ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রোগীর ভিড়, ১৫ দিনেই ৬৭ মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক:ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখার ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যেই এক দিনে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগস্ট মাসের পুরো মাসের মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গেছে।সংক্রমণের চিত্র ও মৃত্যুর মিছিলস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জন।চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ হাজার চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৭১ জন, দক্ষিণ সিটিতে ১৩২ জন এবং ঢাকা বিভাগে ৩৮৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকার বাইরে খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালেও রোগীর চাপ লাগাতার বাড়ছে।হাসপাতালের সংকট ও চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিতরাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৬০টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে সম্প্রতি ১৮৭ জন রোগী ভর্তি থাকতে দেখা গেছে। শয্যাসংকট এতটাই তীব্র যে, বাধ্য হয়ে রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরেও সিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মেঝেতে রেখে প্রিয়জনের চিকিৎসা করাচ্ছেন স্বজনরা। চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত কাজের চাপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কাকীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার সতর্ক করে জানিয়েছেন, তাদের পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি জানান, এডিস মশা এখন শুধু দিনে নয়, রাতেও কামড়াতে পারে। তাই মশার আচরণ ও প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ নয়। তবে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে (উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে) চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে।