (আইজিপি) কাছে বিশেষ নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল সচল হওয়ার কাজ চলমান এবং বিকল্প উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সারাদেশের দোকানপাট ও মার্কেট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বন্ধ রাখা সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।