শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
কৃষকের হাতে এআই, মাঠের নতুন সহায়ক

কৃষকের হাতে এআই, মাঠের নতুন সহায়ক

ভোর পাঁচটা। বগুড়ার আলুচাষি করিম মিয়া (ছদ্মনাম) খেতে গিয়ে দেখলেন, গাছের পাতায় অচেনা কালো দাগ। আগে এমন সময় ছুটতে হতো দূরের কৃষি দোকানে। আজ তিনি মুঠোফোনে ছবি তুললেন, জানতে চাইলেন কী সমস্যা? সমাধান কী? এখানেই কাজে আসে কম্পিউটার ভিশন বা যন্ত্রদৃষ্টি, অর্থাৎ ছবি দেখে চিনতে শেখা এআই। হাজার হাজার সুস্থ ও রোগাক্রান্ত পাতার ছবি দেখে সে শেখে, কোন দাগ কোন রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ। অনেক দেশে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সেচের সময় নির্ধারণ আর বাজারদরের আন্দাজেও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এআই ভুলও করতে পারে বা করে। বিশেষ করে অচেনা ফসল বা আলাদা আবহাওয়ায়। ভুল রোগ ধরে ভুল কীটনাশক ছিটালে ফসল ও টাকা দুটোই নষ্ট। তা ছাড়া গ্রামে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সুবিধা সবার নেই। তাই সুবিধাটা সবাই নিতে পারে না। তাই কৃষি নিয়ে এআই ব্যবহারের আগে মনে রাখুন, জমির মাটি, আবহাওয়া আর বীজের জাত প্রতিটি অঞ্চলেই আলাদা। এআইয়ের পরামর্শকে প্রাথমিক ধারণা ধরুন। ওষুধ ছিটানোর আগে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করুন। করিম মিয়া ছবি তুলে সম্ভাব্য রোগের নাম পেলেন, কিন্তু ওষুধ ছিটানোর আগে কৃষি কর্মকর্তার কাছে গিয়ে নিশ্চিত হলেন। তাতে ফসল বাঁচল, টাকাও বাঁচল।

ডেটা সেন্টার ছাড়াই প্রতিলিপি বানাবে এআই, হয়ে উঠবে ভয়ংকর ‘ওয়ার্ম’

জীববিজ্ঞানে ‘পার্থেনোজেনেসিস’ (Parthenogenesis) নামে একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, যার সহজ অর্থ হলো—সঙ্গী বা পুরুষ প্রাণীর সাহায্য ছাড়াই সন্তান জন্ম দেওয়া। গ্রিক ভাষায় এর অর্থ ‘কুমারী জন্ম।’ এই প্রক্রিয়ায় অনিষিক্ত ডিম্বাণু সরাসরি ভ্রূণে পরিণত হয়। কিছু কিছু উদ্ভিদ ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে এটি দেখা যায়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এটি জৈবিকভাবে ‘জীবিত’ নয় এবং এর কোনো সঙ্গীও নেই। তাই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এর নিজে থেকে সন্তান তৈরি করা বা নিজের প্রতিলিপি (অনুলিপি) তৈরি করার কোনো সুযোগ থাকার কথা নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই পরিস্থিতি এখন বদলে যেতে পারে। এআই গবেষণার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি সতর্ক করেছে যে, তাদের এআই মডেলগুলো খুব শিগগিরই ডেটা সেন্টারের সাহায্য ছাড়াই নিজের অনুলিপি তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে। এর অর্থ হলো, কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই একটি এআই মডেল নিজে থেকেই এক কম্পিউটার, সার্ভার বা ইন্টারনেটযুক্ত যন্ত্র থেকে অন্য যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে পারবে—যা অনেকটা কম্পিউটার ‘ওয়ার্ম’ বা ভাইরাসের মতো কাজ করবে। অ্যানথ্রপিকের গবেষক উইলিয়াম ঝু এবং ড্যানিয়েল ফ্রিম্যান এক ব্লগে লিখেছেন, ‘আমাদের গবেষণা বলছে যে, ছোট আকারের এআই মডেলগুলো হয়তো আর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বাণিজ্যিক ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) যন্ত্রগুলোতে—যেমন স্মার্ট ওভেন বা অ্যান্ড্রয়েড টিভি বক্সে—নিজের প্রতিলিপি নিজে তৈরি করে ছড়িয়ে পড়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করে ফেলবে।’ তাঁরা আরও সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের এআই ছড়িয়ে পড়লে তা বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন হবে। কারণ, এগুলো বন্ধ করার মতো কোনো একক বা কেন্দ্রীয় পয়েন্ট থাকবে না। আরও ভয়ের বিষয় হলো, এটি এক ধরনের এআই মালওয়্যারের রূপ নেবে এবং নিজে থেকেই নতুন বা অপরিচিত যন্ত্রের গঠন বুঝে নিতে পারবে। এআই হতে পারে আগামী দিনের ক্ষতিকর কম্পিউটার ‘ওয়ার্ম’ কম্পিউটার সিস্টেমের জুড়ে ছড়িয়ে পড়ার জন্য তৈরি প্রোগ্রাম বা ‘ওয়ার্ম’-এর মতো আচরণ করার ক্ষমতা রয়েছে এআইয়ের। আধুনিক সাইবার ওয়ার্মগুলো নেটওয়ার্কে ঢোকার রাস্তা খোঁজে, সিস্টেমের দুর্বলতা স্ক্যান করে এবং এক যন্ত্র থেকে অন্য যন্ত্রে লাফিয়ে চলে। এই দ্রুত অনুলিপি তৈরির প্রক্রিয়াটি কম্পিউটারের মেমোরি, প্রসেসর, ডিস্ক স্পেস ও ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ দ্রুত শেষ করে ফেলে। ফলে কম্পিউটার ধীরগতির হয়ে যায়, সিস্টেম ক্র্যাশ করে, এমনকি পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে। ভাইরাসের ও ওয়ার্মের পার্থক্য হলো—ভাইরাস ছড়াতে মানুষের সামান্য হলেও সহায়তার প্রয়োজন হয় (যেমন কোনো ম্যালওয়্যার ফাইল ডাউনলোড করা বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা)। কিন্তু ওয়ার্ম ছড়াতে মানুষের কোনো সহায়তার দরকার হয় না; এটি নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজে থেকেই ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য একটি শক্তিশালী ওয়ার্ম ভাইরাসের চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক। এটি মাত্র কয়েক মিনিটে হাজার হাজার কম্পিউটার অচল করে দিতে পারে। একটি এআই-চালিত কম্পিউটার ওয়ার্ম সাধারণ ওয়ার্মের চেয়েও বহুগুণ বিপজ্জনক। কারণ, এটি নির্দিষ্ট বা বাঁধাধরা কোডের ওপর নির্ভর না করে প্রতিবার আক্রমণের ধরন বদলাতে পারে, আগের আক্রমণ থেকে শিক্ষা নিতে পারে এবং বিভিন্ন যন্ত্রের নির্দিষ্ট দুর্বলতা অনুযায়ী নতুন কৌশল তৈরি করতে পারে। অ্যানথ্রপিকের গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ‘এ ধরনের এআই ওয়ার্ম ছড়িয়ে পড়ার সময় নিজের মেমোরি বা ওয়েট (weights) সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে পারে (অথবা কোনো পাবলিক হাব থেকে আবার ডাউনলোড করে নিতে পারে) এবং আক্রান্ত হার্ডওয়্যারে সরাসরি কাজ করতে পারে। সহজ কথায়, এআইয়ের মূল অংশটাই এই মালওয়্যারের ক্ষতিকর উপাদানে পরিণত হবে।’ গবেষকেরা আরও জানান, এই এআই ওয়ার্মগুলো কম নিরাপত্তাবিশিষ্ট আইওটি যন্ত্র ব্যবহার করতে পারে, নতুন হার্ডওয়্যারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রচলিত ম্যালওয়্যারের মতো কেন্দ্রীয় কাঠামোর ওপর নির্ভর না করায় এই ছড়িয়ে থাকা এআই সিস্টেমগুলোকে বন্ধ করা খুবই কঠিন হবে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সকেপের সমাধান বিশেষজ্ঞ জন কারবেরি বলেছেন, ‘নিজে থেকে অনুলিপি তৈরি করা সফটওয়্যার কিন্তু নতুন কিছু নয়।’ এমন অনুলিপি তৈরি করা প্রথম সফটওয়্যার ছিল ১৯৮৭ সালের ‘ক্রিসমাস ট্রি’ ওয়ার্ম, যা বানিয়েছিলেন এক জার্মান প্রোগ্রামার। সেটির উদ্দেশ্য ক্ষতিকর ছিল না—এটি কেবল কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে ব্যবহারকারীদের শুভ বড়দিন ও নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাত এবং ক্রিসমাস ট্রির একটি ছবি দেখাত। তবে তখনকার সাধারণ কম্পিউটার ব্যবস্থাগুলোর জন্য এটি ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। এর পরের বছরই আসে ‘মরিস ওয়ার্ম’, যা আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যায়। ইন্টারনেট ব্যবস্থার শুরুর দিকে ভয়াবহ ক্ষতির কারণে একে ‘দ্য গ্রেট ওয়ার্ম’ বলা হতো। এটি হাজার হাজার কম্পিউটার অচল করে দেয় এবং এতে প্রায় ১ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়। এর সৃষ্টিকর্তা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রবার্ট তাপ্পান মরিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘কম্পিউটার ফ্রড অ্যান্ড অ্যাবিউজ অ্যাক্টের’ অধীনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি হন। (পরবর্তীতে মরিস ‘ওয়াই কম্বিনেটর’ নামে একটি বিখ্যাত স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হন এবং বর্তমানে তিনি এমআইটি-র কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক।) কারবেরি বলেন, ‘অ্যানথ্রপিকে গবেষণা দেখায় যে, এআই ঘরের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রগুলোতে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর অর্থ হলো, ঐতিহ্যবাহী উপায়ে মূল সুইচ বন্ধ করে এই সংক্রমণ রোখা যাবে না। কাল্পনিক এআই নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উচিত যন্ত্রগুলোর নেটওয়ার্ক আলাদা রাখা, অননুমোদিত ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা এবং ডিফল্ট পাসওয়ার্ড বদলে ফেলা।’ এআই এখনই না পারলেও খুব শিগগিরই নিজে থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারবে বর্তমানে পরীক্ষা করা আইওটি হার্ডওয়্যারগুলোতে এআই মডেলগুলো এখনো পুরোপুরি সফলভাবে অনুলিপি তৈরি করতে পারছে না। তবে আর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এই ক্ষমতা চলে আসতে পারে। এই ধরনের বিপদকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এআই কী পরিমাণ ক্ষতি করতে পারে, তা নিয়ে এটি নতুন এক সতর্কবার্তা। ব্ল্যাক হিলস ইনফরমেশন সিকিউরিটির মালিক জন স্ট্র্যান্ড বলেছেন, ‘আমরা এখন পুরোপুরি সায়েন্স ফিকশনের যুগে বাস করছি। দুঃখের বিষয় হলো, এটা কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, সত্যি।’ গবেষকেরা বহু বছর ধরেই নিজে থেকে অনুলিপি তৈরি করা ওয়ার্ম ও বটনেট নিয়ে গবেষণা করছেন। ২০১২ সালে এক অজ্ঞাত হ্যাকার ‘কার্না বটনেট’ (Carna botnet) তৈরি করেছিল। সাইবার নিরাপত্তা খাতের মূল চিন্তার বিষয় হলো এর ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা। এআইয়ের বিশেষত্ব হলো—এটি কোনো পূর্বনির্ধারিত দুর্বলতার ওপর নির্ভর না করে নিজে থেকেই সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করে, তা আক্রমণ করে এবং অন্যান্য যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্ট্র্যান্ড বলেন, ‘সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ছোট এআই মডেলগুলোর ক্ষমতাও বড় বড় অত্যাধুনিক মডেলের মতোই। এগুলো শুধু কাজ করতে একটু বেশি সময় নেয়। তাই অন্তত ১২৮ গিগাবাইট মেমোরির সিস্টেমে চলা ছোট মডেলগুলোকেও সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এরা দ্রুত না হলেও নিরাপত্তা কর্মীদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ইন্টারনেট অব থিংস কম্পিউটার ও স্মার্টফোনে এআই মডেলের নিজে থেকে অনুলিপি তৈরি করার ক্ষমতা এক অভূতপূর্ব ও অপ্রত্যাশিত হুমকি। তবে এই বিপদ শুধু কম্পিউটার বা ফোনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়বে। রিজ সিকিউরিটি টেকনোলজির কারিগরি পরিচালক ড্যারিন ফ্রেডি জানান, এত বছর সবাই ভেবেছে স্মার্ট টিভি শুধু সিনেমা বা নাটক দেখার পরামর্শ দেবে। কিন্তু ভবিষ্যতে এই স্মার্ট টিভিই হয়তো বড় কোনো সাইবার আক্রমণের অংশ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, ‘মূল প্রশ্ন এটা নয় যে—এআই নিজে ছড়িয়ে পড়তে পারে কিনা, বরং প্রশ্ন হলো এটি কোনো যন্ত্রে ঢুকে পড়ার পর কী করতে পারে? এটি কি অন্য যন্ত্র খুঁজে বের করতে পারবে? নিরাপত্তা প্রাচীর ভাঙতে পারবে? এবং কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে পারবে?’ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত দৈনন্দিন যন্ত্রগুলোতে (আইওটি) এআইয়ের এই নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা নতুন নিরাপত্তা ও আইনি ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ এগুলো ডেটা সেন্টারের ওপর নির্ভর না করেই পুরো নেটওয়ার্ককে আক্রমণের হাতিয়ার বানিয়ে ফেলতে পারে। কারবেরির মতে, ‘আমরা চার দশক ধরে নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত করেছি, আর এখন সেই বিপজ্জনক ওয়ার্মকেই মিটিং রুমের স্মার্ট ডিসপ্লের মাধ্যমে ঘরে ডেকে আনছি।’ আমরা কি অজনা প্রযুক্তির ভয়ে বেশি আতঙ্কিত? প্রশ্ন উঠছে—আমরা কি না বুঝে অতিরিক্ত ভয় পাচ্ছি, নাকি এই হুমকি সত্যিই মারাত্মক? সুজু ল্যাবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্টিভেন সুইফ্ট বলেন, ‘এআই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে বা হ্যাক করে ছিটকে বের হয়ে যাবে—এমন অনেক ভয় দেখানো হয়। তবে অ্যানথ্রপিকের এই গবেষণাটি মূলত আইওটি যন্ত্রের বাস্তব ঝুঁকিকে সামনে এনেছে, কারণ এসব যন্ত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় থাকেই না। ফলে এগুলো সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।’ সুইফ্ট আরও বলেন, ‘নিজের অনুলিপি তৈরি করা নতুন কিছু নয়, একে আমরা ওয়ার্ম বলি। এআই-চালিত ওয়ার্ম মূলত সাধারণ ওয়ার্মের মতোই, যা অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে এআইয়ের মেমোরি বা ফাইল ডাউনলোড করে নিজের মতো প্রম্পট তৈরি করে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।’ প্রথমদিকের ওয়ার্ম আক্রমণের পর থেকে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এসব হুমকি মুছে ফেলতে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছেন। আধুনিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা এখন অনেকটাই সুরক্ষিত। তবে সমস্যা হলো, আমরা এখনো বাজারে এমন অনেক স্মার্ট যন্ত্র ছাড়ছি যেগুলোতে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে এসব যন্ত্র ব্যবহারকারীর অজান্তেই বড় ধরনের আক্রমণের হাতিয়ার বা ‘বটনেট’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ডেটা সেন্টার ছাড়াই প্রতিলিপি বানাবে এআই, হয়ে উঠবে ভয়ংকর ‘ওয়ার্ম’

অনুবাদের নতুন বাস্তবতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অনুবাদকের বিচারবোধ

সৈয়দ আমিরুজ্জামানসাহিত্য অনুবাদকে একসময় অনেকেই মূল সাহিত্যের তুলনায় গৌণ একটি সৃজনশীল কাজ হিসেবে দেখতেন। অনুবাদক যেন লেখকের ছায়াসঙ্গী—মূল রচনার ভাষা বদলে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর কাজ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অনুবাদ সম্পর্কে সেই ধারণা বদলেছে। এখন অনুবাদকে কেবল এক ভাষার শব্দ অন্য ভাষায় প্রতিস্থাপনের কাজ হিসেবে দেখা হয় না; বরং এটি একটি স্বতন্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড। একটি সাহিত্যকর্মের ভাষা, সংস্কৃতি, রসবোধ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, চরিত্রের মনস্তত্ত্ব এবং লেখকের নিজস্ব শৈলী অন্য ভাষায় পুনর্নির্মাণ করা নিঃসন্দেহে সৃজনশীলতারই অংশ।এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় অনুবাদ জগতে যুক্ত হয়েছে নতুন এক শক্তি—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। অনুবাদের ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এখন আর ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাবনা নয়; এটি বর্তমানের বাস্তবতা। যন্ত্রনির্ভর অনুবাদ থেকে শুরু করে জেনারেটিভ এআই—প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি অনুবাদ প্রক্রিয়াকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি সামনে এনেছে নতুন কিছু প্রশ্নও। বিশেষত সাহিত্য অনুবাদের ক্ষেত্রে প্রশ্নটি শুধু ‘এআই কতটা ভালো অনুবাদ করতে পারে’—এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রশ্ন হচ্ছে, এআই-সহায়িত অনুবাদে অনুবাদকের ভূমিকা কী হবে, সম্পাদকের দায়িত্ব কোথায়, এবং পাঠক কীভাবে জানবেন যে একটি অনুবাদ কতটা মানবনির্ভর আর কতটা যন্ত্রনির্ভর?বিশিষ্ট লেখক, অনুবাদক ও শিক্ষাবিদ গোলাম হোসাইন (জি. এইচ.) হাবিবের আলোচনায় এই পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উঠে এসেছে। তাঁর নিজের অনুবাদকর্মের পরিসরও এই আলোচনাকে বিশেষ তাৎপর্য দেয়। উমবের্তো একো, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, ইতালো কালভিনো ও আইজ্যাক আসিমভের মতো বিশ্বসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের রচনা ও সাহিত্যতত্ত্ব বাংলায় অনুবাদ করেছেন তিনি। অনুবাদ সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারও পেয়েছেন। ফলে এআই ও অনুবাদ নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের আলোচনা নয়; এটি একজন দীর্ঘদিনের অনুবাদক ও সাহিত্যকর্মীর অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও।শব্দান্তর নয়, অর্থ ও অভিজ্ঞতার পুনর্নির্মাণঅনুবাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শব্দের অর্থ নয়, অর্থের ভেতরের অর্থকে ধারণ করা। একটি বাক্য অভিধান অনুসরণ করে অনুবাদ করা সম্ভব; কিন্তু সেই বাক্যের সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ, ব্যঙ্গ, রসবোধ কিংবা চরিত্রের অন্তর্নিহিত অনুভূতি যথাযথভাবে অন্য ভাষায় পৌঁছে দেওয়া অনেক বেশি কঠিন।ধরা যাক, কোনো উপন্যাসে একটি চরিত্র এমন একটি প্রবাদ ব্যবহার করল, যার আক্ষরিক অর্থ একরকম কিন্তু সাংস্কৃতিক অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি যন্ত্র আক্ষরিক অর্থ শনাক্ত করতে পারে, সম্ভাব্য সমার্থক বাক্যও দিতে পারে; কিন্তু কোন বাংলা অভিব্যক্তিটি সেই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে স্বাভাবিক, তা নির্ধারণ করতে প্রয়োজন ভাষা ও সংস্কৃতির গভীর বোধ।সাহিত্য অনুবাদের ক্ষেত্রে এই মানবিক বিচারবোধই অনুবাদকের বড় শক্তি।কারণ সাহিত্য শুধু তথ্য বহন করে না, অনুভূতিও বহন করে। একটি কবিতার ছন্দ, একটি উপন্যাসের বাক্যপ্রবাহ, একটি চরিত্রের কথার ভঙ্গি কিংবা লেখকের ইচ্ছাকৃত অস্পষ্টতা—এসবের সবকিছুকে কেবল তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এগুলো সাহিত্যের নান্দনিক কাঠামোর অংশ।এআই অনুবাদকের প্রতিদ্বন্দ্বী, নাকি সহকারী?এআইয়ের সক্ষমতা নিয়ে আতঙ্কের একটি বড় কারণ হলো—এটি দ্রুত অনুবাদ করতে পারে, বিপুল পরিমাণ লেখা প্রক্রিয়াজাত করতে পারে এবং ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, অনুবাদকের প্রয়োজন কি একদিন ফুরিয়ে যাবে?সম্ভবত বাস্তব চিত্রটি এত সরল নয়বরং এআই অনুবাদকের কাজের ধরন বদলে দিতে পারে। একজন অনুবাদককে হয়তো ভবিষ্যতে প্রতিটি বাক্যের প্রাথমিক অনুবাদ নিজ হাতে তৈরি করতে হবে না। এআই একটি খসড়া অনুবাদ তৈরি করতে পারে, কঠিন শব্দের সম্ভাব্য অর্থ দিতে পারে, দীর্ঘ টেক্সটের কাঠামো বিশ্লেষণ করতে পারে কিংবা একই অংশের একাধিক অনুবাদ-সম্ভাবনা হাজির করতে পারে। কিন্তু সেখানেই অনুবাদের কাজ শেষ হবে না। বরং শুরু হবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ—যাচাই, পরিমার্জন, পুনর্লিখন এবং সাহিত্যিক পুনর্নির্মাণ।অর্থাৎ ভবিষ্যতের অনুবাদক হয়তো শুধু ‘translator’ থাকবেন না; তিনি একই সঙ্গে হবেন সম্পাদক, ভাষাবিশেষজ্ঞ, সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যাকার এবং এআই-উৎপাদিত পাঠের সমালোচক। এখানে একটি মৌলিক বিষয় মনে রাখা জরুরি: দ্রুত অনুবাদ আর ভালো অনুবাদ এক জিনিস নয়।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: স্বচ্ছতাএআই-সহায়িত অনুবাদ যত বাড়বে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে স্বচ্ছতার প্রশ্ন। একটি অনুবাদ যদি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় এআই ব্যবহার করে তৈরি হয়, পাঠকের কি তা জানার অধিকার আছে? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।সাহিত্যকর্মের পাঠক শুধু অনুবাদিত ভাষার অর্থ গ্রহণ করেন না; তিনি অনুবাদকের একটি সৃজনশীল সিদ্ধান্তের ওপরও আস্থা রাখেন। অনুবাদক কীভাবে মূল রচনার একটি শব্দের অর্থ নির্ধারণ করেছেন, কোন সাংস্কৃতিক উপমার কী প্রতিস্থাপন করেছেন, কোন বাক্যের ভঙ্গি কীভাবে পুনর্গঠন করেছেন—এসবের পেছনে থাকে তাঁর নিজস্ব সাহিত্যিক বিচার।সুতরাং এআইয়ের ভূমিকা গোপন রেখে একটি অনুবাদকে পুরোপুরি মানবসৃষ্ট অনুবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা নৈতিকভাবেও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, সম্পাদক এবং অনুবাদকদের তাই এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ নীতিমালা প্রয়োজন। কোথায় এআই ব্যবহার করা হয়েছে, কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত পাঠের দায়িত্ব কার—এসব বিষয়ে অন্তত একটি সাধারণ নীতিগত কাঠামো থাকা জরুরি।এটি শুধু অনুবাদের ক্ষেত্রে নয়; সাংবাদিকতা, একাডেমিক লেখা, সম্পাদনা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রেও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।সম্পাদক কি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন?এআইয়ের প্রসঙ্গে অনুবাদকের পাশাপাশি সম্পাদকের ভূমিকাও নতুন করে ভাবতে হবে।এআই একটি অনুবাদ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই অনুবাদ নির্ভুল কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য মানুষের প্রয়োজন হবে। এমনকি ব্যাকরণগতভাবে একটি বাক্য নিখুঁত হলেও সেটি সাহিত্যিকভাবে ভুল হতে পারে। কোনো শব্দের অভিধানগত অর্থ সঠিক হলেও প্রসঙ্গের বিচারে সেটি ভুল নির্বাচন হতে পারে। একটি চরিত্রের ভাষা যদি তার সামাজিক অবস্থান, বয়স কিংবা মানসিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে অনুবাদটি ভাষাগতভাবে চমৎকার হলেও সাহিত্যিকভাবে ব্যর্থ হতে পারে। এখানেই সম্পাদকের ভূমিকা।ভবিষ্যতে হয়তো এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হবে, যেখানে এআই-উৎপাদিত অনুবাদের পরিমাণ বাড়বে, কিন্তু সেই অনুবাদকে পাঠযোগ্য, প্রাসঙ্গিক ও সাহিত্যসম্মত করে তোলার জন্য দক্ষ সম্পাদকদের প্রয়োজন আরও বাড়বে।অর্থাৎ প্রযুক্তি হয়তো অনুবাদ তৈরির গতি বাড়াবে; কিন্তু মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব মানুষের কাঁধেই থাকবে।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন নীতিমালাবাংলা ভাষায় বিশ্বসাহিত্যের অনুবাদের প্রয়োজন আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে বাংলা সাহিত্যও বিশ্বের অন্যান্য ভাষায় পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে। এআই এই বিনিময়কে অনেক দ্রুত ও সহজ করে দিতে পারে।কিন্তু সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও আছে।বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা, উপভাষা, সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ এবং সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে যান্ত্রিকভাবে অন্য ভাষায় রূপান্তর করলে অনুবাদ হয়তো ‘বোধ্য’ হবে, কিন্তু তার সাহিত্যিক স্বর হারিয়ে যেতে পারে। একইভাবে বিদেশি সাহিত্য বাংলায় আনার সময়ও কেবল আক্ষরিক অর্থ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন।তাই বাংলাদেশে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, অনুবাদ সংগঠন ও সাহিত্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এআই-সহায়িত অনুবাদ নিয়ে আলোচনা শুরু করা। কী ধরনের ব্যবহারে এআই গ্রহণযোগ্য, কোথায় মানবসম্পাদনা বাধ্যতামূলক, এআই ব্যবহারের মাত্রা কীভাবে প্রকাশ করা হবে এবং অনুবাদের দায়ভার কে নেবেন—এসব বিষয়ে নীতিগত নির্দেশনা তৈরি করা দরকার।প্রযুক্তি বদলাবে, মানুষের প্রয়োজন শেষ হবে নাপ্রযুক্তির ইতিহাস আমাদের একটি বিষয় বারবার মনে করিয়ে দেয়—নতুন প্রযুক্তি অনেক কাজের ধরন বদলে দেয়, কিন্তু মানুষের প্রয়োজন সবসময় একইভাবে শেষ করে দেয় না। ছাপাখানা লেখকের প্রয়োজন শেষ করেনি, কম্পিউটার সম্পাদকের প্রয়োজন শেষ করেনি, অনলাইন প্রকাশনা সাংবাদিকতার প্রয়োজন শেষ করেনি। বরং কাজের প্রকৃতি বদলেছে।এআইও সম্ভবত অনুবাদকের ক্ষেত্রে তেমনই একটি পরিবর্তন আনবে।ভবিষ্যতের সবচেয়ে সফল অনুবাদক হয়তো তিনি নন, যিনি এআই ব্যবহার করেন না; আবার তিনিও নন, যিনি এআইয়ের তৈরি পাঠ হুবহু গ্রহণ করেন। সফল অনুবাদক সম্ভবত সেই ব্যক্তি, যিনি প্রযুক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন এবং একই সঙ্গে তার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও সতর্ক। যিনি জানেন কোথায় যন্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হবে এবং কোথায় নিজের সাহিত্যিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দিতে হবে।শেষ পর্যন্ত অনুবাদ হলো মানুষের ভাষা থেকে মানুষের ভাষায় যাওয়ার একটি সেতু। সেই সেতু নির্মাণে প্রযুক্তি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু সেতুটি কোথায় স্থাপন করা হবে, কোন পথ ধরে যাবে এবং তার ওপারে পৌঁছে পাঠক কী অনুভব করবেন—এই সিদ্ধান্ত এখনো মানুষের।সাহিত্যিক অনুবাদের ভবিষ্যৎ তাই মানুষ বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াই নয়। বরং এটি মানুষ ও প্রযুক্তির সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি সময়। আর এই নতুন সময়ে সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠবে তিনটি বিষয়—স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং মানবিক বিচারবোধ।কারণ একটি ভালো অনুবাদ শুধু ভাষা বদলায় না; একটি ভালো অনুবাদ এক সংস্কৃতির অনুভূতিকে আরেক সংস্কৃতির পাঠকের কাছে জীবন্ত করে তোলে। সেই জীবন্ততার জায়গাটিই হয়তো ভবিষ্যতেও মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে থাকবে।সৈয়দ আমিরুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;সম্পাদক, আরপি নিউজ;কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।

অনুবাদের নতুন বাস্তবতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অনুবাদকের বিচারবোধ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream