ককরোচ আন্দোলনে ভারতের রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ভারতে প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্মের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের সূত্র ধরে গত মে মাসে ইনস্টাগ্রামে শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি পরবর্তীতে রাজপথের তীব্র আন্দোলনে রূপ নেয়। টানা সাত সপ্তাহের লাগাতার ছাত্র বিক্ষোভের মুখে সম্প্রতি দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।এই আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব কেবল পদত্যাগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মতো বিজেপির দীর্ঘ তিন দশকের শক্ত ঘাঁটিতে দলের পরাজয় এবং তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষকে স্পষ্ট করে তুলেছে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলোর ফলাফল শাসকদলের ওপর। শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ প্রশমিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইনস্টাগ্রামে সেলফি-ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণামূলক উদ্যোগ নিলেও তরুণদের কাছ থেকে মিশ্র ও সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনগুলোকে যেভাবে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা আদর্শিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করে প্রতিহত করা যেত, এই সর্বজনীন জেন-জি আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিজেপির সেই কৌশল কার্যকর হয়নি।রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপি হয়তো সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হবে না, তবে তাদের এই চাপ অন্যান্য বিরোধী দল ও সার্বিক জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। বিজেপি তাদের হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শিক অবস্থান থেকে সরে না এলেও তরুণ সমাজের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগের ধরনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।