মার্কিন সেনাবাহিনীতে কমেছে যৌন নিপীড়ন
২০২৫ অর্থবছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ বা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কমেছে। সক্রিয় সামরিক সদস্যদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই যৌন নিপীড়নের হার কমেছে।২০২৩ সালে সক্রিয় নারী সদস্যদের মধ্যে যৌন নিপীড়নের আনুমানিক হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রে এ হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশ হয়েছে।মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকাশ করা ২০২৫ অর্থবছরের সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে ২০২৫ সালের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা জরিপের ফলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই জরিপের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীতে অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ, যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের মাত্রা নিরূপণ করা হয়।তবে যৌন নিপীড়নের ঘটনা কর্তৃপক্ষকে জানানোর হার বেড়েছে। ২০২৩ সালে আনুমানিক ২৫ শতাংশ ঘটনা সরকারি প্রক্রিয়ায় জানানো হয়েছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, বেশি সংখ্যক ঘটনা জানানো গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সদস্যরা চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও অন্যান্য পুনর্বাসনমূলক সেবা পাওয়ার সুযোগ পান। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হয়।মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনবল ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে. টাটা বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর মূল্যবোধ এবং প্রস্তুতির ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানি এসব মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সদস্যদের মধ্যে আস্থা কমায় এবং সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলে।তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২০ হাজার ৪৯২ জনের সংখ্যা সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যা নয়। জরিপের মাধ্যমে পাওয়া এই হিসাবের মধ্যে এমন ঘটনাও রয়েছে, যেগুলো সামরিক কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।সর্বশেষ প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নের প্রবণতা কমার তথ্য উঠে এলেও বিপুলসংখ্যক সদস্য এখনো এ ধরনের ঘটনার শিকার হওয়ায় বিষয়টি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি