শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
আন্তর্জাতিক উৎসবে ছুটছে ‘মাস্টার’, এবার জিতল পুরস্কার

আন্তর্জাতিক উৎসবে ছুটছে ‘মাস্টার’, এবার জিতল পুরস্কার

একের পর এক আন্তর্জাতিক উৎসবে যাচ্ছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের সিনেমা ‘মাস্টার’, আর করছে বাজিমাৎ। সিনেমাটি বিখ্যাত রটারড্যাম উৎসবে অংশ নিয়েও ইতিহাস গড়েছিল। এবার এটি পুরস্কার জিতে নিলো ইতালির ২২তম লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। উৎসবটিতে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে ‘মাস্টার’। বার (৪ অক্টোবর) খবরটি জানিয়েছেন নির্মাতা সুমিত।  তিনি বলেন, ‘সুদূর তাসকানি থেকে কী দারুণ একটি খবর এলো কিছুক্ষণ আগে! লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারটি আমরা জিতে নিয়েছি! এই অর্জন ‘মাস্টার’ সিনেমাটির সর্বজনীনতা এবং প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ।’ লুক্কা উৎসবে এ বছর বিশ্ব চলচ্চিত্রের দুই নক্ষত্র নান্নি মোরেত্তি এবং জুলিয়ান শ্নেবেলকে আজীবন সম্মাননা (লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরিচালক নিকোলাস উইন্ডিং রেফন উপস্থিত ছিলেন তার নতুন সিনেমা নিয়ে, যেটা ‘গোল্ডেন প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে। এবারের উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে বেশ কিছু শক্তিশালী সিনেমা ছিল। তার মধ্যে ‘মাস্টার’কে বেছে নেওয়ার জন্য জুরি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুমিত। ‘মাস্টার’ নিয়ে জুরি বোর্ডের অফিশিয়াল বক্তব্যটি এরকম, ‘স্থানীয় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যে সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা তুলে ধরার অসাধারণ সক্ষমতার জন্য (পুরস্কারটি দেওয়া হলো)। একটি সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে দর্শক এমন এক শিক্ষকের মুখোমুখি হন, যার অন্তরে রয়েছে সৎ নীতি-আদর্শ আর সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি একনিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। তার এই আদর্শ হয়তো সমাজকে বদলে দিতে পারত, কিন্তু তা থমকে যায় সাধারণ মানুষের মঙ্গলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিল মারপ্যাঁচে। অত্যন্ত সাবলীল গতিতে এগিয়ে যাওয়া সিনেমাটি মূল চরিত্রের মুখোমুখি হওয়া নানা বৈপরীত্যকে দারুণ দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছে। আর শেষমেশ তিনি যে দুর্নীতির কাছে নতি স্বীকার করেন; আফসোস হলেও সত্যি—আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণেই তা ভীষণভাবে চেনা।’ সবশেষে নিজের টিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সুমিত তার ফেসবুক বার্তায় লেখেন, ‘আমার পুরো কলাকুশলী টিমের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা; সত্যিই অসাধারণ ছিল আপনাদের ডেডিকেশন!’ কিন্তু প্রশ্ন তো থেকে যায়, বিদেশের মঞ্চে একের পর এক বাজিমাৎ করে যাওয়া ‘মাস্টার’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে কবে আসবে? সে প্রশ্নটা নির্মাতা সুমিতেরও। কারণ ‘মাস্টার’ এখনও দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি। সেটা মিললেই পর্দায় আসবে সিনেমাটি। ‘মাস্টার’-এর নাম ভূমিকায় আছেন নাসির উদ্দিন খান। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, মাহমুদ আলম প্রমুখ।

ভেনিস থেকে ফিরেই নিরাপত্তা নিয়ে কথা বললেন বাঁধন

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হামলা ও হয়রানির অভিযোগের পর দেশে ফিরেছেন তিনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিনেত্রী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইতালির পুলিশের ভূমিকা ও সেখানে পাওয়া নিরাপত্তার কথা জানান এই অভিনেত্রী। বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। বাঁধন বলেন, যারা আক্রমণ চালাচ্ছেন আমার মনে হয় তারা নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ করতে হবে। আমার মনে হয় আক্রমনকারীরা নিজেদের স্থানতাই অনিরাপদ করছে। ইতালিতে যে ঘটনা ঘতেগেছে সেটা আসলে দুঃখজনক। এতে কিন্তু বিদেশের মাতিতে আমাদের নাম ক্ষুণ্ণ হলো।   বাঁধন আরও বলেন, দলকে ভালোবেসে আপনারা এমন করছেন তারা এমন করবেন না। কারণ আপনাদের পরিবার কষ্ট করবে।  দলের নেতারা কিন্তু এটা দেখবে না তারা আরামে আছে ভিডিও বার্তা দিচ্ছে।  এ সময় ইতালির পুলিশের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বাঁধন জানান, ঘটনার পর তাকে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দেয়া হয়েছিল। ইতালিতে থাকার সময় স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথাও জানান তিনি। এমনকি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে বাঁধন বলেন, সবাই আমাকে হেল্প করলেও আমার টিম আমাকে ত্যাজ্য করেছে এবং ভেনিসে তাদের সঙ্গে থাকতে নিষেধ করেছে! এরপর টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকেও তারা আমাকে বাদ দিয়েছে।  এর আগে ইতালির ভেনিসে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন বাঁধন। ৭ সেপ্টেম্বর রাতে মেস্ত্রে এলাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকার সময় একদল প্রবাসী বাংলাদেশি তাকে লক্ষ্য করে হেনস্তা ও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।  বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় বাঁধনের দিকে পানি, কোমল পানীয় ছোড়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগও ওঠে।  ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। ঘটনাটির পর বাঁধন স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন। ইতালির পুলিশ ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। হামলার অভিযোগের পর বাঁধনের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ ও ইতালিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকেও তাকে আইনি ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়।  এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করে। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি জোরালোভাবে তোলার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ। ঘটনার পর বাঁধন নিজেও দৃঢ় অবস্থান জানান। তিনি বলেছিলেন, ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বেন।    বাঁধন তখন ইতালিতে গিয়েছিলেন তার অভিনীত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে।  ৮৩তম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড ‘প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো’ অর্জন করেছে বাংলাদেশের রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ও রচিত সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।  চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেয়ার পাশাপাশি সেখানেই ঘটে যাওয়া হামলার অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় চলে আসেন এই অভিনেত্রী।

ভেনিস থেকে ফিরেই নিরাপত্তা নিয়ে কথা বললেন বাঁধন

‘শিল্পী হওয়াটাই যেন পাপ’—বাঁধনের পাশে মৌসুমী হামিদ

অভিনয়শিল্পী মৌসুমী হামিদ ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, ‘এই দেশে শিল্পী হওয়াটাই যেন পাপের,’ বিদেশের মাটিতে বাঁধনের ওপর হামলা ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মৌসুমী হামিদ লেখেন, ‘এই দেশে শিল্পী হওয়াটাও পাপের। কারণ, শিল্পীরাই দেখি সবচেয়ে বড় রাজনীতিবিদ হিসেবে কথা বলছেন। কোনো শিল্পীর ওপর হামলাই কাম্য নয়। সেটা ৩২ নম্বরে হোক আর ইতালির ভেনিসেই হোক। ’ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, জীবনে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও দেশের ভালো-মন্দ নিয়ে সবসময় কথা বলেছেন। একই সঙ্গে একজন শিল্পী হিসেবে আরেক শিল্পীর পাশে থাকার কথাও জানান তিনি। বাঁধনের ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে শিল্পীদের একাংশের বক্তব্যের সমালোচনা করে মৌসুমী লেখেন, ‘যেসব শিল্পীরা আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হওয়া হামলাকে সমর্থন করছেন বা তুলনা করছেন, বলছেন যারা বাঁধনের জন্য কানছে তারা ৩২ নম্বরে হামলার সময় কথা বলে নাই কেন। তাদেরকে বলতেছি, আপনারা যদি মনে করেন ৩২ নম্বরে একজনের কাপড় টেনে ছেঁড়া হইছে দেখে এখন আর একজনের কাপড় টেনে ছেঁড়ার অধিকার আপনারা যে রাজনৈতিক দল সমর্থন করেন তাদের আছে। তাইলে আপনারা কিসের নেতা হবেন, সেটা বুঝা যাইতেছে। আপনেরা দেশের জন্য কি করবেন সেটাও বুঝা যাইতেছে।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6aa000ee009d3" ) ); তিনি আরও বলেন, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে শিল্পী বা মানুষকে বিচার করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। মানুষের নেতৃত্ব ও মানবিকতার জায়গাটিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মৌসুমী হামিদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও মওলানা ভাসানীর মতো নেতাদের উদাহরণ টানেন। পোষ্টের শেষাংশে তিনি লিখেন, ‘শিল্পী হয়ে মানুষকে তার মনুষ্যত্ব দিয়ে বিচার করা ভুলে আমরা শুধুমাত্র দল দিয়ে বিচার করা শিখতেছি, বাহ!’    

‘শিল্পী হওয়াটাই যেন পাপ’—বাঁধনের পাশে মৌসুমী হামিদ

‘এভাবে কেন?’ বাঁধনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরীমণি

ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি তীব্র প্রতিক্রিয়া ও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইতালিতে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করার ঘটনায়। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাঁধনের ওপর হামলার সংবাদের ভিডিও শেয়ার করে এক স্ট্যাটাসে এই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে পরীমণি লেখেন, ‘বেশি কিছু না। কতগুলা কুত্তার বাচ্চা রাস্তায় ঘেউ ঘেউ করছে। এদের কাছে মানুষের বাচ্চার কান্না কিছুই ম‍্যাটার করে না। করেও নাই।’ পরীমণির এই বার্তা স্যোশাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।  নেটিজেন এবং তার ভক্ত-অনুরাগীরাও তার এই ক্ষুব্ধ বার্তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে নারী শিল্পীর প্রতি এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে ইতালিতে অবস্থানকালে সম্প্রতি একটি পার্কে পরিজনদের সামনেই একদল ব্যক্তি আজমেরী হক বাঁধনের ওপর আক্রমণ করে, তার ওপর কোল্ড ড্রিংকস ও ডিম ছুড়ে মারে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।  ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে ইতোমধ্যে বিনোদন ও রাজনীতি অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় বইছে।

‘এভাবে কেন?’ বাঁধনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরীমণি

বাঁধনের ওপর হামলা, ‘লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ’ সাফা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর ইতালির ভেনিসে একটি পার্কে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। তাদের মধ্যে অভিনেত্রী সাফা কবির রয়েছেন । তিনি বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় মর্মাহত, ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত বলে জানিয়েছেন। সাফা কবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বাঁধন আপু ও তার পরিবারকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো শিল্পীরই এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়।’ দেশের বাইরে কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে শিল্পীরা নিজেদের কাজ ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গেলে তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে সাফা আরও লিখেছেন, ‘একজন শিল্পী যখন দেশের বাইরে একটি চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের চলচ্চিত্র ও নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যান, তখন তাঁর প্রাপ্য হওয়া উচিত সম্মান ও নিরাপত্তা। অপমান, হয়রানি বা আতঙ্ক নয়।’ শিল্পীদের রাজনীতির টানাপোড়েনে জড়ানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাফা কবির। তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, আমাদের দেশের শিল্পীদের বারবার কোনো না কোনোভাবে রাজনীতির জঘন্য টানাপোড়েনের মধ্যে টেনে আনা হয়। শিল্পী সত্য, ন্যায় ও মানুষের কথা বলবেন—এটাই তো শিল্পীর স্বাধীনতা। কিন্তু সেই কণ্ঠের জন্য কেন তাঁকে বারবার মূল্য দিতে হবে?’ এ ধরনের ঘটনার কারণে বিদেশে পুরো বাংলাদেশের মানুষকে নেতিবাচকভাবে দেখার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। সাফা লিখেছেন, ‘আরও কষ্ট হয় যখন কিছু মানুষের আচরণের কারণে পুরো জাতিকে বিচার করা হয়, আমাদের হিংস্র, উগ্র কিংবা অসভ্য হিসেবে পরিচিত হতে হয়। কিছু মানুষের কাজের দায় কেন একটি পুরো দেশের মানুষ বহন করবে? কেন সাধারণ বাংলাদেশিদের তার মূল্য দিতে হবে, দেশের বাইরে সম্মান থেকে শুরু করে ভিসা কিংবা চলাচলের ক্ষেত্রেও?’ বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে সাফা বলেন, ‘বাঁধন আপুর সঙ্গে যা ঘটেছে, তাতে গভীরভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। আমি চাই, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক এবং তিনি ন্যায়বিচার পান।’ তবে এমন ঘটনা কয়েক দিনের আলোচনা-সমালোচনার পর যেন হারিয়ে না যায়, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। সাফার ভাষায়, ‘তবে একই সঙ্গে ভয়ও হয়, এই ঘটনাটিও কি কয়েক দিনের খবর হয়ে থাকবে? কিছু আলোচনা, কিছু প্রতিবাদ, কিছু সংবাদ, তারপর নতুন কোনো ঘটনার নিচে চাপা পড়ে যাবে?’ সবশেষে বিষয়টি শুধু একজন শিল্পীর নিরাপত্তার প্রশ্ন নয় বলেও মন্তব্য করেন সাফা কবির। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা যেন ভুলে না যাই। কারণ একজন শিল্পীর নিরাপত্তা, সম্মান এবং স্বাধীনতার প্রশ্ন শুধু একজন শিল্পীর নয়, এটি আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ এবং আমাদের পরিচয়েরও প্রশ্ন। একজন শিল্পীর কণ্ঠ, সম্মান ও নিরাপত্তা কখনোই রাজনীতির মূল্য হওয়া উচিত নয়।’

বাঁধনের ওপর হামলা, ‘লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ’ সাফা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream