শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ৪ হাজার ৫০০-রও বেশি ভিন্নমতাবলম্বী বা রাজনৈতিক কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ের প্রসঙ্গ তুলে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ দেখিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে—এমন কোনো অভিযোগও তাঁরা পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সংবিধান আমাদের পথ দেখানোর মূল ভিত্তি। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৭৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের শুরুতে লেখা হয়েছিল ‘উই, দ্য পিপল অব আমেরিকা’। আর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানেও লেখা হয়েছে ‘উই, দ্য পিপল অব বাংলাদেশ’। তাঁর মতে, দুই সংবিধানের মধ্যে এটি একটি মিল। মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূল ভিত্তি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা। স্বাধীনতার মধ্যে মতপ্রকাশ, সমাবেশ, চলাচল ও সংগঠনের স্বাধীনতাও রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানও কিছু মৌলিক ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারণার মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ১৮০৩ সালে মারবারি বনাম ম্যাডিসন মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক পর্যালোচনার নীতি প্রয়োগ করে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনেও সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনো কখনো এ এখতিয়ার অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগও হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের আগে জন লক, টমাস হবস ও মন্টেস্কুর রাজনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা ও সেগুলো অনুসরণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এসব তত্ত্বের প্রভাব রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও তীব্র আলোচনা ছিল। সংবিধান নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়েও শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও আলোচনা হয়। সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী ও প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের এই আলোচনা তাঁদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখন প্রয়োজনের মধ্যে থাকে তখন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পাশে থাকা, কর্তৃত্ববাদিতার বিরুদ্ধে অবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকানোর বিরুদ্ধে কথা বলা —এসব বিষয় তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। একই সঙ্গে সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার পক্ষেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন করেছে। আইনের কিছু ধারা নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইনে ‘ওএফসিএটি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের বাছাই কমিটিতে প্রেসক্লাব ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের বিধান রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্যান্য কিছু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বাছাই প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ধরনের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। এখানে বাছাই কমিটির প্রধান হিসেবে স্পিকার থাকছেন এবং বিরোধী দলের নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সুশাসন বর্তমান সময়ে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে অর্থনীতি ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এসব অপরাধের বিচার সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘কোনো ব্যক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়, আমাদের লক্ষ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করা’—বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক নির্বাহীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং এসব প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হবে বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও মতপার্থক্য ছিল। তাঁর মতে, সংবিধানের শক্তি সবাই সব বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়; বরং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি টেকসই কাঠামো তৈরি করতে পারার মধ্যে। তিনি ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সংশোধনের সুযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের স্থায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইরানের পরমাণু সংকট মিটলে জ্বালানি দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান হলে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এ কথা বলেছেন। রাইট মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা দেশের বাইরে থেকে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারি।’ লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ক্রিস রাইটের এই প্রস্তাব ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, ইরানের এই কর্মসূচির লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা। তবে ইরান বারবার বলে আসছে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি। রাইট বলেন, ‘তারা আবারও জাতিগুলোর সম্প্রদায়ের অংশ হতে পারে এবং তাদের জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসতে পারে।’ এদিকে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ‘নির্ণায়ক হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছর ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে ‘নির্মাণকাজে স্পষ্টভাবে বড় ধরনের বৃদ্ধি’ শনাক্ত হওয়ার পর এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সটি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে ‘অনেক বেশি হারে বোমা হামলার’ মুখে পড়তে হবে এবং দেশটি ‘কখনোই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’ এ সময় পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন ট্রাম্প। ওই এলাকায় তৎপরতা ও চলাচল শনাক্ত হওয়ার পর তিনি এই হুমকি দেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকাটি নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছেই অবস্থিত।

ইরানের পরমাণু সংকট মিটলে জ্বালানি দেবে যুক্তরাষ্ট্র

‘ডলার-ফর-ডলার’ পাল্টা জবাব দিল কানাডা

আরও তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের জবাবে কানাডা মার্কিন পণ্যে ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (১৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৭ শতাধিক পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার কানাডার সরকার জানিয়েছে, কানাডাও নতুন মার্কিন শুল্কের সমপরিমাণ অর্থাৎ ‘ডলার-ফর-ডলার’ অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত এক ডলার শুল্কের বিপরীতে সমানহারে শুল্ক আরোপ করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোকে সহায়তা দিতে নতুন আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। কানাডা সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন পাল্টা শুল্ক ৭০০ টিরও বেশি পণ্যের ওপর কার্যকর হবে। এর আওতায় থাকবে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও কাগজ, প্লাস্টিক এবং ইলেকট্রনিকস খাত। এসব পণ্যে শুল্কের হার হবে ১৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। এ ছাড়া কানাডা ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে নতুন শুল্কের কারণে তৈরি আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করতে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বা ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল ঘোষণা করেছে। কানাডার নতুন পাল্টা শুল্কের ঘোষণা এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর। ওই শুল্কের আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্য পড়েছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছিল। গত সোমবার ট্রাম্প কানাডার গাড়ির ওপরও নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন। এর ফলে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বিদ্যমান শুল্ক দ্বিগুণ হয়ে ৫০ শতাংশ হবে। এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প কানাডাকে নিয়ে একাধিক কটূক্তিও করেছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, অন্টারিও প্রদেশের সীমানায় অবস্থিত উত্তর আমেরিকার বৃহৎ হ্রদগুলোর পূর্বতম হ্রদ লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। ট্রাম্প কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ‘গভর্নর কার্নি’ বলেও উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১ তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে যুক্ত করার দীর্ঘদিনের মন্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, গত এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর কানাডার কাছে ৬০ বিলিয়ন ডলার করে হারিয়েছে। তবে কানাডার সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার ৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বা ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আল জাজিরা। তবে হোয়াইট হাউস কোনো জবাব দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের প্রভাব দেশটির ব্যবসা ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার আরোপ করা শুল্ক থেকে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ বাদ রাখা হয়েছিল। তবে এই খাতই ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি গাড়ির সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ফলে কানাডার চাহিদা কমে গেলে কানাডার বাজারের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন গাড়ি নির্মাতারা চাপের মুখে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে কানাডা থেকে আমদানি করা ৫৫০ ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য বেড়ে যেতে পারে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে আইস স্কেট, টয়লেট পেপার, কিছু অ্যালকোহলজাত পানীয় এবং রং। জার্মানির কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শুল্কের প্রভাব মার্কিন নাগরিকদের ওপর উল্লেখযোগ্য হতে পারে। অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, শুল্কের মোট বোঝার ৯৬ শতাংশ শেষ পর্যন্ত মার্কিন আমদানিকারক ও ভোক্তারাই বহন করেন। এদিকে, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সোনার দাম মঙ্গলবার দিনের শুরুতে প্রায় ১ শতাংশ কমে যাওয়ার পর আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে দিন শেষে এর দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। প্রতি আউন্স সোনার দাম ০ দশমিক ০৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৯৬ ডলারে দাঁড়ায়। মার্কিন ডলারের অবস্থানও মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। মঙ্গলবার ডলার সূচক ০ দশমিক ০৪ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৯৬-এ নেমেছে। বিপরীতে কানাডিয়ান ডলার সূচক ০ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে ৭২ দশমিক ২৭-এ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে নাসডাক ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ছিল প্রায় অপরিবর্তিত। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ। কানাডার টরন্টোতে এসঅ্যান্ডপি/টিএসএক্স কম্পোজিট সূচক বেড়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ। কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অর্থনীতি গভীরভাবে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই বাণিজ্যযুদ্ধের চাপ শুধু দুই দেশের ব্যবসা নয়, শেষ পর্যন্ত ভোক্তা, গাড়ি শিল্প, কৃষি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যের বাজারেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

‘ডলার-ফর-ডলার’ পাল্টা জবাব দিল কানাডা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream