বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন দাবি

সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন দাবি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।অন্যদিকে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে প্রায় সরে এসেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে ওহাইও যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ দাবি করেন।রোববার আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তবে ট্রাম্পের দাবি, তেহরান এখন সেই পরিকল্পনা থেকে প্রায় সরে এসেছে। তবে ইরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছে, তাদের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি থেকে কোনোভাবেই সরে যাবে না। এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে তেলের দাম কমছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই তেলের দাম তুলনামূলকভাবে বেশ উঁচুতে ছিল। ট্রাম্প বলেন, ‌‘তেলের দাম কমছে। এই মুহূর্তে তেলের দাম কম এবং বাইডেন প্রশাসনের সময়ের তুলনায়ও এখন তা কম। অথচ ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা কিছুই করেনি।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয়—আপনারা জানেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব পরিকল্পনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে।’ আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার সৌদির আরামকোর একটি শোধনাগার থেকে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। পরে সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন দমকলকর্মীরা। তবে আগুন লাগার কারণ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, হামলায় লক্ষ্যবস্তু স্থাপনাগুলোতে আগুন ধরে যায়। ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায়, বিশেষ করে রাজধানী সানায় সৌদি বিমান হামলার জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।  সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি

সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্র সফরটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা দেওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এমনকি নিউইয়র্ক থেকে সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল তার। সরকারি সূত্রগুলো জানায়, নিউইয়র্কে সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের তালিকাও ছোট। অতীতের সরকারগুলোর তুলনায় ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সংক্ষিপ্ত সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নিউইয়র্কে অবস্থানের সময় জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠক, বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠকের মধ্যে রয়েছে উন্নয়ন, মহামারি প্রতিরোধ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ। পাশাপাশি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যাসহ একাধিক আলোচনার আয়োজন করছে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে। নিউইয়র্ক থেকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্ভাব্য যেসব দেশের নেতাদের বৈঠক হতে পারে, সে তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচ ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদ। এছাড়াও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব‍্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে।  সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানা গেছে।  

সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ডাকভোট নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সুপ্রিম কোর্টের বাধা

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বড় ধাক্কা দিয়েছেন। বিতর্কিত এ পরিকল্পনা স্থগিত রাখার আদেশ প্রত্যাহারে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এ রায়ে সুপ্রিম কোর্টের নয় সদস্যের বেঞ্চের ছয় রক্ষণশীল বিচারপতির মধ্যে দুজন ভিন্নমত পোষণ করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে একমত হয়ে দেওয়া পৃথক রায়ে বিচারপতি ব্রেট কাভানা বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি আইনসম্মত হতে পারে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তা বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত সময় নেই। ইতোমধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। ফলে নির্বাচনের ঠিক আগে ডাকযোগে ভোটের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলে তা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। গত মার্চে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। সে সময় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি করেন। আদেশটি জারির পরপরই এর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ আসে। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে রয়েছে, ফেডারেল সরকারের হাতে নয়। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের বিধিনিষেধ কার্যকর করার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: এএফপি

ডাকভোট নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সুপ্রিম কোর্টের বাধা

রুশ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে আক্রমণ বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে অনুরোধ করেছেন। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ড সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়াকে নিয়ে আমার মূল সমস্যা হলো বিশ্ববাজারের সিংহভাগ ডিজেল আসে রাশিয়া থেকে, আর সেই রাশিয়ার প্ল্যান্টগুলোতেই হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ডিজেল প্ল্যান্ট ও শোধনাগারগুলোতে হামলা না করার জন্য অনুরোধ করেছি।’ রাশিয়া থেকে ডিজেল বাজারে আনা কঠিন হয়ে পড়ায় এর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেন, এই পরিস্থিতি সমগ্র বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এটি এখনই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

রুশ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের বার্তা

নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধের ইতি চান ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে  নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ফের হামলার হুমকি দিয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হবে বলে তার ধারণা। ইরান আর বেশি সময় ধরে টিকে থাকতে পারবে না এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য দেশটি মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের বিপরীতে হোয়াইট হাউজের শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টা ভিন্ন আশঙ্কা করছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত তার বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্তও চলতে পারে। ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে। এর আগে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সেসব সময়সীমার কোনোটিই স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ফের হামলার হুমকি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়েও নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত এই এলাকায় ভূগর্ভে গভীরভাবে নির্মিত দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে। রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স এলাকায় কিছু তৎপরতা তার নজরে এসেছে। ইরানকে কোনো ধরনের চালাকি না করার সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাবে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকেই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। সৌদি আরবেও বাড়ছে উত্তেজনা হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক হুথি হামলায় খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণ সৌদি আরবের চারটি শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হুথিরা দাবি করেছে, তারা খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের শহরগুলোর তেল অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ জরুরি সতর্কতার পর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।  

নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধের ইতি চান ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মস্কোতে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা এমন একটি সময়ে রাশিয়া গেছেন, যার ঠিক এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে সিআইএর প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ ‘বিরল এক সফরে’ মস্কো যান। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি। রাশিয়ার সাথে বৈঠক শেষে রোববার কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দলটির। গত শনিবার ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রুশ প্রেসিডেন্টকে মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। পুতিনকে সেসময় বলতে শোনা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি ‘খুব একটা সহজ নয়’। তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইউক্রেনের সাথে রাজি হওয়ায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উইটকফ। পুতেনের সাথে দেখা করার পর রোববার মার্কিন প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা কিয়েভে যাবেন। যুদ্ধ অবসানে আলোচনার জন্য ইউক্রেনের রাজধানীতে এটিই তাদের প্রথম সফর। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সবশেষ গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, উইটকফ ও কুশনার ‘যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসছেন।’ গত শনিবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় পুতিন বলেছেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন, এ ধরনের যোগাযোগ নিঃসন্দেহে সবসময়ই উপকারী।’ তিনি শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে কাজ করতে ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন’ বলেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে আমরা অবশ্যই বেশ উচ্চমাত্রায় আস্থা রাখছি।’ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে এবং দু’পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে কি-না, সেবিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ওই বৈঠককে ‘গঠনমূলক এবং অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ইউরি উশাকভ বলেন, ‘আলোচনা শুধু ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানের বিষয়ে মতবিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য বড় ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্পগুলো নিয়েও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।’ ‘যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতির বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, চলমান ওই সঙ্ঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের জন্য আরো আলোচনায় প্রয়োজন রয়েছে। কিয়েভসহ ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও এই যুদ্ধের বেশিভাগ সময় জুড়ে রুশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত ধীর গতিতে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। এতে তারা ব্যাপক হতাহতের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে রাশিয়া। গত শনিবার পুতিনের সাথে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বৈঠকের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, তিনি ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের দূতদের সাথে কথা বলেছেন। মস্কোর সাথে বৈঠক শেষে রোববার একই ইস্যুতে কিয়েভের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদের। জেলেনস্কি বলেন, ‘স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি এবং একটি ফলপ্রসু আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি।’ বৈঠক চলাকালে, অর্থাৎ গত শনিবার থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত রাশিয়া এবং ইউক্রেন একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতোমধ্যেই তিন দিনের জন্য কিয়েভে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে রুশ গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে পুতিন জানিয়েছেন, কিয়েভের বাইরে ইউক্রেনের অণ্য অঞ্চলের জন্য সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতির নির্দেশনা কার্যকর হবে না। যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং মধ্যস্থতাকারী মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ট্রাম্পের দূত কুশনার এবং উইটকফ এর আগেও বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করেছেন। তবে রোববার তারা প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে আলোচনা করতে যাচ্ছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় মস্কো থেকে মার্কিন প্রতিনিধিরা কিভাবে কিয়েভে যাবেন, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত শনিবারের বৈঠকের আগে রাশিয়া রাতভর কিয়েভ ও বোরিসপিলের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং রাশিয়া আলাদাভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করতে একটি শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররাও প্যারিসে আলোচনায় বসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি ছাড়াই সেটি শেষ হয়। গত কয়েক মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই পাল্টা-পাল্টি বিমান হামলা আরো জোরদার করেছে। এর মধ্যেই রাশিয়া তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এতো বেশি বৃদ্ধি করেছে যে, প্রতিহত করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। তারপরও তারা রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream