আত্মরক্ষার কৌশল শিখছে শিশুরা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্বের স্বপ্ন
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর :নিজেকে রক্ষা করা, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির প্রত্যয় নিয়ে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে শুরু হয়েছে কারাতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা।খালি হাতে কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়, বিপদের মুহূর্তে নিজেকে রক্ষা করতে হয় এবং শৃঙ্খলাবোধের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে হয়—এসব কৌশল শেখানো হচ্ছে প্রশিক্ষণে। পাঁচ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে ২০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা অংশ নিচ্ছে এ কর্মশালায়।প্রশিক্ষণার্থীদের অনেকের স্বপ্ন, একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারাতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।দিনাজপুরের চিরিরবন্দর মিনি স্টেডিয়াম মাঠে সুতোকান কারাতে দো প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ সুতোকান কারাতে দো অ্যাসোসিয়েশনের সার্বিক সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন দিনাজপুর জেলা সুতোকান কারাতে দো অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান প্রশিক্ষক মাহবুব উল আলম জুয়েল।প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনের আগে মাঠে কারাতের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রদর্শন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা। আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল, প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করা, হাত ও পায়ের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং বিপদের মুহূর্তে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখার নানা কৌশল তুলে ধরে তারা। একে অপরের সঙ্গে অনুশীলনের মাধ্যমে এসব কৌশলের ব্যবহারিক দিকও প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা।তাদের পরিবেশনায় উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মুগ্ধ হন। করতালি দিয়ে উৎসাহ দেন তারা।প্রশিক্ষণার্থীরা দেখায়, কীভাবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হয় এবং পরিস্থিতি বুঝে আত্মরক্ষার কৌশল প্রয়োগ করতে হয়।কারাতে শুধু আত্মরক্ষার কৌশল শেখায় না, বরং একজন শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে দৃঢ় করে তোলে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শৃঙ্খলা, ধৈর্য, মনোযোগ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও নারীদের জন্য এ প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান প্রশিক্ষক মাহবুব উল আলম জুয়েল বলেন, কারাতে এমন একটি প্রশিক্ষণ, যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী খালি হাতে নিজের আত্মরক্ষার কৌশল আয়ত্ত করতে পারে। পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তি আয়ত্ত করা। কারাতে চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলাবোধ ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার মানসিকতা তৈরি হয়। নারী ও শিশুদের জন্য এ প্রশিক্ষণ বিশেষভাবে প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, কারাতের মাধ্যমে শুধু আত্মরক্ষার দক্ষতা অর্জনই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগও তৈরি হয়।দিনাজপুরের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে ব্ল্যাক বেল্ট অর্জনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের কারাতে ফেডারেশনের অধীনে পরবর্তী পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণের ফলে বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যতে এদের মধ্য থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতিহা তুজ জোহরা বলেন, কারাতের মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা ও আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে।তিনি আরও বলেন, কারাতে প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরি হবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।