মোহন ভাগবতের বার্তা মোদিরও শোনা উচিত: অভিজিৎ দীপকে
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত না করার আহ্বান জানানো ভাগবতের মন্তব্যকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।মুম্বাইয়ে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত বলেন, নতুন প্রজন্মকে রাষ্ট্রবিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তাদের সঙ্গে সংলাপ করতে হবে, তাদের ভাবনা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তারা দেশেরই মানুষ এবং ভবিষ্যতের নাগরিক।ভাগবতের এই বক্তব্যের একদিন পর বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ দীপকে বলেন, বক্তব্যটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—জেন জি বা নতুন প্রজন্মকে রাষ্ট্রবিরোধী বলা উচিত নয়। তার মতে, এটি শুধু সমাজের জন্য নয়, ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।দীপকে বলেন, মোহন ভাগবতকে বিজেপির আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে দেখা হয়। তাই তিনি আশা করেন, সংঘপ্রধানের এই বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি নেতৃত্বও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।তার ভাষায়, ‘আমি আশা করি, তারা মোহন ভাগবতের পরামর্শ শুনবেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন।’তিনি আরও বলেন, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই আরএসএসের আদর্শিক দিকনির্দেশনাকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। ফলে সংঘপ্রধানের এমন বক্তব্য উপেক্ষা করা হলে সেটি শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই হবে না, বরং আরএসএসের পরামর্শ অগ্রাহ্য করারও শামিল হবে।অভিজিৎ দীপকের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিভিন্ন আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠোর হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, তরুণদের প্রশ্ন তোলা বা ভিন্নমত প্রকাশকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখার প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক নয়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোহন ভাগবতের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শিক্ষাঙ্গন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদের অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভাগবতের বক্তব্যে তরুণদের প্রতি আরও ইতিবাচক ও সংলাপভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান রয়েছে। অন্যদিকে অভিজিৎ দীপকের প্রতিক্রিয়া বিষয়টিকে সরাসরি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এর ফলে আরএসএস ও বিজেপির সম্পর্ক এবং আদর্শিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।যদিও অভিজিৎ দীপকের বক্তব্যের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তরুণদের নিয়ে সরকারের অবস্থান ও রাজনৈতিক ভাষার ব্যবহার নিয়ে আগামী দিনগুলোতে বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।