মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ডা. জাহাঙ্গীর কবির ইনসুলিন বন্ধ করে ‘কিটো ডায়েট’ ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পর এক ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও তদন্ত করবে কমিটি। ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগও রয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি গঠন করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ গত ৫ মে অপচিকিৎসা প্রদান ও অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের অভিযোগে বলা হয়েছে, সুমি বেগম নামের ৩৬ বছর বয়সী ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেডের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়।  প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে ইনসুলিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা অনুসরণ এবং উচ্চমূল্যের কিছু সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেয়। ওই পরামর্শ অনুসরণ করে ইনসুলিন বন্ধ করার পর তাঁর ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। পরে তিনি সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে (ডিকেএ) আক্রান্ত হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধের পরামর্শ, কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শের সঙ্গে রোগীর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যে কোনো অভিযোগ এলে তা আমলে নেওয়া আমাদের কর্তব্য। যেহেতু ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, এটিও তদন্ত হবে। এই অভিযোগ তদন্তে আমরা কমিটি গঠন করেছি। এ ছাড়া অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারসহ অভিযোগগুলো তদন্ত করবে কমিটি।’ কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে। সদস্যসচিব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু এবং বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।

রাতে আপেল চা কেন পান করবেন?

এক কাপ গরম আপেল চা যদি আপনার রাতের ঘুম শান্ত করে এবং দিনের শুরু বা শেষের মুহূর্তটি আরামদায়ক করে তোলে, তবে বিষয়টি দারুণ হয় না! অনেকে রাতে ঘুমানোর আগে এক কাপ সাধারণ চা বা কফি পান করতে চান। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। যাঁরা একটু ভিন্ন স্বাদ ও স্বাস্থ্যকর পানীয় দিয়ে দিনের ক্লান্তি মেটাতে চান, তাঁদের জন্য হালকা গরম আপেল চা বা সিডার টি হতে পারে চমৎকার একটি বিকল্প। আপেলে থাকা কার্বোহাইড্রেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশ কম এবং এটি আঁশসমৃদ্ধ। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বাড়ায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়তা করে। ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্টের তুলনায় আপেলের মেলাটোনিন খুব নগণ্য। ভিটামিন সি দেহের কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং প্রদাহ কমায়। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কম থাকলে পরোক্ষভাবে তা ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা আপেল খাওয়ার চেয়ে হালকা গরম আপেল চা বা সেদ্ধ আপেলের পানি পাকস্থলীর জন্য সহজে হজমযোগ্য। রাতে গরম তরল পান করার ফলে শরীর ও মন শান্ত হয়, যা ঘুমানোর পরিবেশ তৈরি করে। আপেলের সঙ্গে দারুচিনি, আদা বা অন্যান্য ভেষজ উপাদান মিশিয়ে চা তৈরি করলে এর স্বাদ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। দারুচিনি: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়। আদা: পেটের অস্বস্তি, বমি ভাব কমায় এবং হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে সাহায্য করে। হলুদ: শরীরের প্রদাহ কমায় এবং জয়েন্টের ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। রসুন ও কায়েন মরিচ: রক্তনালি নমনীয় রেখে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে ও ব্যথা কমাতে কার্যকর। আপেল-দারুচিনি ভেষজ চা আপেল-দারুচিনি ভেষজ চা তৈরি করতে চাইলে প্রয়োজন ২টি আপেল, পরিমাণমতো পানি, ৪ চা-চামচ লিকার, ২টি দারুচিনি ও সামান্য মধু। প্রথমে একটি পাত্রে খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরা করা আপেল নিন। এরপর এতে পানি, দারুচিনি এবং চা একসঙ্গে মিশিয়ে মৃদু আঁচে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফোটান। পানি কমে এলে ছেঁকে কাপে ঢালুন। ইচ্ছে হলে সামান্য মধু মিশিয়ে রাতে হালকা গরম-গরম পরিবেশন করুন। এর জন্য প্রয়োজন টুকরা করে কাটা ৪টি আপেল, ১ ইঞ্চি আদা কুচি করা, ৪টি এলাচি, ২টি দারুচিনি, ৪ চা-চামচ গ্রিন টি ও ৪৫০ মিলি পানি। প্রথমে একটি পাত্রে আপেল, আদা, এলাচি, দারুচিনি ও পানি দিয়ে ১৫ মিনিট হালকা আঁচে সেদ্ধ করুন। চুলা থেকে নামিয়ে ৫ মিনিট ঠান্ডা হতে দিন। এরপর এতে গ্রিন টি দিয়ে ৩ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ভালো করে ছেঁকে নিন। এটি সকাল বা বিকেলের সতেজতায় পান করতে পারেন। সূত্র: হেলথ লাইন

রাতে আপেল চা কেন পান করবেন?
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream