১২০০ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নিলো বেরোবি ছাত্রশিবির
পারভেজ হাসান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:বর্ণাঢ্য আয়োজন ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ১ হাজার ২০০ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের গুঞ্জন মোড় এলাকার রূপকথা থিম পার্ক ও কনভেনশন হলে এ নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রত্যেক নবীন শিক্ষার্থীকে উপহার হিসেবে আল-কুরআন, ব্যাগ, কলম, চাবির রিং ও বই দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।বেরোবি শিবির সভাপতি রাকিব মুরাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ, রংপুর মহানগর সভাপতি আনিসুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদী।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নবীন শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা জিম বলেন, “অনুষ্ঠানে আসার আগে শিবির সম্পর্কে আমার মধ্যে ভয় ও নেতিবাচক ধারণা ছিল। তবে এখানে এসে তাদের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও কার্যক্রম দেখে সেই ধারণা বদলে গেছে। এখন মনে হচ্ছে, শিবির সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত অনেক ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।”অনুভূতি প্রকাশ করে আরেক নবীন শিক্ষার্থী জসিম মিয়া বলেন, “নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিবিরের পক্ষ থেকে আমাদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২২টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বই, ব্যাগ, চাবির রিং ও কুরআন দেওয়া হয়েছে। এটি সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।”ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ গুরুত্বপূর্ণ নয়; এমন ধারণা ভুল। সিজিপিএ অন্তত ৩.৫০-এর ওপরে রাখলে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় সুযোগের দরজা খোলা থাকে। অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজের কাছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও র্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুটির কোনোটিই বিশ্বের শীর্ষ এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই।”ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “আমরা রাজনীতির ধারা পাল্টে দিতে চাই। বাংলাদেশে কখনো চাঁদাবাজি করা ছাত্রদের কাজ হবে না।” তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য আইইএলটিএস কোর্স, হেলথ ক্যাম্প, উইন্টার ক্যাম্প, সাহিত্যচর্চা, রিসার্চ ওয়ার্কশপ ও জব শেয়ারের মতো বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।বেরোবি শিবির সভাপতি রাকিব মুরাদ বলেন, “নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ও ক্যারিয়ার সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তারা যেন পরিবারের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি চরিত্র ও মেধার বিকাশ ঘটিয়ে একটি সুন্দর, মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে; এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”