রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ই-পার্লামেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন

ই-পার্লামেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রণীত ই-পার্লামেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের  সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের নির্দেশনায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিঞ্জ। কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মহাপরিচালক (বিএন্ডআইটি)। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে ইউএনডিপি প্রণীত ‘ই-জাতীয় সংসদ প্রকল্পের’ (ই-জেএসপি) উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা। প্রয়োজনে কমিটি আরও সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

সংরক্ষিত নারী আসন পেতে বিএনপির নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে কে সংসদ সদস্য হচ্ছেন, তা নিয়ে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসনটি পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেত্রীরা। জেলা পর্যায়ের নেত্রীরাও মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাননি, এমন অনেক নেত্রীও নতুন করে তৎপর হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ সরাসরি সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মিষ্টির পদত্যাগের পর তাঁরা নতুন করে সুযোগ দেখছেন।বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, দল এখন ক্ষমতায় থাকায় এই আসনে মনোনয়ন পেতে আগ্রহীর সংখ্যা বেশি। পরিচিত নেত্রীদের পাশাপাশি আরও অনেকে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন। এ জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও বাড়িয়েছেন তাঁরা।তবে শূন্য হওয়া এই আসনে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীদের পাশাপাশি মহিলা দলের নেত্রীরাও আসনটি নিয়ে আগ্রহী। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর রাজনৈতিক দায় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন মিষ্টি। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র দেন তিনি। তবে হামলা-ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। সংরক্ষিত নারী আসন থেকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করার কারণে একটি আসন শূন্য হয়ে গেছে। নিয়মানুযায়ী, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসন পায়। ফলে মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনটি বিএনপির ভাগের, দলটিই ঠিক করবে কে যাবেন সংসদে। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪-এর ২৭ ধারা অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হবে। সে হিসাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন এখনো তফসিল ঘোষণা করেনি। এবার বিএনপির মনোনয়নে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হন। গত ৩০ এপ্রিল তাঁদের নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশিত হয়। শপথ নেন ৩ মে। পাঁচ মাসের মধ্যে সংসদ সদস্য পদ ছাড়েন মিষ্টি। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিষ্টির শূন্য আসনের আলোচনায় আছেন দলটির সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। সংরক্ষিত নারী আসনে আগেও তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের স্ত্রী পাপিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক অনুষ্ঠানে যোগ্য নারীদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির উদারতার অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগ করে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হারুনুর রশিদ বিএনপির মনোনয়ন পেয়েও জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হেরে যান। তখন দলের ভেতর আলোচনা ছিল যে সংরক্ষিত আসনে হয়তো পাপিয়াকে সদস্য করা হবে। তবে আলোচিত দম্পতির দুজনই এখন সংসদের বাইরে। তাই এই দম্পতির অনুসারীরা পুনরায় আশা দেখছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আইনজীবী শাহানা আক্তার সানুও সংরক্ষিত নারী আসনের শূন্য পদ পেতে তৎপর। ফেনীর সোনাগাজীর এই নেত্রী ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন। এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য আয়শা সিদ্দিকা মনি। বাগেরহাটের রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী এর আগে সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ২০২৫ সালে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ আন্দোলনে নারীদের অবদানবিষয়ক বিএনপির কমিটিতেও তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিসও মনোনয়নপ্রত্যাশী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। স্বেচ্ছাসেবক দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের নেতৃত্বেও ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী শাহিনুর বেগম সাগরের নামও আলোচনায় রয়েছে। নোয়াখালীর এই নেত্রী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে স্বেচ্ছাসেবক দলের মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ফারহানা আতিকাও মিষ্টির এই আসনে আগ্রহী। সংগঠনটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিভিন্ন জেলায় মহিলা দলের সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন। বরিশাল মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়াসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদা আফরোজ হক সূচিও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন। গত নির্বাচনে তিনি নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। জেলা মহিলা দলের দায়িত্বের পাশাপাশি ওই এলাকায় দলীয় কর্মসূচি ও জনসংযোগে যুক্ত আছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নাচোলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন তিনি। দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাহেনা চৌধুরী হীরার নামও আলোচনায় আছে। ২০২২ সালের মে মাসে জেলা বিএনপির সম্মেলনে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। তিনটি সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৩৫ ভোট পান হীরা। প্রায় এক যুগ পর অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে জেলা নেতৃত্বে আসেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি রুনা লায়লাও আছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায়। বিএনপির দায়িত্বশীল একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, পদ একটা, দাবিদার এক ডজনের বেশি। দলের অঙ্গসংগঠনে যাঁরা দীর্ঘদিন সক্রিয় আছেন, তাঁরা বিবেচনার দাবি রাখেন। আবার দলের সমর্থক, সংসদে ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন যোগ্য নারীও আছেন। সব দিক বিবেচনা করেই একজনকে বেছে নেওয়া হবে। সবাইকে তো খুশি করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি এখনো তা প্রকাশ করেননি। ফলে এখন যত নাম আসছে, সবই আলোচনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সংরক্ষিত নারী আসন পেতে বিএনপির নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ

পিজি হাসপাতালের পরীক্ষায় আয়ের ওপর কমিশন, অডিটে ধরা

বিশেষজ্ঞরা লাভের ওপর কমিশন না নিয়ে আয়ের ওপর কমিশন নিয়েছেন বলে সরকারি অডিটে ধরা পড়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (সাবেক পিজি হাসপাতাল) পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এ ব্যাপারে বাড়তি টাকা আদায় করার নির্দেশনা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এসব কথা জানান কমিটির সভাপতি ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে সংবাদ ব্রিফিং করেন তিনি। প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আটটি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তাহের। তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু আপত্তিকে আমরা সেটেল ডাউন করেছি, আর কিছু কিছু আপত্তিকে আরও খতিয়ে দেখার জন্য কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটি করেছি। তাঁরা সরেজমিনে তদন্ত করবেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন। তার ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব। তদন্ত কমিটিতে কমিটির সদস্য ফজলে হুদা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও আছেন।’ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে সরকারের নিয়ম হচ্ছে লাভের ওপর ৩০ শতাংশ কমিশন বিশেষজ্ঞরা পাবেন। কিন্তু আমরা দেখলাম লাভের ওপর না নিয়ে তাঁরা আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কমিশন নিচ্ছেন।’ উদাহরণ হিসেবে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি বলেন, ‘১০০ টাকা আয়ে ব্যয় হয়েছে ৯০ টাকা। তাহলে তাঁরা কমিশন পাবেন ১০ টাকার ওপর। কিন্তু তাঁরা ১০ টাকার ওপর না নিয়ে ১০০ টাকার ওপর কমিশন নিয়ে গেছেন। বেশ কয়েক কোটি টাকা এ রকম আছে। আমরা খুব স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছি যে, এই টাকা যেকোনোভাবে আদায় করতে হবে। কারণ এটা স্পষ্ট অনিয়ম। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদায় করবে এবং কত আদায় হচ্ছে প্রতি মাসে কমিটিকে তারা প্রতিবেদন দেবে। একই সঙ্গে বর্তমানে নিয়ম অনুসারে কমিশন নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটার প্রতিবেদন প্রতি মাসে আমাদের কাছে পাঠাবে।’ তাহের বলেন, ‘এ কমিটির প্রধান কাজ হচ্ছে সরকারের বর্তমান এবং অতীতের যত ব্যয় হয়েছে এবং যেগুলোর ওপর অডিট আপত্তি আছে, সেগুলো এ কমিটিতে আলোচনা হবে। ব্যত্যয়গুলোকে আমরা চিহ্নিত করব এবং যদি কোনো দুর্নীতি থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সুপারিশ করতে পারি।’ সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটিকে কোয়াসি-জুডিশিয়াল (আধা-বিচার বিভাগীয়) কমিটিও বলা হয় উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে (কমিটি) অন দ্য স্পট একটা ডিসিশন (সিদ্ধান্ত) দেওয়ার এখতিয়ার রাখে। আমাদের দেশে ঠিক সেরকম হয়নি। তবে এখন থেকে যে সুপারিশগুলো যাবে যেকোনো মন্ত্রণালয়ের কাছে, সেটাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক। আমরা আশা করি, সেটা পাব। আমরা আশা করি, বাংলাদেশে যে দুর্নীতি চলছে, এই কমিটির মাধ্যমে কিছুটা হলেও দুর্নীতি রোধ করার জন্য চেষ্টা করব।’ অডিটে পুরোনো অনেক অডিট কেস সাবমিট করা হচ্ছে উল্লেখ করে তাহের বলেন, ‘আমরা অনেক অতীতে যেতে চাই না। আমরা ২০২৪-২৫ সালকেই অধিকতর টার্গেট করব। বর্তমান সরকারের সময়ের কিছু বিষয় অডিটে আনব আরও একটু সময় পরে, যেটাকে অডিট করার জন্য আমরা নির্দেশ দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অডিট করার জন্য চাচ্ছি। সেই হিসেবে সিএজিকে নির্দেশনা দিয়েছি যে, বড় বড় দুর্নীতি, অনিয়ম যেসব জায়গায় আছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা দেওয়ার জন্য। সেই তালিকা পেলে আমরা ওই বিষয়গুলো এজেন্ডা বানিয়ে তদন্ত করব।’ প্রথম বৈঠকে বিগত স্বৈরাচার আমলের অডিট নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তাহের। তিনি বলেন, ‘এরপর তো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল, এখন বর্তমান সরকার। এগুলো অডিট হবে, তারপর আমাদের কাছে আসবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, ‘এই সরকারেরও এক বছর পর থেকে যে সমস্ত অডিট দেবে, সেগুলো আমরা করব। সুতরাং ইন্টেরিম গভর্নমেন্টও আসবে, অতীতের যারা সরকার পরিচালনা করছে এখনো সেটেল হয়নি অডিট আপত্তি—সবগুলোর ব্যাপারে আমরা অ্যাড্রেস করব। আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস।’ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মাহাবুবুর রহমান, হাফিজ ইব্রাহীম, এসকে আজিজুল বারী, মনজুরুল ইসলাম, ফজলে হুদা, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, রুহুল আমিন।

পিজি হাসপাতালের পরীক্ষায় আয়ের ওপর কমিশন, অডিটে ধরা

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে স্বীকারোক্তি কোথায়- প্রশ্ন ডেপুটি স্পিকারের

প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে মানুষের দুর্ভোগের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের বক্তব্যে একই ধরনের স্বীকারোক্তি দেখা যায় না বলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল মন্তব্য করেছেন। জাতীয় সংসদে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালি-বিধির ৬৮ বিধির আলোচনা শেষে এ মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া নোটিশের ভিত্তিতে ওই আলোচনা হয়। তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে যাওয়া এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ছিল নোটিশে। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টদের জনগণের সামনে পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এই জিনিসটাকে অ্যাড্রেস করেন সাবমিসিভ ওয়েতে, অ্যাকনলেজ করেন, দুঃখ প্রকাশ করেন, মাননীয় মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি, তার লম্বা, এই কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়।’ তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় প্রতিমন্ত্রীকে আলোচনায় সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, ‘যেকোনো পাবলিক মিটিংয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে যখন কথা ওঠে, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখি অ্যাকনলেজ করে সাবমিসিভ ওয়েতে দুঃখ প্রকাশ করতে।’ কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘বাট আনফরচুনেটলি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মন্ত্রী যাঁরা থাকেন বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, সেই জিনিসটা সেইভাবে অ্যাড্রেস করেন না।’ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা হাম্বল রিকোয়েস্ট করব, জাতির সামনে যদি প্রকাশ করেন এবং ক্লিয়ার রাখেন, তাহলে ভালো হয় এই জিনিসটা।’ এরপর প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্যের ধরনে পার্থক্যের প্রসঙ্গ টেনে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এই জিনিসটাকে অ্যাড্রেস করেন সাবমিসিভ ওয়েতে, অ্যাকনলেজ করেন, দুঃখ প্রকাশ করেন, মাননীয় মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি, তার লম্বা, এই কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়।’ এরপর তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদের আলোচনা সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে স্বীকারোক্তি কোথায়- প্রশ্ন ডেপুটি স্পিকারের
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream