বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
মা ইলিশ সংরক্ষণে ১১১ এমপিকে নির্দেশনা

মা ইলিশ সংরক্ষণে ১১১ এমপিকে নির্দেশনা

মা ইলিশ সংরক্ষণে ১১১ এমপিকে নির্দেশনা (ডিও লেটার) দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ।  রোববার (১৮ অক্টোবর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ ডিও লেটার সংশ্লিষ্ট এমপিদের কাছে প্রেরণ করা হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ৩৮টি জেলার এসব সংসদ সদস্যকে ডিও লেটার প্রদান করেন মন্ত্রী। ডিও লেটারে মন্ত্রী মা ইলিশ সংরক্ষণে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে বলেন, জাতীয় মৎস্যসম্পদ ও ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য ইলিশ বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পুষ্টিনিরাপত্তা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ পরিচালিত হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, অভিযান চলাকালে নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় আইনত নিষিদ্ধ। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ভবিষ্যতে এ সম্পদের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সফলতা কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল নয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিও লেটারে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সামাজিকভাবে সুপরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের অভিযান বাস্তবায়নে সহযোগিতা, জেলেদের আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা এবং অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ নিরুৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গাটি কচু দিয়ে ইলিশের ঝোল

আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ। আমরা ইলিশ দিয়ে নানা পদই তো আমরা রান্না করি। এবার রেঁধে দেখুন ইলিশের মজাদার ঝোল। গাটি কচু ৩০০ গ্রাম, বেগুন ২০০ গ্রাম, ইলিশ মাছ ৪ টুকরা, পেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচ, সরিষার তেল ৪ টেবিল চামচ, হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া এক চা-চামচ করে, কাঁচা মরিচ ফালি ৫ থেকে ৬টি, ধনেপাতাকুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো। গাটি কচু ও বেগুন কেটে আলাদা করে ধুয়ে রাখুন। ইলিশ মাছ কেটে ধুয়ে লবণ মাখিয়ে রাখুন। কড়াইতে সরিষার তেল গরম হলে পেঁয়াজকুচি দিয়ে সামান্য ভেজে অল্প পানি দিন। এবার হলুদ, মরিচ, ধনেগুঁড়া এবং লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। পরে গাটি কচু দিয়ে আরও পাঁচ ছয় মিনিট কষিয়ে নিন। তারপর বেগুন দিয়ে আবার কষান। কষানো হলে ঝোলের পানি দিন অল্প পরিমাণে। ফুটে উঠলে কাঁচা ইলিশ মাছ দিয়ে কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে কড়াইতে ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন ৫ থেকে ৬ মিনিট। শেষে ধনেপাতা ছড়িয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন।

গাটি কচু দিয়ে ইলিশের ঝোল

চেনা চিত্র বদলে ভারত থেকে আসছে ইলিশ

এবার উল্টে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইলিশ বাণিজ্যের চেনা চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে ভারত বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বাজার ছিল। বিশেষ করে দুর্গাপূজার মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হতো। কিন্তু এবার বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উল্টো ভারত থেকেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে—দেশটির মৎস্য ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। বাংলাদেশে চলতি বছর ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের পদ্মার ইলিশ বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই সংকটের কারণে কিছু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রচলিত বাণিজ্যপথের বাইরে গিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছেন। ভারত থেকে আসা ইলিশের বড় অংশ গুজরাট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভরুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছবাজার হয়েও গেছে। হাওড়া হোলসেল ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, বাংলাদেশ এবার প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে। সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ থেকে বোয়াল, রুই, পারসে ও ট্যাংরা মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। গুজরাটের ইলিশে প্রচুর ডিম বা রো থাকায় ভারতের বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলক কম। কিন্তু বাংলাদেশে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ডিমভরা ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মাকসুদ বলেন, এসব ইলিশের ডিম আলাদাভাবেও বিক্রি করা হচ্ছে। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে অন্য দেশেও পুনরায় রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে শুধু গুজরাট নয়, পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার ও কোলাঘাট থেকেও মাঝারি আকারের ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিছু চালান এসেছে গুজরাট ও মুম্বাই থেকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে অন্তত ৪৫০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। রোববারও প্রায় ১০ টন ইলিশ নিয়ে দুটি চালান এই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা শুরুতে এসব চালানের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানোর খবর প্রকাশ হলে বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু রপ্তানিকারক প্রথমে দাবি করেছিলেন, ইলিশ রপ্তানির কোডের অধীনে পাঠানো চালানে সামুদ্রিক মাছ থাকতে পারে। পরে পেট্রাপোলের ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কাস্টমসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে সত্যিই ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। মৎস্য আমদানিকারক সমিতির সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৎস্য ব্যবসায়ীদের মতে, সীমান্তের দুই পাশেই ইলিশের সংকট এই অস্বাভাবিক বাণিজ্যের অন্যতম কারণ। অনিয়মিত বাতাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরায় ব্যাঘাত ঘটেছে। এতে ইলিশের আহরণ কমার পাশাপাশি জেলেদের লোকসানও হয়েছে। এক ভারতীয় রপ্তানিকারক বলেন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা আরব সাগর ও নর্মদা নদীর মোহনা থেকে পাওয়া ইলিশ সংগ্রহ করছেন। এসব মাছ দেখতে ভালো হলেও মিঠাপানির ইলিশের মতো সুস্বাদু নয়। তবে পদ্মার ইলিশের তুলনায় দাম কম হওয়ায় এবং বাজারে ব্যাপক সংকট থাকায় ব্যবসায়ীরা এগুলো আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানির এই পরিবর্তন এবার দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। গত বছর বাংলাদেশ ভারতকে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতে পৌঁছায় মাত্র ১৪৩ দশমিক ৮০ টন। এর আগের দুই বছরেও ভারতে ইলিশ আমদানি ৬০০ টনের নিচে ছিল। মূলত বেশি দামের কারণে আমদানিকারকেরা অনেক চালান নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। এবার কলকাতার মাছ আমদানিকারকেরা বাংলাদেশকে আবার ইলিশ রপ্তানি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। শহরভিত্তিক একটি সংগঠন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে। বাংলাদেশি মাছ ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তারেক রহমানের সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। সেই দেশের বাজারে ইলিশের ঘাটতি মেটাতে এবার প্রতিবেশী ভারত থেকেই ইলিশ আসছে। বিষয়টিকে তাই শুধু বাণিজ্যের উল্টো স্রোত নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ইলিশ-সম্পর্কেরও এক অস্বাভাবিক অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারত এখন বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি করছে, এটি অবশ্যই গর্বের বিষয়। তবে আমার ইচ্ছা, ইলিশ যেন চিরকাল দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে থাকে।’

চেনা চিত্র বদলে ভারত থেকে আসছে ইলিশ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream