বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
‘পরামর্শ শুনলে এমন হতো না’, ম্যাক্রোঁকে বললেন ট্রাম্প

‘পরামর্শ শুনলে এমন হতো না’, ম্যাক্রোঁকে বললেন ট্রাম্প

ফ্রান্সে চলমান সহিংসতা ও দাঙ্গার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, অভিবাসন নিয়ে দেওয়া নিজের পরামর্শ মেনে চললে ফ্রান্সে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, প্যারিস দ্রুত একটি মুসলিম শহরে পরিণত হচ্ছে, যা হওয়ার কথা ছিল না। তার অভিযোগ, বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী ফ্রান্সে প্রবেশ করায় রাজধানী প্যারিসের জনসংখ্যার গঠনে বড় পরিবর্তন এসেছে।ম্যাক্রোঁকে নিজের বন্ধু উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি আগেই ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষকে অবাধে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া ফ্রান্সের জন্য বড় ভুল হতে পারে। তার মতে, সেই সিদ্ধান্তের কারণেই দেশটিতে বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সে কয়েক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষকসংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবনতিশীল অবকাঠামো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অস্বচ্ছ পদ্ধতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। তাদের দাবির মধ্যে ছিল পণ্যমূল্য কমানো, পেনশন বৃদ্ধি ও মজুরি বাড়ানো। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক নানা অসন্তোষের কারণে বিক্ষোভের পরিধি আরও বাড়তে থাকে। শনিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও বিভিন্ন স্থানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে একটি ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে পুড়ে যায় এবং ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে রাতের বেলায় কারফিউ জারি করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে প্যারিসের কিছু এলাকাও রয়েছে। সূত্র: আল- জাজিরা, ইন্ডিয়া টুডে, সিএনএন

ইরানে হামলা চালাবেন কি চালাবেন না, টানাপড়েনে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ইরানের ফের বড় ধরনের হামলা চালানো নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার সম্ভাব্যতা নিয়ে দুই নেতা সম্প্রতি নিবিড় আলোচনা ও পরামর্শ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সাথে এক ফোনালাপে নেতানিয়াহু তেহরানের কথিত পারমাণবিক অস্ত্র পুনর্গঠনের উদ্বেগজনক ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রতিবেদন ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যুক্তি দেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুনর্গঠনের চক্রান্ত নস্যাৎ করতে নতুন করে বোমাবর্ষণ শুরু করাকে মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বিশেষ করে, ইরান তাদের পিক্সঅ্যাক্স মাউন্টেন নামক স্থানটিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় সক্রিয় বা ব্যবহার করতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানান, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন অংশ পুনর্গঠনে অত্যন্ত উদ্বেগজনক কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিভাগেও এই প্রস্তাবের পক্ষে সায় রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের শীর্ষ নেতৃত্ব নেতানিয়াহুর এই আগাম সামরিক অভিযানের প্রস্তাব সমর্থন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে ট্রাম্পের অন্যান্য উপদেষ্টাদের অধিকাংশের মত সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা মনে করেন, এই মুহূর্তে সামরিক হামলার পথ এড়িয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখাটাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশি যুক্তিযুক্ত। শুরুর দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সাথে সুর মিলিয়ে ফের হামলা শুরুর দিকে ঝুঁকলেও নিজের মূল উপদেষ্টা দলের সাথে সার্বিক পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছিয়ে যান এবং দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ট্রাম্প নিজেই গণমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি কোনোভাবেই ইরানে হামলা চালাবেন না। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক মুখে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে তা রাজনৈতিকভাবে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য ভিন্ন ফল বয়ে আনবে। আগামী ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনে নেতানিয়াহু এই সামরিক পদক্ষেপকে নিজের পক্ষে বড় এক রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরায়েল হামলা চালালে ইরানও পাল্টা প্রতিশোধমূলক আক্রমণ করবে, যার ফলে দেশটির নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, এর এক সপ্তাহ পর ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। যুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকার সাধারণ ভোটাররা একটি অপ্রিয় সংঘাতের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত হতে দেখবে এবং এর জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে, যা নির্বাচনী ফলাফলে ট্রাম্পকে বেশ ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে। সূত্র: এনডিটিভি বিডি প্রতিদিন/এনএইচ

ইরানে হামলা চালাবেন কি চালাবেন না, টানাপড়েনে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প

রুশ জ্বালানি নিয়ে আবারও অবস্থান বদল, নতুন ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি খাত নিয়ে আবারও অবস্থান বদলেছেন। তিনি বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো ও দেশে দাম নিয়ন্ত্রণের চাপে রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কয়েক দিন পরই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অবিলম্বে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার ট্রাম্প জানান, দুই দেশ একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এ ধরনের সমঝোতার বিষয়ে তিনি আগে থেকে জানতেন না। ফলে যুদ্ধবিরতির শর্ত ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবারও জেলেনস্কি দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলায় তেল ও ডিজেলের বাজারে চাপ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে জ্বালানির দাম কমাতে না পারলে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। কী এই ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন অবিলম্বে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত জানাননি তিনি। সোমবার ওয়ারশতে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কী শর্তে সমঝোতা হয়েছে, তা জানতে তারা অপেক্ষা করছেন। রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা, এমনকি খারকিভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জেলেনস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে রাশিয়াকে সমঝোতা মানতে বাধ্য করলে এটি যুদ্ধ অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অধ্যয়নের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালেক্সি মুরাভিয়েভ সমঝোতার আওতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, চুক্তিটি যদি শুধু তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা অসম পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কারণ, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের তেল শোধনাগারের সক্ষমতা আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের চাপ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৩ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম প্রায় ৯১ ডলারে নেমে আসে। তবে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর সঙ্গে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলায় ডিজেল সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। পরিবহন, কৃষি ও পণ্য উৎপাদনে ডিজেল অপরিহার্য হওয়ায় এর দাম বাড়লে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে জি-৭ জোট জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসান্না স্ট্রিটার বলেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা সরবরাহ কমিয়ে পরিবহন, কৃষি ও ব্যবসার ব্যয় বাড়াচ্ছে। প্রকৃত যুদ্ধবিরতি সরবরাহ সুরক্ষিত করতে এবং দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে জেলেনস্কির অজ্ঞাতসারে ঘোষিত সমঝোতাকে এখনই বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলার সুযোগ নেই। নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড়: কেন বদলাচ্ছেন ট্রাম্প ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর রুশ জ্বালানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কয়েকবার বদলেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ওই বছরের মার্চে রুশ জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করে এবং জি-৭-এর সঙ্গে রুশ তেলের ওপর মূল্যসীমা আরোপে সমর্থন দেয়। লক্ষ্য ছিল, বিশ্ববাজারে সরবরাহ বজায় রেখেও মস্কোর আয় কমানো। ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন। পরে রুশ জ্বালানি খাতের দুই বড় প্রতিষ্ঠান রসনেফট ও লুকঅয়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের পর চলতি বছরের মার্চে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়া হয়, যাতে ভারত সমুদ্রে থাকা রুশ তেল কিনতে পারে। পরে ট্যাংকারে তোলা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত রুশ তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য কেনার সুযোগও বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। সর্বশেষ ৯ অক্টোবর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে; পরে আরও ১৫ লাখ টন দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখা এবং দেশে জ্বালানির দাম কমানো- দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জনের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানো তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লক্ষ্য। মুরাভিয়েভের ধারণা, রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের আলোচনা ট্রাম্পের ঘোষণার অনেক আগেই এগিয়ে থাকতে পারে। নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগ তুলে ধরে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে। পুতিনেরও স্বার্থ রয়েছে রাশিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা শুধু অর্থনৈতিক লাভের বিষয় নয়। ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন এবং যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থতার জন্য তাকে দায়ী করেছেন। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা বজায় রেখে মস্কো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। ব্যবসা ও বিনিয়োগে প্রভাব রুশ ডিজেলের সরবরাহ বাড়লে পরিবহন প্রতিষ্ঠান, কৃষক ও উৎপাদনকারীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহসংকট অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব সীমিত হবে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন জ্বালানি সংগ্রহ, সরবরাহব্যবস্থার পরিকল্পনা এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করছে দুটি বিষয়ের ওপর- রুশ জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কতটা কমানো যায় এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সত্যিই জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করে কি না। সমঝোতা বাস্তবায়িত না হলে তার ঘোষণার কূটনৈতিক সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে। সূত্র: আল-জাজিরা

রুশ জ্বালানি নিয়ে আবারও অবস্থান বদল, নতুন ঘোষণা ট্রাম্পের

সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন দাবি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।অন্যদিকে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে প্রায় সরে এসেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে ওহাইও যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ দাবি করেন।রোববার আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তবে ট্রাম্পের দাবি, তেহরান এখন সেই পরিকল্পনা থেকে প্রায় সরে এসেছে। তবে ইরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছে, তাদের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি থেকে কোনোভাবেই সরে যাবে না। এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে তেলের দাম কমছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই তেলের দাম তুলনামূলকভাবে বেশ উঁচুতে ছিল। ট্রাম্প বলেন, ‌‘তেলের দাম কমছে। এই মুহূর্তে তেলের দাম কম এবং বাইডেন প্রশাসনের সময়ের তুলনায়ও এখন তা কম। অথচ ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা কিছুই করেনি।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয়—আপনারা জানেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব পরিকল্পনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে।’ আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার সৌদির আরামকোর একটি শোধনাগার থেকে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। পরে সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন দমকলকর্মীরা। তবে আগুন লাগার কারণ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, হামলায় লক্ষ্যবস্তু স্থাপনাগুলোতে আগুন ধরে যায়। ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায়, বিশেষ করে রাজধানী সানায় সৌদি বিমান হামলার জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।  সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি

সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন দাবি

সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্র সফরটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা দেওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এমনকি নিউইয়র্ক থেকে সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল তার। সরকারি সূত্রগুলো জানায়, নিউইয়র্কে সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের তালিকাও ছোট। অতীতের সরকারগুলোর তুলনায় ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সংক্ষিপ্ত সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নিউইয়র্কে অবস্থানের সময় জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠক, বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠকের মধ্যে রয়েছে উন্নয়ন, মহামারি প্রতিরোধ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ। পাশাপাশি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যাসহ একাধিক আলোচনার আয়োজন করছে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে। নিউইয়র্ক থেকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্ভাব্য যেসব দেশের নেতাদের বৈঠক হতে পারে, সে তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচ ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদ। এছাড়াও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব‍্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে।  সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানা গেছে।  

সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ডাকভোট নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সুপ্রিম কোর্টের বাধা

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বড় ধাক্কা দিয়েছেন। বিতর্কিত এ পরিকল্পনা স্থগিত রাখার আদেশ প্রত্যাহারে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এ রায়ে সুপ্রিম কোর্টের নয় সদস্যের বেঞ্চের ছয় রক্ষণশীল বিচারপতির মধ্যে দুজন ভিন্নমত পোষণ করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে একমত হয়ে দেওয়া পৃথক রায়ে বিচারপতি ব্রেট কাভানা বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি আইনসম্মত হতে পারে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তা বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত সময় নেই। ইতোমধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। ফলে নির্বাচনের ঠিক আগে ডাকযোগে ভোটের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলে তা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। গত মার্চে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। সে সময় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি করেন। আদেশটি জারির পরপরই এর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ আসে। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে রয়েছে, ফেডারেল সরকারের হাতে নয়। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের বিধিনিষেধ কার্যকর করার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: এএফপি

ডাকভোট নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সুপ্রিম কোর্টের বাধা

রুশ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে আক্রমণ বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে অনুরোধ করেছেন। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ড সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়াকে নিয়ে আমার মূল সমস্যা হলো বিশ্ববাজারের সিংহভাগ ডিজেল আসে রাশিয়া থেকে, আর সেই রাশিয়ার প্ল্যান্টগুলোতেই হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ডিজেল প্ল্যান্ট ও শোধনাগারগুলোতে হামলা না করার জন্য অনুরোধ করেছি।’ রাশিয়া থেকে ডিজেল বাজারে আনা কঠিন হয়ে পড়ায় এর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেন, এই পরিস্থিতি সমগ্র বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এটি এখনই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

রুশ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের বার্তা

নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধের ইতি চান ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে  নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ফের হামলার হুমকি দিয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হবে বলে তার ধারণা। ইরান আর বেশি সময় ধরে টিকে থাকতে পারবে না এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য দেশটি মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের বিপরীতে হোয়াইট হাউজের শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টা ভিন্ন আশঙ্কা করছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত তার বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্তও চলতে পারে। ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে। এর আগে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সেসব সময়সীমার কোনোটিই স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ফের হামলার হুমকি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়েও নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত এই এলাকায় ভূগর্ভে গভীরভাবে নির্মিত দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে। রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স এলাকায় কিছু তৎপরতা তার নজরে এসেছে। ইরানকে কোনো ধরনের চালাকি না করার সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাবে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকেই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। সৌদি আরবেও বাড়ছে উত্তেজনা হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক হুথি হামলায় খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণ সৌদি আরবের চারটি শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হুথিরা দাবি করেছে, তারা খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের শহরগুলোর তেল অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ জরুরি সতর্কতার পর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।  

নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধের ইতি চান ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মস্কোতে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা এমন একটি সময়ে রাশিয়া গেছেন, যার ঠিক এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে সিআইএর প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ ‘বিরল এক সফরে’ মস্কো যান। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি। রাশিয়ার সাথে বৈঠক শেষে রোববার কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দলটির। গত শনিবার ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রুশ প্রেসিডেন্টকে মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। পুতিনকে সেসময় বলতে শোনা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি ‘খুব একটা সহজ নয়’। তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইউক্রেনের সাথে রাজি হওয়ায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উইটকফ। পুতেনের সাথে দেখা করার পর রোববার মার্কিন প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা কিয়েভে যাবেন। যুদ্ধ অবসানে আলোচনার জন্য ইউক্রেনের রাজধানীতে এটিই তাদের প্রথম সফর। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সবশেষ গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, উইটকফ ও কুশনার ‘যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসছেন।’ গত শনিবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় পুতিন বলেছেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন, এ ধরনের যোগাযোগ নিঃসন্দেহে সবসময়ই উপকারী।’ তিনি শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে কাজ করতে ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন’ বলেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে আমরা অবশ্যই বেশ উচ্চমাত্রায় আস্থা রাখছি।’ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে এবং দু’পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে কি-না, সেবিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ওই বৈঠককে ‘গঠনমূলক এবং অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ইউরি উশাকভ বলেন, ‘আলোচনা শুধু ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানের বিষয়ে মতবিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য বড় ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্পগুলো নিয়েও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।’ ‘যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতির বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, চলমান ওই সঙ্ঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের জন্য আরো আলোচনায় প্রয়োজন রয়েছে। কিয়েভসহ ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও এই যুদ্ধের বেশিভাগ সময় জুড়ে রুশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত ধীর গতিতে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। এতে তারা ব্যাপক হতাহতের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে রাশিয়া। গত শনিবার পুতিনের সাথে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বৈঠকের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, তিনি ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের দূতদের সাথে কথা বলেছেন। মস্কোর সাথে বৈঠক শেষে রোববার একই ইস্যুতে কিয়েভের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদের। জেলেনস্কি বলেন, ‘স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি এবং একটি ফলপ্রসু আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি।’ বৈঠক চলাকালে, অর্থাৎ গত শনিবার থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত রাশিয়া এবং ইউক্রেন একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতোমধ্যেই তিন দিনের জন্য কিয়েভে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে রুশ গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে পুতিন জানিয়েছেন, কিয়েভের বাইরে ইউক্রেনের অণ্য অঞ্চলের জন্য সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতির নির্দেশনা কার্যকর হবে না। যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং মধ্যস্থতাকারী মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ট্রাম্পের দূত কুশনার এবং উইটকফ এর আগেও বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করেছেন। তবে রোববার তারা প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে আলোচনা করতে যাচ্ছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় মস্কো থেকে মার্কিন প্রতিনিধিরা কিভাবে কিয়েভে যাবেন, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত শনিবারের বৈঠকের আগে রাশিয়া রাতভর কিয়েভ ও বোরিসপিলের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং রাশিয়া আলাদাভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করতে একটি শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররাও প্যারিসে আলোচনায় বসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি ছাড়াই সেটি শেষ হয়। গত কয়েক মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই পাল্টা-পাল্টি বিমান হামলা আরো জোরদার করেছে। এর মধ্যেই রাশিয়া তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এতো বেশি বৃদ্ধি করেছে যে, প্রতিহত করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। তারপরও তারা রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream