জিয়াউর রহমানের নামে হল করার বিষয়টি বিবেচনা করবে চবি প্রশাসন: চবি উপাচার্য
আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি হল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এটি একটি দর্শন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত এ দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য এবং রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা। এ দর্শনের মূল কথা হলো—কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে সুন্দর, সমৃদ্ধ ও গতিশীলভাবে এগিয়ে নিতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। মতভেদ, ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমান দূরে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি উপাচার্য হিসেবে সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান ও দর্শনের যথাযথ মূল্যায়ন করা দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই জাতি ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনাকে স্মরণ করেছে। ২০২৪ সালেও দেশের মানুষ যখন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে শঙ্কিত ছিল, তখন ৭ নভেম্বরের চেতনা নতুন করে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। দেশকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয় থেকেই এ চেতনাকে ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের কথা স্মরণ হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণে আসে। দেশের মানুষ, ছাত্র, জনতা ও সৈনিক ঐক্যবদ্ধ হলে বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটে।উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সাধারণ সৈনিক ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মত ও পথের অনুসারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রতিষ্ঠা ছিল অন্যতম।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর, শাহজালাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জহুরুল আলম, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক ও ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী, চবি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু নছর মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ, চবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, সহসভাপতি আহসান হাবিব, চবি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ছবুর, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পক্ষে মো. ওসমান গণী এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পক্ষে আবদুল মালেক।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক, শিক্ষক, প্রক্টর, প্রশাসক, সহকারী প্রক্টর, শিক্ষার্থী, দপ্তরপ্রধান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।