মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট আজ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্পের দল

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট আজ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্পের দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। আজ মঙ্গলবারের ভোটে নির্ধারিত হবে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।সর্বশেষ জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সিনেটেও দলটির অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা শক্ত হয়েছে।নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় অর্থনীতি ও নিত্যপণ্যের দাম। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাবার, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলসহ দৈনন্দিন খরচ এখনো অনেক বেশি। রেস্তোরাঁয় খাবার খেতেও আগের চেয়ে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।এ কারণে অনেক ভোটার ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে পণ্যের দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক চাপ এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষের বিপরীতে দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে ইতিবাচক চিত্রও রয়েছে। বেকারত্বের হার এখনো ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে। কর্মসংস্থানে যুক্ত মানুষের সংখ্যাও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ শেয়ারবাজারের উত্থানেও ভূমিকা রেখেছে। এতে অনেক মার্কিন নাগরিকের অবসরকালীন সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়েছে। তবে অর্থনীতির এসব ইতিবাচক সূচক ভোটারদের অসন্তোষ দূর করতে পারছে না। কয়েক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার কমলেও পণ্য ও সেবার দাম এখনো অনেক বেশি। ফলে দৈনন্দিন ব্যয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে সাধারণ পরিবারগুলোকে। জরিপেও উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে অর্থনীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মনোভাবের অবনতি হয়েছে। ট্রাম্প নিজে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও ভোটের মাঠে তাঁর অর্থনৈতিক নীতি ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ড বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে এ নিয়ে বিরক্তি ও হতাশা রয়েছে। কংগ্রেস ধরে রাখতে শেষ মুহূর্তের লড়াই নির্বাচনের আগের দিন সোমবারও প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতারা। জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারে রিপাবলিকানদের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটারদের সমর্থন আদায় করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। ওয়াশিংটনের লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল এলাকায় প্রচার চালান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীকে নতুনভাবে সাজানোর উচ্চাভিলাষী ও বিতর্কিত পরিকল্পনার কারণে স্থানটির সঙ্গে তাঁর বিশেষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তৈরি হয়েছে। এর আগে রোববার ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমরা জিততে যাচ্ছি।’ ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দলটি ক্ষমতায় এলে সাধারণ পরিবারগুলোকে দেউলিয়া করে দেবে। অন্যদিকে, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতারাও। টেক্সাসে দলটির আলোচিত সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকো এবং কানসাসের প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। দুই দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বৈরিতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের নির্বাচনী প্রচার। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা প্রবল। অন্যদিকে, বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলেও ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়বে। কারণ, কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ পাবে বিরোধী দল। এর ফলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি এবং প্রশাসনের অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি হবে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় না থাকলে ট্রাম্পকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। মূল্যস্ফীতির চাপ, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অচলাবস্থা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্ত—সব মিলিয়ে তাঁর প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছর কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সিনেটের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাত অঙ্গরাজ্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের অধিকাংশেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। জরিপ অনুযায়ী, টেক্সাস ও কানসাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ঐতিহাসিকভাবে এই দুই অঙ্গরাজ্যে দলটির সিনেট নির্বাচনে সাফল্যও বিরল। টেক্সাসে সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে এবং কানসাসে ১৯৩২ সালে ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের বর্তমান আসনগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসনে জয় পেতে হবে। এ সমীকরণকে শুরুতে কঠিন মনে করা হলেও সাম্প্রতিক জরিপে পরিস্থিতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। কানসাস, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আলাস্কায় তাদের ব্যবধান সামান্য। অন্যদিকে, আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা মিশিগানেও দলটির প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ প্রায় দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিশিগানের জরিপটি করা হয়েছিল দলটির অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে আসার আগে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণার পর পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ মার্কিন বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের দিন সরাসরি ভোটসংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপের আগ্রহ দেখিয়ে কয়েক দশকের প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় ঘটিয়েছে বিভাগটি। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিলের আবেদন জানিয়েছে বিচার বিভাগ। তাদের অভিযোগ, এসব ভোটারের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। ফলে তাঁদের ভোট দেওয়ার আইনগত অধিকার নেই। এ ঘটনায় চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও চেয়েছে বিভাগটি। তবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত করার এখতিয়ার বিচার বিভাগের নেই বলেও যুক্তি দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। এদিকে, আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সালিভানের সঙ্গে একই নামের একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ওই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফৌজদারি তদন্ত জোরদার করেছে বিচার বিভাগ। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট নেত্রীর অবস্থান পরিবর্তনে চাঞ্চল্য মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। দলীয় প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গত শনিবার রাত পর্যন্তও এমন সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা ছিল অনেকের কাছে অকল্পনীয়। এর আগে এল-সায়েদের বক্তব্যের প্রশংসা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন স্টিভেন্স। প্রাইমারি নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন তুলে নিতে পারেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তিনি বারবার তা নাকচ করেছিলেন। এমনকি গত সপ্তাহে তাঁর কয়েকজন সহযোগী রজার্সকে সমর্থন না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে যোগাযোগ করেন। তাঁদের একজনকে খুদে বার্তায় স্টিভেন্স লিখেছিলেন, ‘আপনারা কেন ভাবছেন যে আমি এমনটা করব?’ গত শনিবার মধ্যরাতেও নিজের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মিত্রকে তিনি জানিয়েছিলেন, এল-সায়েদের প্রতিই তাঁর সমর্থন বহাল থাকবে। কিন্তু পরদিন সকালে অবস্থান পাল্টে ফেলেন এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী। সাংবাদিকদের কাছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানিয়ে রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। স্টিভেন্সের আকস্মিক এই অবস্থান পরিবর্তন মিশিগানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সমর্থন রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সের পক্ষে ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream