শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে ইসির নতুন নির্দেশনা

উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে ইসির নতুন নির্দেশনা

নতুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালা ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে জারি করা হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে নতুন বিধিমালায়। নতুন বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে। নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করার সুযোগ থাকবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে।  একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না।  নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।  ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেও কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।  অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের নতুন এ বিধিমালার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধ এবং ডিজিটাল প্রচারণায় এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা যাবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে দেশের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  বুধবার  ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণ, আবেদনপত্র ইস্যু এবং দাখিল করা আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করার শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর। আবেদনপত্র ইস্যুর শেষ সময় ৯ সেপ্টেম্বর এবং দাখিল করা আবেদন নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটার স্থানান্তরের আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। আগামী নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা যাবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করবে ইসি: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ সরকার নির্ধারণ করে দেবে না; সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে নির্বাচন কমিশনই (ইসি) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান দুর্গাপূজা, বন্যা, বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আজ সোমবার (২৪ আগস্ট)  ‘এক্সিকিউভ লিডারশিপ ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সিইসি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ সরকার জানিয়েছে কি না প্রশ্ন উঠলে সিইসি বলেন, ‘সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে না, আমরাই নেব। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে আমরাই সিদ্ধান্ত নেব। দিনক্ষণ আমরাই ঠিক করব। এটা এমন নয় যে সরকার একটি তারিখ দেবে আর আমরা তা ঘোষণা করে দেব। আমাদের সামগ্রিক প্রস্তুতি চলমান আছে।’ সিইসি আরও বলেন, তবে নির্বাচন করতে গেলে অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হয়, যেগুলো অনেক দেশে নেই। প্রথমে দুর্গাপূজার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। বর্ষাকালেরও একটি সমস্যা হয়...বন্যা হয়, এটা একটা সমস্যা। এরপর বার্ষিক পরীক্ষা এসে যাবে। গ্রামভিত্তিক নির্বাচন হলে স্কুলের মধ্যে নির্বাচন হবে। আবার স্কুলের শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে হয়। নানাবিধ কনসিডারেশন আছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব। তবে আশা করি, এটা এমন নয় যে নির্বাচন অনেক দেরি হবে। যথাসম্ভব সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি সময়ে যাতে আমরা শুরু করতে পারি, সেভাবেই আমরা ব্যবস্থা নেব।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে জানতে চাইলে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখন বলা যাবে না। এটা অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। আমাদের কিছু আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সংশোধন করতে হচ্ছে। তবে তেমন সময় লাগবে না। আমাদের তরফ থেকে আমরা কাজ করে ফেলেছি এবং মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছি। এটা হয়ে গেলে আমাদের মোটামুটিভাবে আগের কিছু কাজের জন্য প্রকিউরমেন্টও আছে। আবার কিছু নির্বাচন করার জন্য আইনে বাধ্যবাধকতাও আছে। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ছাড়া তো চলতে পারব না। পুলিশ লাগবে, বিজিবি লাগবে। এরা সবাই তো সরকারের লোক। শুধু আমার নির্বাচন কমিশনের একার প্রস্তুতি নয়। এই সমস্ত বাহিনী যারা নির্বাচনে কাজ করবে, তাদেরও প্রস্তুতি দরকার। নতুন একটি সরকার এসেছে। সুতরাং সবাইকে নিয়ে যখন সবাই প্রস্তুত হবে, তখন বোঝা যাবে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত। আমি শুধু আমার ঘরের মধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনে ঝাঁপ দেব—এমনটা তো নয়। সবাইকে নিয়েই আমাকে নির্বাচনে ঝাঁপ দিতে হবে। সবাইকে নিয়ে যে প্রস্তুতি, সেই প্রস্তুতির জন্য আমরা কার্যক্রম নিয়েছি।’ পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘আমরা তাঁর প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চেয়েছি, সারা দেশের অবস্থা জানতে চেয়েছি এবং তিনি কতসংখ্যক পুলিশ দিতে পারবেন বা পারবেন না—এসব বিষয় জানতে চেয়েছি। তাঁকে কিছু পরামর্শও দিয়েছি। তাদের সহযোগিতা লাগবে। বিশেষ করে পুলিশের একটি মনিটরিং সিস্টেম আছে, সেটি আমরা চেয়েছি। নির্বাচনের সময় মনিটরিংয়ের কাজে সেটি ব্যবহার করা যায় কি না, সেটিও আমরা দেখতে চাই।’ এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে খারাপ হবে না; বরং আরও ভালো করার চেষ্টা থাকবে। জাতীয় নির্বাচনে যে মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, তা বজায় রেখেই সবার সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার ঝুঁকি বেশি থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এ সময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কবে হবে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে করতে হবে। ৯০ দিনের মধ্যেই এটা হয়ে যাবে। কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।’ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাবে কিনা জানতে চাইলে নাসির উদ্দিন বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে একটি নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচন হবে, এটা তো সারাদেশে নয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করবে ইসি: সিইসি
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream