রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
সাজা বাতিল চেয়ে ইনুর আপিল

সাজা বাতিল চেয়ে ইনুর আপিল

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলটি দায়ের করা হয়েছে বলে আজ বুধবার জানিয়েছেন ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়। অভিযোগগুলোর সপক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তথ্য–উপাত্ত হাজির করতে পারেনি প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। অভিযোগগুলো ফৌজদারি আওতায় পড়ে না। এ সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করা হয়েছে। ইনুর বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চলতি বছরের ৩০ জুন রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২। মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগেই তাঁকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঘোষিত রায়ে ট্রাইব্যুনালটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছিলেন, তিনটি অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়েছে ১০ বছর করে, তাহলে ৩০ বছর হয়। কিন্তু এই সাজা যুগপৎ চলবে। অর্থাৎ সাজা হবে ১০ বছর। এদিকে ইনুর সাজা ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন। ৫ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ইইউর আপত্তি উপেক্ষা করে ম্লাদিচের শেষকৃত্য

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলগ্রেডের একটি সার্বিয়ান অর্থোডক্স গির্জায় যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বসনিয়ান সার্ব কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচের মরদেহ শেষ শ্রদ্ধার জন্য রাখা হয়। তাঁর শেষকৃত্যে পূর্ণ সামরিক মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে সার্বিয়া। সিএনএন জানিয়েছে, বেলগ্রেডের ছোট্ট সেন্ট লুক গির্জায় সকাল থেকেই হাজারো মানুষ জড়ো হন। অনেক সার্ব এখনো ম্লাদিচকে জাতীয় বীর হিসেবে বিবেচনা করেন। কফিনের ওপর রাখা ছিল তাঁর সামরিক টুপি ও তলোয়ার। পাশে সামরিক পোশাক পরা সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। সার্বিয়ার সরকারপন্থী গণমাধ্যম জানিয়েছে, ম্লাদিচকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হবে এবং সার্বিয়ান অর্থোডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক পোরফিরিয়ে শেষকৃত্যের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় নেতৃত্ব দেবেন। ম্লাদিচ ২৭ আগস্ট ৮৪ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে মারা যান। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের বসনিয়া যুদ্ধের সময় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। ২০১৭ সালে তাঁকে ১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই ঘটনায় ৮ হাজারের বেশি বসনিয়াক মুসলিম পুরুষ ও কিশোর নিহত হন। সারায়েভোর দীর্ঘ অবরোধসহ আরও বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধের সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়। জানা গেছে, পরিবারের উদ্যোগে ম্লাদিচের শেষকৃত্যের আয়োজন করা হলেও সার্বিয়া সরকার তাঁর মরদেহ দেশে আনতে বিমান পাঠায়। গত শনিবার দেশটির সেনাবাহিনীর একটি সরকারি স্থাপনাতেও তার প্রতি সামরিক শ্রদ্ধা জানানো হয়। ম্লাদিচকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর ঘটনায় ইইউ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের সম্প্রসারণ বিষয়ক কমিশনার মার্তা কোস সার্বিয়ায় তাঁর নির্ধারিত সফর বাতিল করে বলেছেন—ম্লাদিচের মৃত্যুকে ঘিরে যে মহিমান্বিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা ইইউ-এর মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ অবশ্য সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, সার্বরা কয়েক দশক ধরে নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার এবং সব ঘটনার জন্য তাঁদেরই দায়ী করা হয়। ১৯৯৫ সালে স্রেব্রেনিৎসায় জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নিরাপদ আশ্রয়’ দখল করে সার্ব বাহিনী। সেখানে পুরুষ ও কিশোরদের আলাদা করে হত্যা এবং তাদের মরদেহ গণকবরে পুঁতে ফেলা হয়। বসনিয়া যুদ্ধের পুরো সময় এক লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। সার্বিয়া এখনো স্রেব্রেনিৎসার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকার করে না। ম্লাদিচের মৃত্যুর পর তার সমর্থকেরা বেলগ্রেডে শোকসভা, দেয়ালচিত্র ও মশাল প্রজ্বলনের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করছে। এই ঘটনায় সার্বিয়ার ইইউ সদস্যপদ পাওয়ার প্রচেষ্টাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ইইউর আপত্তি উপেক্ষা করে ম্লাদিচের শেষকৃত্য

ক্যানসারের তহবিল চুরি করে বিলাসবহুল বিয়ে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশির কারাদণ্ড

তামিম চৌধুরী (২৯) নামের এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশিকে ক্যানসার গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি) আত্মসাতের দায়ে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের একটি আদালত। তিনি নিজের বিলাসবহুল বিয়ের খরচ মেটানো ছাড়াও ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ তহবিল চুরির এই অর্থ দিয়ে করেছিলেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিসে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিজের অপরাধ ও অর্থপাচারের অভিযোগ স্বীকার করার পর বিচারক এই রায় দেন। পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনির স্টোক নিউইংটন চার্চ স্ট্রিটের বাসিন্দা তামিম দাতব্য প্রতিষ্ঠান ব্রেস্ট ক্যানসার নাও-এর অর্থ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।  আদালতের শুনানিতে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ক্যান্সার গবেষণা বিষয়ক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান দ্য রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট-এর পক্ষ থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার নাও-কে প্রশাসনিক অনুদানের ৯১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৭২ পাউন্ড ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তামিম ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল প্যাড ব্যবহার করে রয়্যাল মার্সডেনকে পাঠানো এক ই-মেইলে অ্যাকাউন্টের জায়গায় জালিয়াতি করে নিজের স্যানটান্ডার ব্যাংকের বিবরণ দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট পুরো অর্থটি তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, মারাত্মক আর্থিক সংকটে থাকা তামিম পাওনাদারদের তাগাদায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। তবে ব্যাংকে টাকা ঢোকার পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি প্রায় ৪৯ হাজার ১০০ পাউন্ড খরচ করে ফেলেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি দেনা মেটানো, কাতার ভ্রমণের টিকিট, বিলাসবহুল কেনাকাটা, আত্মীয়দের টাকা পাঠানো এবং রাজকীয় বিয়ের আয়োজন ও বিদেশে মধুচন্দ্রিমার খরচ মেটান। হঠাৎ বিশাল অঙ্কের লেনদেনে সন্দেহ হলে স্যানটান্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করে অবশিষ্ট ৪২ হাজার ৮৬৬ দশমিক ২৫ পাউন্ড জব্দ করে। ব্রেস্ট ক্যানসার নাও-এর অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি অব লন্ডন পুলিশের বিশেষায়িত দল তদন্ত শুরু করে এবং ২০২৫ সালের জুনে তামিমকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা জানান, ক্যান্সারের জীবনরক্ষাকারী কাজের অর্থ আত্মসাৎ করে তামিম চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ব্রেস্ট ক্যানসার নাও জানিয়েছে, ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে পুরো অর্থই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির কোনও আর্থিক ক্ষতি হয়নি। এ ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।

ক্যানসারের তহবিল চুরি করে বিলাসবহুল বিয়ে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশির কারাদণ্ড
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream