বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
২৫০ শয্যার মাগুরা হাসপাতালে রোগী ছাড়িয়েছে ৭০০, মেঝেতেও ঠাঁই নেই

২৫০ শয্যার মাগুরা হাসপাতালে রোগী ছাড়িয়েছে ৭০০, মেঝেতেও ঠাঁই নেই

মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন গুণে। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এর সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, ডেঙ্গু, হাম, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন শিশু এবং ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। নির্ধারিত শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মেঝেতেও জায়গার সংকট তৈরি হওয়ায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অসুস্থ শিশুদের কান্না, স্বজনদের উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে হাসপাতালজুড়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডগুলোতে গরমের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের কষ্ট বাড়ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা জানান, শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। কোনো কোনো রোগীকে একাধিক তলায় ঘুরে মেঝেতে জায়গা খুঁজতে হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা পেলেও শয্যাসংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাঁদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রোগীর স্বজন তানিয়া খাতুন বলেন, 'এত গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না। শিশুদের নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। তারপরও কিছু করার নেই। বাচ্চাকে সুস্থ করতে হলে এই কষ্ট মেনে নিয়েই থাকতে হচ্ছে।' মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মহোসিন উদ্দীন ফকির বলেন, হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে ২৫০টি। কিন্তু বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৭০০ জনেরও বেশি। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় প্রায় তিন গুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরপরও রোগীদের শতভাগ সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ

হত্যা মামলার আসামি পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনতাই, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

মাগুরার মহম্মদপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা আহাদ-সুমন হত্যা মামলার এক আসামিকে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার ধোয়াইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ছিনিয়ে নেওয়া ওই আসামির নাম উজ্জ্বল আক্তার কাফুর। তিনি সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান এবং একসময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজ্জ্বল আক্তার কাফুর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা আহাদ-সুমন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। বুধবার বিকেলে ধোয়াইল বাজারের একটি ঘরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে তিনি গোপন বৈঠক করছিলেন বলে পুলিশের কাছে খবর আসে।খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানার ওসি এম শামীম আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিকেল ৫টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও পুলিশ উজ্জ্বল আক্তার কাফুরকে আটক করে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আটকের পর কাফুরকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হলে আরিফুজ্জামান মিল্টনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটে এবং আটক কাফুরকে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক রেজা লেনিন, ছাত্রদল নেতা আবু আম্মান ইউসুফ এবং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মশিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।ঘটনার বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টনের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের সমর্থন পাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। এ দাবির স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।মহম্মদপুর থানার ওসি এম শামীম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।পুলিশ সূত্রের দাবি, একই গোষ্ঠীর কয়েকজনের বিরুদ্ধে এর আগেও পুলিশের কাজে বাধা, সড়কে আগুন জ্বালিয়ে পুলিশের গাড়ি থেকে আকাশ নামে এক যুবককে ছিনিয়ে নেওয়া এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

হত্যা মামলার আসামি পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনতাই, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream