শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ছিনতাইকারী সন্দেহে ২ পুলিশ সদস্য ও সোর্সকে তুলে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

ছিনতাইকারী সন্দেহে ২ পুলিশ সদস্য ও সোর্সকে তুলে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির সময় ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্যসহ তিন জনকে ক্যাম্পাসে ধরে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ বৈঠকের পর বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।  মারধরের শিকার তিনজন হলেন- কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হানিফ, কনস্টেবল শ্যামল ও পুলিশ সোর্স জাহিদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিউশন শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম ও তার বন্ধু অর্পের পথরোধ করেন তিন ব্যক্তি। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা পরিচয় জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে তারা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে ছিনতাইকারী সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। বাস থেকে নামানোর পর তাদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে তিনজনকে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করা হলে এএসআই হানিফ, কনস্টেবল শ্যামল ও পুলিশ সোর্স জাহিদের পরিচয় শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে প্রক্টর অফিসে কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস তাদের পরিচয় পুলিশ সদস্য হিসেবে নিশ্চিত করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি মীমাংসা করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম বলেন, আমি আর আমার বন্ধু অর্প হাঁটছিলাম। অর্প একটু সামনে ছিল। হঠাৎ একজন এসে অর্পের বুকে হাত দিয়ে বলেন, ‘আমরা পুলিশ, আপনাদের চেক করব।’ বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অর্পের পকেটে হাত দেন। পরে তারা আমাদের পরিচয় ও কোথায় থাকি জানতে চান। আমরা নিজেদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখানোর প্রস্তাব দিই। তখন কালো টি-শার্ট পরা আরেকজন পেছন থেকে আমার কলার টেনে ধরে বলেন, তারাও পুলিশ। তিনি আরও বলেন, তাদের আইডি কার্ড দেখাতে বললে তারা তা না দেখিয়ে বারবার হ্যান্ডকাফ দেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একজন স্থানীয় ব্যক্তি এসে বলেন, পুলিশ হলেও এভাবে আচরণ করা উচিত নয়। পরে আমি তাদের পাশে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে গিয়ে তল্লাশি করার কথা বলি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস এলে তাদের ওই বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, এখানে উভয় পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল। পুলিশ সদস্যরাও তাদের পরিচয় দিতে চাননি। তাদের কাছে আইডি কার্ড ছিল না। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদেরও ভুল ছিল। তারা যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অথবা আমাদের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানাতেন, তাহলে ভালো হতো। তা না করে জোরপূর্বক তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা উচিত হয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আমরা একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছেছি। উভয় পক্ষই সেটি মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিতভাবে সমঝোতা সম্পন্ন হয় বলে তিনি জানান। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তাদের প্রক্টর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream