বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
নবম পে স্কেলে পেনশন বাড়ছে শতভাগ

নবম পে স্কেলে পেনশন বাড়ছে শতভাগ

নবম জাতীয় বেতন কাঠামোয় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশনের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  বিশেষ করে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম ভাতা পাওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক স্বস্তি দিতে নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াবে সরকার। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের পরিমাণ ভেদে এই বৃদ্ধির হার সবার ক্ষেত্রে সমান হচ্ছে না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অর্থ বিভাগের একটি সূত্রে জানা গেছে, যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর বর্তমান পেনশনের অঙ্ক কম, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হবে বেশি। এর বিপরীতে যাদের পেনশন তুলনামূলকভাবে বেশি, তাদের বৃদ্ধির হার অপেক্ষাকৃত কম রাখা হচ্ছে। তবে বহুল আলোচিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) এখনই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হচ্ছে না। সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতের জন্য এই ব্যবস্থাটি ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারের প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একই পদ বা স্কেল থেকে অবসরে যাওয়া কর্মচারীদের ভাতা বৈষম্য দূর করতেই ওআরওপি নীতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছিল। বিদ্যমান ব্যবস্থার কারণে অনেক আগে অবসরে যাওয়া কর্মীরা একই পদের নতুন অবসরপ্রাপ্তদের তুলনায় বেশ কম ভাতা পাচ্ছেন। নতুন এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে একই পদবী ও স্কেলের কর্মচারীদের পেনশনের এই ব্যবধান অনেকাংশে কমে আসবে। বর্তমানে একযোগে ওআরওপি বাস্তবায়ন না করার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। তিনি জানান, সামরিক ও বেসামরিক উভয় বিভাগে এটি একসঙ্গে কার্যকর করা উচিত হলেও এর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ সংস্থানের প্রয়োজন রয়েছে।  একই সঙ্গে ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদির অভাব রয়েছে। এসব বাস্তবতার কারণেই ২০৩০ মেয়াদের মধ্যে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু

গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে নতুন জাতীয় পে স্কেলের। পে স্কেলের খসড়া ইতোমধ্যে বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। খসড়া বিজি প্রেসে গতকালই পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। সূত্র জানায়, বিজি প্রেস থেকে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরও নম্বর পেয়ে প্রকাশ করা হবে। এদিকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি। তবে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে কিছুটা দেরি হচ্ছে বলে জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার গণমাধ্যমকে জানান, আগামী রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে। গত সোমবার মন্ত্রিসভায় নতুন এই বেতনকাঠামো অনুমোদিত হয়। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিয়েও সরকারের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিপরিষদের সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনায় (এমটিবিএফ) বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। ফলে এটি সরকারের জন্য হঠাৎ তৈরি হওয়া কোনো ব্যয় নয়। তিনি বলেন, ‘সরকার প্রতিবছর শুধু এক বছরের বাজেট করে না; বরং আগামী কয়েক বছরের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের একটি আগাম হিসাবও করে। নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য ব্যয়ও সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনায় ছিল।’

নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু

নিজের গুমের বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০১৫ সালে গুমের শিকার হওয়ার পর দীর্ঘ ৬১ দিনের বন্দিদশা এবং পরবর্তী সময়ে ভারতের মেঘালয়ে ৯ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবর্ণনীয় ও লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নিজের জীবনের এই চরম সংকটের কথা তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়। বক্তব্যের একপর্যায়ে ভারতের মানসিক হাসপাতালে কাটানো দুঃসহ দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি বিদেশের মাটিতে পাগল অবস্থায় মারা যাব, আমার পরিবার হয়তো আমার কবরও দেখতে পারবে না এমন ভয়ও পেয়েছিলাম।’ বাংলাদেশে গুম থাকার দিনগুলোর বিবরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উত্তরার একটি বাসা থেকে অপহৃত হওয়ার পর তাকে আট বাই চার ফুটের একটি অন্ধকার ও সংকীর্ণ কক্ষে টানা ৬১ দিন আটকে রাখা হয়েছিল। ওই ঘরে কেবল একটি পানির কল এবং শৌচকার্যের জন্য একটি নর্দমার সঙ্গে যুক্ত সরু ছিদ্র ছিল, যা থেকে অনবরত দুর্গন্ধ আসত। মেঝেতে বিছানো একটি কম্বল ও বালিশই ছিল তার শোবার একমাত্র সম্বল। তীব্র গরমের মধ্যে দরজার ওপরের সামান্য ফাঁকা অংশ দিয়ে আসা বাতাসই ছিল তার বেঁচে থাকার ভরসা, কারণ দরজার বাইরে একটি বৈদ্যুতিক পাখা সার্বক্ষণিক সচল রাখা হতো। হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও বন্দিদশায় তিনি কোনো চিকিৎসা পাননি। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে অপহরণকারীরা তার চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। ভারতে নিয়ে যাওয়ার সময়কার বিবরণ দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, চোখ বাঁধা অবস্থায় প্রথমে একটি মাইক্রোবাসে এবং পরে গভীর রাতে একটি জিপ গাড়িতে করে তাকে অচেনা কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ যাত্রার পর এক স্থানে হাত-চোখ বাঁধা অবস্থাতেই তাকে চামচ দিয়ে নুডলস খাওয়ানো হয়। বন্দি অবস্থায় বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী কামরুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার খবরও তিনি জানতেন না, যা শুনে জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাও অবাক হয়েছিলেন। অবশেষে ভোরবেলা একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে অপহরণকারীরা নিজেদের মুখ ঢেকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। অপহরণকারীরা চলে যাওয়ার পর বিলবোর্ড দেখে তিনি বুঝতে পারেন স্থানটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বেসামরিক হাসপাতাল এবং পরে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্দেহে একটি মানসিক হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে মানসিক রোগীদের সঙ্গে রেখে তাকে জোরপূর্বক মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানো হতো এবং তার চোখের চশমাও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দাড়ি-চুল কেটে দেওয়ায় নিজের পরিচয় হারানোর শঙ্কায় মুষড়ে পড়েছিলেন তিনি। চরম হতাশার একপর্যায়ে একদিন হাসপাতাল থেকে তার স্ত্রীর ফোন আসে। ফোনে স্ত্রীর কান্নার আওয়াজ শুনে তিনি নিশ্চিত হন যে তার পরিবার তার বেঁচে থাকার খবর পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় সাংবাদিকদের টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে তিনি চিৎকার করে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন’। এরপর ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা দায়ের করে সে দেশের পুলিশ। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত এবং ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালত তাকে খালাস দেন। ভারতে অবস্থানকালেই বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের (স্থায়ী কমিটি) সদস্য করা হয়। অবশেষে ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ ৯ বছরের নির্বাসন ঘুচিয়ে তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। নিজের বক্তৃতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীরদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হওয়ায় ভারত থেকে আমি দেশে ফিরতে পেরেছি। যারা জুলাই যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’ সাবেক এই আমলা ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে কক্সবাজার থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দলের আন্দোলন পরিচালনা করার সময় ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যা নিয়ে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

নিজের গুমের বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কাজ করছে ঢাকা-দিল্লি

দুই দেশ কাজ করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন  দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সরকারপ্রধানের সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। নতুন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের পর নিজ দপ্তরে আসেন। এ সময় একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে। ঢাকা-দিল্লির সুবিধামত সময়ে এ সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন হুমায়ুন কবির।   তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করে কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করাই তার অন্যতম দায়িত্ব। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হবে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কাজ করছে ঢাকা-দিল্লি

পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আরও পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে ফের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হলেও শেষ মুহূর্তে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। জুডিশিয়াল সার্ভিসের অধীনে থাকা ব্যক্তিরা মূল বেতনের সমান ভাতা দাবি করায় গেজেট প্রকাশের আগে বিষয়টি আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর ফলে নবম পে-স্কেলের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও একবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন এই জটিলতার কারণে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের পর্যালোচনা শুরু করতে যাচ্ছে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী এক অনির্ধারিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি ও বিভিন্ন খাতের বেতন কাঠামোর ভারসাম্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কমিশনের প্রতিবেদন এবং জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবিগুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশনা দিয়েছেন। বেতন কাঠামোতে কোথাও কোনো বৈষম্য বা অসংগতি থাকলে তা দ্রুত নিরসন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পে-স্কেলের সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এর বাস্তবায়ন আরও কিছুটা পেছানো যায় কি না, সে চিন্তাও করছে সরকার। জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি শিগগিরই বৈঠকে বসবে। এর আগে ১২ আগস্ট একটি বৈঠক ডাকা হলেও কমিটির সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। জানা গেছে, কমিটির প্রথম বৈঠকে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং এর গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে বিচারকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত কত অর্থের প্রয়োজন এবং তা কোন পদ্ধতিতে দেওয়া সম্ভব এসব বিষয় পর্যালোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এদিকে, গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি নতুন প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। ওই প্রস্তাবে গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন এবং পরের বছর বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়লেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নবম পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আর্থিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন খাতের দাবির সমন্বয়ে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছে এই প্রক্রিয়া।

পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে  আরও পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream