রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেল আরও ৪ ফিলিস্তিনির

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেল আরও ৪ ফিলিস্তিনির

গাজা উপত্যকায় মঙ্গলবার ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। এ ছাড়া, আগের হামলায় আহত ছয় বছর বয়সী এক শিশুসহ দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।বুধবার চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।সূত্র জানায়, উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের আল-হাওজা সড়কে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ২৮ বছর বয়সী মাহমুদ সামিহ আল-হারশ নিহত হন।অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকার আল-মাওয়াসি অঞ্চলে আল-আলম গোলচত্বরের কাছে ইসরায়েলি হামলায় আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এদিকে, খান ইউনিসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় বছর বয়সী তাহানি মোহাম্মদ সাঈদ শালালফেহ মারা গেছে। সোমবার আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছিল শিশুটি। এ ছাড়া, আগের হামলায় আহত আরও এক ব্যক্তিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ছাড়া, কয়েক দিন আগে গাজা শহরের কেন্দ্রস্থলে আল-থাওরা সড়কে ইসরায়েলি হামলায় আহত আহমেদ ইয়াসিন বিসেইসোও মারা গেছেন। সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে, খান ইউনিসের উপকূলে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ফেলা বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে এক জেলে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া, কিজান রাশওয়ান ও হামাদ সিটির পূর্বাঞ্চলে পৃথক ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও দুজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আল-আওদা হাসপাতালের একটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, গাজার মধ্যাঞ্চলে বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও দুজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, গাজা শহরের পশ্চিমে আল-শাতি শরণার্থী শিবিরের কাছে সমুদ্রসৈকতে অবস্থানরত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি নৌযান থেকে গোলাবর্ষণ ও মেশিনগানের গুলি চালানো হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এ যুদ্ধে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় দেড় হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি অভিযান ও অবরোধে হেব্রনে বাস্তুচ্যুত ২,৬৪৯ জন

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রন গভর্নরেটজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। এ অভিযানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৬৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে।হেব্রন সাপোর্ট অ্যান্ড রিলিফ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, অভিযান, অবরোধ, যানবাহন জব্দ এবং বাসিন্দাদের ওপর নির্যাতনের কারণে এসব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।সোমবার (২৬ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।স্থানীয় সূত্র জানায়, মধ্যরাতে সাঁজোয়া যান নিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের নতুন একটি দল হেব্রনে প্রবেশ করে। তারা ফারশ আল-হাওয়া প্রবেশপথ দিয়ে শহরে ঢোকে।একই সময়ে ইসরায়েলি সেনারা শহরের দক্ষিণাঞ্চলেও অভিযান চালায়। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি গাড়ি জব্দ করে। হেব্রনের গভর্নর খালেদ দুদিন জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী ৭০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, ‘সামরিক অভিযানের কারণে ৪৫০টিরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে এবং ৫০০টি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।’ তিনি আরও যুক্ত করেন, ইসরায়েলি সেনারা ১২৮টি ফটক ও ১২০টি সেনাচৌকি বসিয়ে পুরো অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। অন্যদিকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি স্থল ও বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা

ইসরায়েলি অভিযান ও অবরোধে হেব্রনে বাস্তুচ্যুত ২,৬৪৯ জন

‘মার্কিন অস্ত্রেই প্রাণ যাচ্ছে গাজার শিশুদের’

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তলাইব গাজায় চলমান নৃশংসতার ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অংশীদারিত্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, গাজায় শিশুদের জীবন যাচ্ছে মার্কিন নির্মিত প্রাণঘাতী অস্ত্রের আঘাতেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাশিদা তলাইব উল্লেখ করেন, ‘গণহত্যা এখনো চলছে’ এবং ‘মার্কিন নির্মিত বোমার আঘাতে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে, আর যারা বেঁচে থাকছে তারা সারাজীবনের জন্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।’ জাতিগত নিধনের মতো এসব জঘন্য ও নৃশংস কর্মকাণ্ডে মার্কিন প্রশাসনের সব ধরনের সহায়তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। সূত্র: আল জাজিরা

‘মার্কিন অস্ত্রেই প্রাণ যাচ্ছে গাজার শিশুদের’

ঘরহারা ৮ লাখ ফিলিস্তিনির ঠিকানা তাঁবু

২১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি গাজা উপত্যকাজুড়ে অত্যন্ত করুণ পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন। যাদের মধ্যে বসবাসের অযোগ্য অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন ৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। গাজার সরকারি তথ্য দপ্তর সোমবার (১৭ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।শীতকাল ঘনিয়ে আসার মুখে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ৫ লক্ষাধিক শিশু রয়েছে তাঁবুতে বসবাসকারীদের মধ্যে। অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে কদাকার আবহাওয়া প্রতিরোধী তাঁবু,  ক্রেন, অন্তরণ সামগ্রী ও অন্যান্য আশ্রয় সরঞ্জাম অবিলম্বে প্রবেশের সুযোগ দিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পরিস্থিতি সংকটের চরম সীমায় পৌঁছেছে।’ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ এবং সবচেয়ে অসহায় মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও এতে জোর দেওয়া হয়।ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে গাজার বাসিন্দারা খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সেবার চরম সংকটে ভুগছে বলে ত্রাণ সংস্থাগুলো ক্রমাগত সতর্ক করে আসছে।তথ্য দপ্তরের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে।সূত্র: আল জাজিরা

ঘরহারা ৮ লাখ ফিলিস্তিনির ঠিকানা তাঁবু

ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফরে যেতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।  বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস কুশনারের সম্ভাব্য সফরের খবর প্রকাশ করে।  ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী সপ্তাহে কায়রোতে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন কুশনার। সূত্রটি রয়টার্সকে জানায়, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতৈক্য রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলের  কিছু উদ্বেগ রয়েছে, যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ‘যৌক্তিক’ বলে মনে করছে এবং সেগুলো সমাধানে কাজ চলছে। কুশনারের ইসরাইল সফরের মূল লক্ষ্য হবে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব করা ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ খুঁজে বের করা। ট্রাম্প ২০২৫ সালের শেষ দিকে গাজার জন্য এই পরিকল্পনা সামনে আনেন। পরে জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনি জানান, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনলেবানন ও গাজা থেকে সেনা সরাবে না ইসরাইল একই সঙ্গে গাজার নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীল বাহিনী (ইন্টারন্যাশনাল স্টাবলাইজেশন ফোর্স) কাজ করবে। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন।  অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, তারা পরিকল্পনাটিতে সম্মত হয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইসরাইল আগে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে কি না তার ওপর। এর মধ্যে সেনা প্রত্যাহার ও হামলা বন্ধ করার বিষয় রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও হামলা গত অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে।  গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুন‘হরমুজ আমাদের নিয়ন্ত্রণে’—ট্রাম্পের দাবির জবাবে যা বলল ইরান অন্যদিকে ইসরাইলের মতে, একই সময়ে হামাসসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় চারজন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। হামাস সাধারণত তাদের যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে না। তথ্যসূত্র: আরব নিউজ

ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার

গাজায় যুদ্ধবিরতির ৩০০ দিনেও নিহত অন্তত ৩০০ শিশু: ইউনিসেফ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।শনিবার (৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যে যুদ্ধবিরতিতে প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু মারা যায়, সেটি শিশুদের জন্য ব্যর্থ।’তিনি আরও বলেন, শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। গাজার শিশুরা এখনও সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় রয়েছে, যার শেষ হওয়ার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল।ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় শিশুরা এখনও তীব্র অপুষ্টি, নানা রোগ, অনিরাপদ পানি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

 গাজায় যুদ্ধবিরতির ৩০০ দিনেও নিহত অন্তত ৩০০ শিশু: ইউনিসেফ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream